Sunday, February 28, 2021

Post # 1033 Bengali Amarchitra Katha 198

                                                              ডাউনলোড করুন

 

মানুষের গায়ের জোর,মনের জোর ,বীরত্ব,পৌরুষ খুব ই ভাল । একজন মানুষের এসব থাকাই উচিত । কিন্তু তা নিয়ে স্পর্ধা করার আত্মতৃপ্তির আগুনে ভোগার কোন মানেই হয়না , মানুষকে জানতে হবে এসব শক্তি সে অর্জন করেছে কিসের জন্য ? স্পর্ধা করার জন্য ? নাকি তার বীরত্ব ও পৌরুষের অন্য অর্থ আছে, তার অন্য কাজ আছে  ?

আশা করাযায় এখানের তিনটি গল্পের মাধ্যমে সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে । তবে মহাভারত তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও এই গল্পটি পাওয়া যাবেনা,তবে কোথাও তো আছে এমন এক মজার গল্প, আছে দক্ষিণ ভারতের লোক সাহিত্যে ।

অর্জুনকে নিয়ে এখানে মোট তিনটি গল্প আছে এই বইতে ।  




 

Friday, February 26, 2021

Post # 1032 Bengali Amarchitra Katha 197

                                                             ডাউনলোড করুন

 

রূপকথার গল্প যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে ...তাই হয়ত এই গল্প গুলি চির সজীব, জিবন্ত হয়ে আছে এখনো, গল্প শুনতেও ভালবাসে সকলে , বিশেষ করে ছোটরা...

ছোট্ট মেয়েটি থাকতে ঠাকুমা তাঁর ঠাকুমার কাছ থেকে যে গল্প শুনেছিলেন তিনি তা তাঁর নাতি নাতনিদের নিজের মতো করে বলতে ভালবাসতেন । বহু দূর দেশ ভ্রমন কালে কোন পথিক তাঁর যাত্রাপথে কোনও কাহিনী শুনে পরে যখন সেগুলি কারো কাছে বলতেন তখন দরকার মতো স্থান কাল পাত্র অদল বদল করে নেন । এই ভাবে গল্প পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে ছড়িয়ে পড়েছে অন্য প্রান্তে... বলা বাহুল্য ,  আর এই কারনেই ঈশপ ও পঞ্চতন্ত্র প্রনেতা বিষ্ণুশর্মার কাহিনী মধ্যে অনেক রকম মিল দেখতে পাওয়া যায় ।

বাংলায় দুটি জনপ্রিয় প্রাচীন রূপকথা এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে ।





 

Wednesday, February 24, 2021

Post # 1031 Bengali Amarchitra Katha 188

                                                                   ডাউনলোড করুন

 

 

 আজ আঙ্কেল পাইয়ের দশম মৃত্যু বার্ষিকী... শ্রদ্ধা জানাই অমর চিত্র কথার জনক কে ।



Born17 September 1929
Karkala, Madras Presidency, British India (Currently in Karkala, Karnataka)
 
 
 
Died24 February 2011 (aged 81)
Mumbai, Maharashtra, India


 

ভীমরাও রামজি আম্বেডকর ১৪ই এপ্রিল ১৮৯১ - ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬, যিনি বাবাসাহেব আম্বেদকর নামেও পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় ব্যবহারশাস্ত্রজ্ঞ (জ্যুরিস্ট), রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক, সুবক্তা, বিশিষ্ট লেখক, অর্থনীতিবিদ, পণ্ডিত, সম্পাদক, রাষ্ট্রবিপ্লবীবৌদ্ধ পুনর্জাগরণবাদী। তিনি বাবাসাহেব নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ভারতের সংবিধানের খসড়া কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতের দলিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। ইনি ভারতের সংবিধানের মুখ্য রচয়িতা । ২০১২ সালে হিস্ট্রি টি. ভি.১৮ আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয়দের ভোটের দ্বারা তিনি "শ্রেষ্ঠ ভারতীয়"ও নির্বাচিত হন।

 ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দিন, নব্য গঠিত কংগ্রেসশাসিত সরকার আম্বেদকরকে জাতির প্রথম আইন মন্ত্রী পদ অর্পণ করেন, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। ২৯ই আগস্ট, আম্বেদকরকে সংবিধান খসড়া সমিতির সভাপতি করা হয়, যা স্বাধীন ভারতের নতুন সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বিধানসভা কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। আম্বেদকর তার সহকর্মী ও সমসাময়িক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এই কাজে আম্বেদকর প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মে সঙ্ঘের-চর্চা নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থে অধিক পড়াশোনাই অনেক সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিলো। ব্যালটের দ্বারা ভোট প্রদান, তর্ক-বিতর্কের ও অগ্রবর্তী নীতিমালা, করণীয় বিষয়সূচী, সভা-সমিতি ও ব্যবসায় সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সমূহের ব্যবহার ইত্যাদি সংঘ চর্চা দ্বারা সমন্বয় সাধিত হয়। সংঘ চর্চা প্রাচীন ভারতের কিছু রাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক উপজাতিগোষ্ঠী যেমন শাক্যবংশ (Shakyas) ও লিচ্ছবিররা (Lichchavis) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর আম্বেদকর যদিও তার সাংবিধানিক অবয়ব তৈরিতে পশ্চিমা প্রণালীর ব্যবহার করেন, বস্তুত এর অনুপ্রেরণা ছিলো ভারতীয়, বাস্তবিকপক্ষে উপজাতীয়।
গ্রানভিলে অস্টিন আম্বেদকর কর্তৃক প্রণীত ভারতীয় সংবিধান খসড়াকে বর্ণনা দেন এভাবে “একনিষ্ঠ ও সর্বোত্তম সামাজিক নথি পত্র।”... 'অধিকাংশ ভারতের সংবিধানের অধিকাংশ অনুচ্ছেদ স সামাজিক বিপ্লব এবং সামাজিক বিপ্লব পরিপোষণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। " আম্বেদকর কর্তৃক প্রণীত ভারতীয় সংবিধানে সর্বাধিক অধিকারসুরক্ষা জনসাধারণের প্রতি প্রদান করা হয়েছে -যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা, অস্পৃশ্যতা বিলোপ এবং সব ধরনের বৈষম্য বিধিবহির্ভূতকরণ। আম্বেদকর নারীদের অধিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের জন্য যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি এতে বিধানসভার সমর্থন অর্জন করে সিডিউল কাস্টেসভুক্ত নারী সদস্যদের বা সিডিউল উপজাতীয়দের জন্য বেসরকারি খাতে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় কর্মক্ষেত্রে চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করে কোটার ব্যবস্থা করেন। ভারতের আইন প্রণেতারা আশা করেন এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক বিভাজন দূর হবে ও ভারতীয় অস্পৃশ্যরা অধিক সুযোগ-সুবিধা পাবে।
১৯৪৯ সালের ২৬ই নভেম্বর গণ-পরিষদ কর্তৃক সংবিধানটি গৃহীত হয়। আম্বেদকর ১৯৫১ সালে হিন্দু কোড বিল খসড়াটি সংসদে পড়ে থাকার কারণে।(stalling in parliament) রাখার কারণে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। হিন্দু কোড পৈতৃক সম্পত্তি, বিবাহ ও অর্থনীতি আইনের আওতায় লিঙ্গসমতার নীতি প্রতিষ্ঠা করে। প্রধানমন্ত্রী নেহেরু, মন্ত্রিসভা ও অনেক কংগ্রেস নেতারা একে সমর্থন জানালেও বেশিরভাগ সাংসদ এর সমালোচনা করেন। আম্বেদকর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৯৫২'র নির্বাচনে লোকসভায় (lower house of parliament) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু হেরে যান। তাকে পরে রাজ্যসভার সাংসদ পদে সমাসীন করা হয়। ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি এই সদস্যপদে বহাল ছিলেন।

বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ

নৃতত্ত্বের ছাত্র হিসেবে আম্বেদকর আবিষ্কার করেন মহরেরা আসলে প্রাচীন ভারতীয় বৌদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাদেরকে গ্রামের বাইরে সমাজচ্যুতদের ন্যায় থাকতে বাধ্য করা হলো, অবশেষে তারাই অস্পৃশ্যতে পরিণত হয়েছিলো। তিনি এই ব্যাপারে তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ বই কারা শূদ্র ছিল? তে বর্ণনা দেন।

দীক্ষাভূমি, একটি স্তূপ যেখানে আম্বেদকর তাঁর অন্য অনুসারীদের সাথে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন


আম্বেদকর সারাজীবন ধরেই বৌদ্ধ ধর্ম অধ্যয়ন করেন, ১৯৫০ এর সময়ে তিনি এই ধর্মে তার সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন এবং শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেন (তারপর শিলং) বৌদ্ধ পণ্ডিতদ ও ভিক্ষুদের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে। যখন তিনি পুনের কাছাকাছি একটি নতুন বৌদ্ধ মন্দির অর্পণ করেন, তখন আম্বেদকর ঘোষণা দেন যে, তিনি বৌদ্ধ ধর্মের উপর একটি বই লিখেছেন, যত শীঘ্রই তিনি বইটি শেষ করবেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্ম গ্রহণ করবেন। আম্বেদকর ১৯৫৪ সালে দু'বার বার্মা সফর করেন, দ্বিতীয় সফরের উদ্দেশ্য ছিল রেঙ্গুনের বিশ্ব ৩য় বৌদ্ধ শিক্ষাবৃত্তি সম্মেলনে যোগদান করা । ১৯৫৫ সালে তিনি ভারতীয় বৌদ্ধ মহাসভা (দ্য বুড্ডিস্ট সোসাইটি অব ইন্ডিয়া) গঠন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি তার সর্বশেষ বই বুদ্ধ ও তাঁর ধর্ম” (The Buddha and His Dhamma)-এর কাজ শেষ করেন, যেটি তার মৃত্যুর পর ছাপানো হয়।
শ্রীলঙ্কার জনৈক ভিক্ষু হামমালা সাদ্ধ্যতিষ্যের সাথে সাক্ষাতের পর,আম্বেদকর নিজের ও অনুসারীদের জন্য নাগপুরে ১৪ই অক্টোবর ১৯৫৬ সালে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ঐতিহ্যবাহী প্রথায় বৌদ্ধ ভিক্ষুর কাছ থেকে ত্রিশরণ (Three Refuges) ও পঞ্চশীল (Five Precepts) গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তার ধর্মান্তরিতের কাজ সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি তার সহযোগীদের (সংখ্যায় ৫ লাখের মতো) যারা তার পাশে ছিলেন, সবাইকে তিনি ধর্মান্তরিত করান। তারপর তিনি নেপালের কাঠমান্ডুতে ৪র্থ বিশ্ব বৌদ্ধ সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি “বুদ্ধকার্ল মার্ক্স” এবং “বিপ্লব ও বিপ্লব-বিরোধী প্রাচীন ভারত” সম্পর্কিত রচনা প্রকাশ করেন যা তার বই বুদ্ধ ও তাঁর ধর্ম বুঝতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে, যা তিনি শেষ করে যেতে পারেন নি।

