এই সেই প্রথম প্রকাশ সাদা কালো নন্টে ফন্টে ,কিশোর ভারতীর পাতা থেকে নিয়ে বই আকারে প্রথম প্রকাশ পায় ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে... মূল্য ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা... পরেএই বই গুলি অনেক বার প্রকাশ পেয়েছে ।
এই সেই প্রথম প্রকাশ সাদা কালো নন্টে ফন্টে ,কিশোর ভারতীর পাতা থেকে নিয়ে বই আকারে প্রথম প্রকাশ পায় ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে... মূল্য ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা... পরেএই বই গুলি অনেক বার প্রকাশ পেয়েছে ।
আজ পুরানো শুকতারার পাতা থেকে পরপর স্ক্যান করে তুলে আনা একটি সুন্দর কমিকস্ থাকছে , প্রকাশ কাল মাঘ ১৪০৫ থেকে চৈত্র ১৪০৬ ।
আজ তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই ।
১৯৩১ সালের ১৩ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপে বুড়ো শিবতলায় তাঁর মামার বাড়িতে চণ্ডী লাহিড়ী’র জন্ম হয়। ওনার বাবার নাম ছিল রোহিণীমোহন লাহিড়ী এবং মায়ের নাম প্রবোধবালা দেবী।। পিতা মোহিনীমোহন লাহিড়ী ছিলেন বর্ধমান জেলার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা। প্রথমে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলে তাঁর পড়াশোনা শুরু হয়। নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতা
চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রুটের লোকাল ট্রেনে কৌটো নাড়িয়ে ভিক্ষে করছেন জনাকয়েক ছাত্র। কারও কারও পরনে হাফপ্যান্টও। এমন সব ছেলেদের ভিক্ষে করতে দেখে কৌতুহলী যাত্রীরা জানতে চাইলেন, ‘‘ব্যাপার কী?’’চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রুটের লোকাল ট্রেনে কৌটো নাড়িয়ে ভিক্ষে করছেন জনাকয়েক ছাত্র। কারও কারও পরনে হাফপ্যান্টও। এমন সব ছেলেদের ভিক্ষে করতে দেখে কৌতুহলী যাত্রীরা জানতে চাইলেন, ‘‘ব্যাপার কী?’’
ছোটখাট চেহারার ছেলেটি এগিয়ে এসে জবাব দিয়েছিল, ‘‘আমাদের কলেজের স্যারেরা বেতন পাচ্ছেন না। তাই স্যারেদের মাইনে তুলতেই পথে নেমেছি।’’ টাকা যে খুব বেশি উঠেছিল, এমন নয়। কিন্তু বিনা টিকিটের ছাত্রদের রাতভর কাটোয়া জিআরপি-র হেফাজতে কাটাতে হয়েছিল। এ খবর নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষের কানে পৌঁছতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ কর্মকাণ্ডের হোতা চণ্ডী। কোন চণ্ডী?
নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত
শিক্ষক নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘তামাম বিশ্ব যাঁকে কার্টুনিস্ট
হিসাবে চেনেন, ইনি সেই চণ্ডী লাহিড়ী।’’ নিমাইবাবু জানাচ্ছেন, নবদ্বীপকে
ঘিরে চণ্ডীদার কর্মকাণ্ড তাঁর কার্টুনের মতোই বর্ণময়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ করেন। তত দিনে হাতে তুলে নিয়েছেন রং-তুলি। কিন্তু শহরে গেলেও নবদ্বীপের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কখনও ফিকে হয়নি। নবদ্বীপের বিভিন্ন স্কুলের পত্র-পত্রিকায় স্মৃতিচারণে বহু বার তিনি লিখেছেন তাঁর নবদ্বীপ-কথা। কর্তৃপক্ষের অনুরোধে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলের শতবর্ষ, বিদ্যাসাগর কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী, বকুলতলা প্রাক্তনী রজত জয়ন্তী, সারস্বত মন