মৃত্যু

পুনের আম্বেদকর জাদুঘরে একটি আবক্ষ-প্রস্তর মূর্তি

১৯৪৮ সাল থেকে আম্বেদকর ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবনতির জন্য ১৯৫৪ সালে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন ও একপর্যায়ে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন ।রাজনৈতিক কারণে তিনি ক্রমশ অনেক তিক্তবিরক্ত হয়ে উঠেন, যা তার স্বাস্থ্যের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫৫ সালের পুরোটা জুড়ে তিনি প্রচুর কাজ করার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অধিকতর অবনতি হয়। টানা তিন দিন “বুদ্ধ ও তাঁর ধর্ম” বইটির সর্বশেষ পাণ্ডুলিপি তৈরির পর তিনি ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে তার দিল্লীর নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় চির নিদ্রায় শায়িত হন।

৭ই ডিসেম্বর তার জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় আদলে দাদারচৌপাট্টি সমুদ্র সৈকতে একটি শবদাহ নির্মিত হয়। হাজারো অনুসারী, কর্মীবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন। ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে একটি ধর্মান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যারা শবদাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তারা একই স্থানে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

আম্বেদকরের দ্বিতীয় স্ত্রী সভিতা আম্বেদকর (বিবাহ পূর্ব নামঃ সার্দা কবির। স্বামীর সাথে তিনিও বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে বৌদ্ধ হিসেবেই মারা যান। উনার পুত্র ইশান্ত (অন্য নাম ভাইয়াসাহেব আম্বেদকর) ও তার পুত্রবধূ মীরা তাই আম্বেদকর। আম্বেদকরের নাতি প্রকাশ যিনি ইন্ডিয়ান বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশান এর জাতীয় সভাপতি। ভারতীয় "বাহুযান মহাসঙ্ঘ"এর নেতৃত্ব দানকারী এবং ভারতীয় লোকসভার উভয় কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ।

আম্বেদকরের ব্যক্তিগত মন্তব্য খাতায় ও কাগজে বহু অসমাপ্ত মুদ্রলিখন (টাইপস্ক্রিপ্টস) ও হাতে লেখা খসড়া পাওয়া যায়, পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে তা প্রকাশিত হয়েছিলো। যার মধ্যে ছিলো “ওয়েটিং ফর অ্যা ভিসা”, যার সম্ভাব্য লিখিত সময় ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৬ এর মাঝামাঝি এবং একটি আত্মজীবনচরিত (Autobiographical work) ও “অস্পৃশ্য বা ভারতের ঘেটো শিশুরা” যেটি ১৯৫১'র আদমশুমার হিসেবে বিবেচিত।[১৪]

আম্বেদকরের জন্য তার দিল্লির ২৬ আলীপুর রােডের বাসভবনে একটি স্মারক স্থাপিত হয়। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে আম্বেদকর জয়ন্তী বা ভীম জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। তাকে ১৯৯০ সালে মরণোত্তর পুরস্কার হিসেবে ভারতের সর্বোচ্চ উপাধি ভারত রত্ন দেয়া হয়েছিল। তার সম্মানে বহু সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়, যেম-ন হায়দ্রাবাদের ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর ওপেন ইউনিভার্সিটি, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম ডঃ বিআর আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি, মুজাফ্‌ফরপুরের বি আর আম্বেদকর বিহার ইউনিভার্সিটি এবং জলন্ধরের বি আর আম্বেদকর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ও নাগপুরের ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শোনগাঁও বিমানবন্দর। ভারতের সংসদ ভবনে আম্বেদকরের একটি বিশাল প্রতিকৃতি প্রদর্শিত আছে।

নাগপুরে তার জন্ম (১৪ই এপ্রিল) ও মৃত্যুবার্ষিকীতে (৬ই ডিসেম্বর) ও ধর্মচক্র প্রবর্তন দিন (১৪ই অক্টোবর), মুম্বাইয়ে কমপক্ষে ৫লাখ অনুসারীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। হাজারো বইয়ের দোকান বসে, বিক্রি হয় এই দিন। তার অনুসারীদের প্রতি বার্তা ছিলঃ “শিক্ষিত হও!!! আন্দোলন কর!!! সংগঠিত হও!!!”

তথ্য সূত্র   https://bn.wikipedia.org/wiki/

ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেডকর, একজন জ্যুরিস্ট, রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, ...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/gallery/life/dr-br-ambedkar-the-founder-of-modern-indian-made-these-10-remarkable-statements-q8rm1e#image1
ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেডকর, একজন জ্যুরিস্ট, রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, ...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/gallery/life/dr-br-ambedkar-the-founder-of-modern-indian-made-these-10-remarkable-statements-q8rm1e#image1
ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেডকর, একজন জ্যুরিস্ট, রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, ...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/gallery/life/dr-br-ambedkar-the-founder-of-modern-indian-made-these-10-remarkable-statements-q8rm1e#image1





 

Friday, February 19, 2021

Post # 1030 Bengali Amarchitra Katha 187

                                                                    ডাউনলোড করুন

 

এই বইটি যখন আমি প্রথম পড়েছিলাম তখন হয়তো আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি ...এই বইটি থেকে প্রথম শিক্ষণীয় ছিল নারীর সন্মান রক্ষা... মকবুল খাঁ কে গুলি করে মারার দৃশ্য টি দেখে কিছুটা অনুভব করতে পেরেছিলাম ব্যাপার তি...আমার শিশু বয়সের নায়ক দের মধ্যে বেতাল বা ম্যানড্রেকের মতোই টিপু ও ছিল একজন নায়ক ।

টিপু সুলতান ( বা ফতেহ আলী সাহাব টিপু জন্ম: ২০ নভেম্বর, ১৭৫০- মৃত্যু: ৪ মে, ১৭৯৯) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা। তিনি একজন বীর যোদ্ধা ছিলেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি বীরত্ব সহকারে যুদ্ধ করেন। তিনি তার শৌর্যবীর্যের কারণে শের-ই-মহীশূর (মহীশূরের বাঘ) নামে পরিচিত ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতাকামীতার জন্য তাকে ভারতের বীরপুত্র বলা হয়। তিনি বিশ্বের প্রথম রকেট আর্টিলারি এবং বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করেছিল।তিনি তাঁর শাসনকালে বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক উদ্ভাবন চালু করেছিলেনএকটি নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা এবং ক্যালেন্ডার সহ। পাশাপাশি একটি নতুন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা যা মহীশূরের রেশম শিল্পের বিকাশের সূচনা করেছিল।

দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসক ছিলেন টিপু সুলতান ৷ পিতা হায়দার আলী মহীশূর রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন ৷ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তার মিত্র ছিল এবং ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে সাহায্য করেছিল। শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে কাবেরী নদীর একটি ব-দ্বীপে নির্মিত একটি দুর্গ থেকে রাজ্য শাসন করতেন৷ বর্তমানে শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রাম দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মান্ডিয়া জেলার অন্তর্গত৷ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সঙ্গে যুদ্ধে ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে নিহত হন। টিপুর এক সেনাপতি মীর সাদিক বিশ্বাসঘাতকতা করে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মেলান৷ পরে তার পরিবারের লোকজনকে ভেলোরের দুর্গে বন্দী করে রাখে ব্রিটিশ শাসকরা৷ জানা যায়, ভেলোরে রাজ পরিবারের সদস্যদের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করার পর ১৮০৬ সালে একটি বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। সেই বিদ্রোহে ভেতর এবং বাহিরের প্রচন্ড আক্রমণে শতাধিক ইংরেজ সৈন্য সেদিন নিহত হয়। এমন ঘটনা ইংরেজদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার করে। পরবর্তীতে মাদ্রাজ এবং আশ পাশের সৈন্য নিয়ে তারা আবার দুর্গটি দখল করে নেয়। ইংরেজরা ওই সময় ব্যাপক হত্যাকান্ড চালায়। প্রতিশোধের নেশায় প্রায় ছয় শতাধিক মানুষকে তারা হত্যা করে বলে জানা যায়। ইংরেজরা এই হামলার জন্য টিপুর পরিবার এবং রাজপুত্রদের সন্দেহ করে। কিন্তু বিদ্রোহে তাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা উপস্থাপন করতে পারেনি। পরবর্তীতে টিপু সুলতানের পরিবারের একটি বড় অংশকে কলকাতা পাঠিয়ে দেওয়া হয় আর যাদের সন্দেহ করা হয়নি তাদের ভেলোরে রেখে দেওয়া হয়। এখানে যারা নিহত ও মারা যায় তাদেরকে দুর্গ থেকে দুই কিমি দূরের এই টিপু সুলতান গ্রান্ড মসজিদ এর প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। কলকাতা নিয়ে যাওয়ার সময় টিপু সুলতানের সর্ব কনিষ্ট পুত্র শাহজাদা ওয়াহিদ উল্লাহ সুলতান ঐখান থেকে পালিয়ে বর্তমান বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জে পরিচয় গোপন করে ওয়াহিদ উল্লাহ নামে সেখানে আশ্রয় নেন ।এভাবেই হত্যা, রক্ত আর বিভক্তর ক্ষত নিয়ে টিপু সুলতানের বংশধরেরা ধুঁকে ধুঁকে নিঃশেষ হয়ে ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়।

 

টিপু সুলতানকে ডাকা হতো শের-ই-মহীশূর; উপাধিটা ইংরেজদেরই দেয়া। তার এই বাঘ (শের) হয়ে ওঠার পিছনে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কিত ছিলো। মূল কারণ ছিলো তার অসাধারণ ক্ষীপ্রতা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা - বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন টিপু সুলতান। বাবা হায়দার, ১৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে টিপু নামে এক ফকিরের দোয়ায় এক পুত্রসন্তান লাভ করেন এবং আনন্দচিত্তে ঐ ফকিরের নামেই ছেলের নাম রাখেন "টিপু"। মহীশূরের স্থানীয় ভাষায় (কানাড়ী ভাষা) 'টিপু' শব্দের অর্থ হলো বাঘ। হয়তো তাকে 'শের-ই-মহীশূর' ডাকার পিছনে এটাও একটা কারণ ছিলো।

ছোটবেলা থেকেই টিপু, বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। বাবাই তাকে বাঘের গল্প শোনাতেন। কিশোর বয়সে টিপু সুলতান বাঘ পুষতে শুরু করেন। বাঘ নিয়ে তার ব্যঘ্রতার শেষ ছিলো না। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করলেন, তখন বাবার পুরোন সিংহাসনটি তিনি ঠিক পছন্দ করলেন না। তাই তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কারিগর দিয়ে কাঠের ফ্রেমের উপর সোনার পাত বসিয়ে তার উপর মণিমুক্তা ও রত্নখচিত একটি সিংহাসন বানিয়ে নিলেন, যাকে বরং "ব্যাঘ্রাসন"ই (Tiger throne) বলা যায়। কারণ আট কোণা ঐ আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিলো একটি বাঘের মূর্তি। ৮ ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিলো সম্পূর্ণ স্বর্ণে তৈরি দশটি বাঘের মাথা, আর উপরে উঠার জন্য ছিলো দুধারে, রূপার তৈরি সিঁড়ি। আর পুরো ব্যাঘ্রাসনটাই ছিলো বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা।

টিপু সুলতানের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন পন্ডিত পুরণাইয়া।টিপু সুলতান সামরিক তালিম নেন সরদার গাজী খান এর কাছ থেকে।টিপু সুলতান ছিলেন বহুভাষায় পারদর্শী

টিপু সুলতানের রাজ্যের প্রতীক ছিলো বাঘ। এই বাঘ ছিলো তাঁর অনুপ্রেরণার মতো। তাঁর রাজ্যের পতাকায় কানাড়ী ভাষায় লেখা ছিলো "বাঘই ঈশ্বর"। তিনি সিংহাসনে বসে মাঝে মাঝেই বলতেন:

তাঁল সমস্ত পরিধেয় পোষাক ছিলো হলুদ-কালো রঙে ছাপানো আর বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন, তার গায়েও ছিলো ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিলো খোদাই করা বাঘের মূর্তি। তার ব্যবহৃত রুমালও ছিলো বাঘের মতো ডোরাকাটা। তার রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোষাকে থাকতো বাঘের ছবি। সৈন্যদের ব্যবহার্য তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নল, কুদো, হ্যামারেও আঁকা থাকতো বিভিন্ন আকারের বাঘের প্রতিরূপ কিংবা মূর্তি। এমনকি তিনি তার রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে, বাড়ির মালিকদেরকে বাড়ির দেয়ালে বাঘের ছবি আঁকার নির্দেশ জারি করেছিলেন। তখনও তার বাঘ পোষার বাতিক যায়নি এবং রাজবাড়িতে বেশ কয়েকটি পোষা বাঘ ছিলো। তার কয়েকটি আবার তার ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকতো।


টিপু সুলতান

১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর ও তার বাহিনীর কাছে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধে টিপু ও তার বাবা মারাত্মক নাজেহাল হন এবং টিপুর রাজ্যে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়, নিহত হয় অনেক সৈন্য। এমনিতেই তিনি প্রচন্ড ইংরেজ বিরোধী ছিলেন, তদুপরি এই পরাজয়ে তিনি আরো বেশি তেজদীপ্ত হয়ে ওঠেন। ঘটনাক্রমে ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে হেক্টর মুনরোর একমাত্র পুত্রসুন্দরবনের সাগর দ্বীপে বাঘ শিকার করতে গিয়ে বাঘ আক্রমণে নিহত হয়। এই সংবাদ পেয়ে টিপুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি এই ধারণা কাজে লাগিয়ে একটি বিচিত্র খেলনা বানিয়েছিলেন, যা সারা দুনিয়ায় "টিপু'স টাইগার" (Tipu's Tiger) নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। ফরাসি যন্ত্রকুশলীদের দ্বারা নির্মিত প্রমাণ আকারের এই খেলনাটিতে ক্লকওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছিলো। খেলনায় দম দিয়ে ছেড়ে দিলে এর সাথে লাগানো একটি অর্গান পাইপ থেকে রক্ত হীম করা বাঘের প্রচণ্ড গর্জন, আর এক ইংরেজের প্রচণ্ড গোঙানির আওয়াজ বের হতো। পুরো খেলনাটি ছিলো এরকম: একজন ইংরেজ একটি বাঘের থাবার মধ্যে অসহায়ভাবে পড়ে গোঙাচ্ছে আর একটা বাঘ প্রচন্ড আওয়াজ করে সেই ইংরেজের বুকের উপর চেপে গলা কামড়ে ধরতো। তখন ইংরেজটি তার হাত উঠিয়ে চেষ্টা করতো বাঘের মাথাটি এদিক-ওদিক সরিয়ে দিতে। ভিতরকার অর্গান থেকে আরো বেরিয়ে আসতো মহীশূর সুলতানের প্রিয় গজলের সুর। "টিপু'স টাইগার" বানানোর পিছনে একদিকে যেমন ছিলো তার ইংরেজদের প্রতি উষ্মা, তেমনি অন্যদিকে ছিলো প্রচন্ড ব্যঘ্রপ্রীতি। সময় পেলেই তিনি বাঘটিতে দম দিতেন; কখনও কখনও রাতের পর রাত একই জিনিস দেখে গায়ের জ্বালা মেটাতেন।

পরিবার

টিপু সুলতানের ৪ জন স্ত্রী, ১৫ জন পুত্র এবং কমপক্ষে ৮ জন কন্যা সন্তান ছিল। কন্যাদের পরিচিতি অজানাই রয়ে যায়। ১৮০৬ সালে বিদ্রোহের পর যখন টিপু সুলতানের পরিবার কে ভেলোর থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয় তখন তার সর্ব কনিষ্ট পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ সুলতান সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন পরে বর্তমান বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জে এসে পরিচয় গোপন করে আশ্রয় নেন । 

 wikipedia.org





 

Thursday, February 18, 2021

Post # 1029 Bengali Amarchitra Katha 176

                                                                              ডাউনলোড করুন

মা দুর্গা দূর কৈলাশ ছেড়ে পিতৃগৃহে আসবেন নৌকায়। সনাতন বিশ্বাসে ‘শস্যবৃদ্ধিস্থাজলম’, অর্থ—অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে একদিকে প্লাবন হবে, অন্যদিকে শস্য বাড়বে। দেবী প্রস্থান করবেন ঘোটকে। মা দেবীদুর্গার আশীর্বাদে শ্রীরামচন্দ্র রাক্ষসরাজ রাবণকে পরাজিত করার পর সীতাকে উদ্ধার করলেন, সেই থেকে শরৎকালে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। দুর্গা হচ্ছেন তিনি, যিনি জীবের তথা দেবতাদের দুর্গতি নাশ করেন, আবার দুর্গম অসুরকে বধ করেন।

শরৎকালে অর্থাৎ দক্ষিণায়নে সব দেব-দেবীর মতো দেবীদুর্গা বিষ্ণুমায়া নিদ্রিত থাকেন। শারদীয় দুর্গাপূজায় বোধন হচ্ছে নিদ্রিত দেবীকে জাগ্রত করা। শরৎকালে অকাল বোধনের দ্বারা দেবীকে জাগ্রত করা হয় বলে দুর্গার অপর নাম শারদীয়া। শরৎকালে এই দুর্গাপূজা হয়, তাই তাকে শারদীয় দুর্গাপূজা বলা হয়।

চণ্ডীর বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্গম নামক অসুরকে বধ করায় দেবী মায়ের নাম হয়েছে দুর্গা। দুর্গম অসুরের কাজ ছিল জীবকে দুর্গতিতে ফেলা। দুর্গমকে বধ করে যিনি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত দেবগণকে হৃতরাজ্যে ফিরিয়ে দেন এবং দুর্গতির হাত থেকে জীবকে রক্ষা করেন, তিনিই মা দুর্গা। দেবীর ডানে লক্ষ্মী ও গণেশ, বামে সরস্বতী ও কার্তিক। দুর্গা শব্দের অর্থ যিনি জীবের দুর্গতি হনন করেন। আরেকটি অর্থ দুর্জয়া।

 রাজ্যভ্রষ্ট রাজা যুধিষ্ঠির বিপদ থেকে মুক্তিলাভ করার জন্য মা দুর্গার আরাধনা করেছিলেন বলে মহাভারতের বিরাট পর্বের ২৪ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে। দুর্গা শক্তিদায়িনী। যুগে যুগে বিভিন্ন সংকটের সময় তিনি মর্ত্যধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন নামে। তিনি তাই আদ্যশক্তি মহামায়া, ব্রহ্মসনাতনী। দুর্গা, মহিষমর্দিনী, শলিনী, পার্বতী, কালিকা, ভারতী, অম্বিকা, গিরিজা, বৈষ্ণবী, কৌমারী, বাহারী, চণ্ডী, লক্ষ্মী, উমা, হৈমবর্তী, কমলা, শিবানী, যোগনিন্দা প্রভৃতি নামে ও রূপে মায়ের পূজা হয়ে থাকে।

ত্রিনয়নী মহাদেবী দুষ্টের দমনে শিষ্টের পালনে আবির্ভূত হন। এ পূজার মূর্তি কল্পনায় ফুটে ওঠে শৌর্য-বীর্য (কার্তিক), জ্ঞানভক্তি (সরস্বতী), সিদ্ধি (গণেশ), সম্পদ (লক্ষ্মী), মানবজীবনের ইহকালের বস্তুলাভ এবং অন্তিমকালে মাতৃক্রোড়ে চির আশ্রয়। আর মায়ের পদতলে মহিষাসুর অশুভ এবং অহংকারের প্রতীক, যা জগতের অমঙ্গলের হেতু। তাকে আবার শাসন করছেন স্বয়ং দেবী, যিনি কল্যাণময়ী বরাভয়দায়িনী হিসেবে জগতের কল্যাণ করে আসছেন।

পূজার ষষ্ঠীতে দেবীর ষষ্ঠাদিকল্প অর্থাৎ আবাহন, বোধন, আমন্ত্রণ, অধিবাস প্রভৃতি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ষষ্ঠীতে সন্ধ্যাকালে দেবীর বোধন হয়। পুরোনো শাস্ত্রমতে, দেবীর বোধন হয় বিল্ববৃক্ষে বা বিল্বশাখায়। অন্যদিকে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিমায় দেবীর অর্চনা করা হয়ে থাকে। পূজার অষ্টমীতে বিশেষ অনুষ্ঠান অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিতে দেবীর বিশেষ পূজা ‘সন্ধিপূজা’। অষ্টমী তিথিতে কুমারী বালিকাকে পূজা করা হয়। দক্ষিণ ভারতে কন্যাকুমারী মন্দিরের কুমারী প্রতিমা পূজা দেবীদুর্গারই ঐতিহ্য বহন করে। ১৯০১ সালের ১৮ অক্টোবর স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজায় কুমারীপূজা করেছিলেন।

কুমারীপূজা মাতৃভাবে ঈশ্বরেরই আরাধনা। কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। দুর্গাজ্ঞানে পূজা করে সবার মধ্যে মাতৃভাবেরই সঞ্চার করা হয়। প্রায় সর্বজাতিয়া কন্যাকেই কুমারীরূপে পূজা করা হয়। তবে স্বত্বগুণসম্পন্না—শান্ত, পবিত্র, সত্যশীলা ও দৈব সম্পদের অধিকারিণী কুমারীকেই জগজ্জননীর প্রতিমারূপে গ্রহণের বিধি আছে। পাখি যেমন একটি ডানায় উড়তে পারে না, সমাজও তেমনি শুধু পুরুষশক্তি দ্বারা চলতে পারে না। কুমারীপূজা নারীকে মূল্যায়নের একটি সর্বোচ্চ শাস্ত্রীয় বিধি।

নবমীতে হোমযজ্ঞের দ্বারা পূজার পূর্ণহূতি দেওয়ার রীতি আছে। দুর্গাপূজায় দশমী তিথিতে হয় দেবীর বিসর্জন। পূজায় দশমী তিথি বিজয়া দশমী নামে খ্যাত। হিন্দুদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই দিনে শ্রীরামচন্দ্র কর্তৃক রাবণ নিহত হয়েছিলেন।

একই কারণে স্বর্গ-মর্ত্যে দুর্দিনে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। সব দেবতার সম্মিলিত তেজ সৃষ্টি করেছিল মহামায়াকে। আবার সেই শক্তিতে বলীয়ান হয়েই দেবী চণ্ডী অশুভকে বিনাশ করে স্বর্গ-মর্ত্যে ন্যায় আর শান্তি প্রতিষ্ঠা করে ধর্মের অন্তর্নিহিত অর্থকেই আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন। প্রতিবছর মা আসেন, ভক্তের পূজা নিয়ে আবার ফিরেও যান কৈলাশে। শরতের কাশবনে যখন ফুলের শুভ্রতা, সনাতন বাঙালিরা তখন প্রস্তুতি নেয় মা দুর্গাকে মর্ত্যে বরণ করার জন্য। মায়ের আগমনে সন্তানের আনন্দ। শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার মূল মন্ত্র হচ্ছে:

‘যা দেবী সর্বভুতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।

যা দেবী সর্বভুতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।

তৈত্তেরীয় আরণ্যকে প্রথম দুর্গা শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে শব্দটা যে একটি প্রাচীন...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/life/the-reality-behind-devi-durga-py2bs3
তৈত্তেরীয় আরণ্যকে প্রথম দুর্গা শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে শব্দটা যে একটি প্রাচীন...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/life/the-reality-behind-devi-durga-py2bs3
তৈত্তেরীয় আরণ্যকে প্রথম দুর্গা শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে শব্দটা যে একটি প্রাচীন...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/life/the-reality-behind-devi-durga-py2bs3

মা দুর্গার ১০৮ নাম


(১) সতী,
(২) সাধ্বী,
(৩) ভবপ্রীতা,
(৪) ভবানী,
(৫)ভবমোচনী,
(৬) আর্য্যা,
(৭) দুর্গা,
(৮) জয়া,
(৯)আদ্যা
(১০) ত্রিনেত্রা,
(১১) শূলধারিণী,
(১২)পিনাকধারিণী,
(১৩) চিত্রা,
(১৪) চন্দ্রঘণ্টা,
(১৫) মহাতপা,
(১৬) মনঃ,
(১৭) বুদ্ধি,
(১৮) অহঙ্কারা,
(১৯) চিত্তরূপা,
(২০) চিতা,
(২১) চিতি,
(২২) সর্বমন্ত্রময়ী,
(২৩) নিত্যা,
(২৪) সত্যানন্দস্বরূপিণী,
(২৫) অনন্তা,
(২৬) ভাবিনী,
(২৭) ভাব্যা,
(২৮) ভব্যা,
(২৯) অভব্যা,
(৩০) সদাগতি,
(৩১) শাম্ভবী, .
(৩২) দেবমাতা, .
(৩৩) চিন্তা, .
(৩৪) রত্নপ্রিয়া, .
(৩৫) সর্ববিদ্যা, .
(৩৬) দক্ষকন্যা, .
(৩৭) দক্ষযজ্ঞবিনাশিনী, .
(৩৮) অপর্ণা, .
(৩৯) অনেকবর্ণা, .
(৪০) পাটলা, .
(৪১) পাটলাবতী, .
(৪২) পট্টাম্বরপরিধানা, .
(৪৩) কলমঞ্জীররঞ্জিনী, .
(৪৪) অমেয়বিক্রমা, .
(৪৫) ক্রূরা, .
(৪৬) সুন্দরী, .
(৪৭) সুরসুন্দরী, .
(৪৮) বনদুর্গা, .
(৪৯) মাতঙ্গী, 

(৫০) মতঙ্গমুনিপূজিতা, .
(৫১) ব্রাহ্মী, .
(৫২) মাহেশ্বরী, .
(৫৩) ঐন্দ্রী, .
(৫৪) কৌমারী, .
(৫৫) বৈষ্ণবী, .
(৫৬) চামুণ্ডা, .
(৫৭) বারাহী, .
(৫৮) লক্ষ্মী, .
(৫৯) পুরুষাকৃতি, .
(৬০) বিমলা, .
(৬১)উত্‍কর্ষিণী, .
(৬২) জ্ঞানা, .
(৬৩) ক্রিয়া, .
(৬৪) সত্যা, .
(৬৫) বুদ্ধিদা, .
(৬৬) বহুলা, .
(৬৭) বহুলপ্রেমা, .
(৬৮) সর্ববাহনবাহনা, .
(৬৯) নিশুম্ভনিশুম্ভহননী, .
(৭০)মহিষাসুরমর্দিনী, .
(৭১) মধুকৈটভহন্ত্রী, .
(৭২) চণ্ডমুণ্ডবিনাশিনী, .
(৭৩) সর্বাসুরবিনাশা, .
(৭৪) সর্বদানবঘাতিনী, .
(৭৫) সর্বশাস্ত্রময়ী, .
(৭৬) সত্যা, .
(৭৭) সর্বাস্ত্রধারিণী, .
(৭৮) অনেকশস্ত্রহস্তা, .
(৭৯) অনেকাস্ত্রধারিণী, .
(৮০) কুমারী, .
(৮১) কন্যা, .
(৮২) কৈশোরী, .
(৮৩) যুবতী, .
(৮৪) যতি, .
(৮৫) অপ্রৌঢ়া, .
(৮৬) প্রৌঢ়া, .
(৮৭) বৃদ্ধমাতা, .
(৮৮) বলপ্রদা, .
(৮৯) মহোদরী, .
(৯০) মুক্তকেশী, .
(৯১) ঘোররূপা, .
(৯২) মহাবলা, .
(৯৩) অগ্নিজ্বালা, .
(৯৪) রৌদ্রমুখী, .
(৯৫) কালরাত্রি, .
(৯৬) তপস্বিনী, .
(৯৭) নারায়ণী, .
(৯৮) ভদ্রকালী, .
(৯৯) বিষ্ণুমায়া, .
(১০০) জলোদরী, .
(১০১) শিবদূতী, .
(১০২) করালী, .
(১০৩) অনন্তা, .
(১০৪) পরমেশ্বরী, .
(১০৫) কাত্যায়নী, .
(১০৬) সাবিত্রী, .
(১০৭) প্রত্যক্ষা এবং .
(১০৮) ব্রহ্মবাদিনী .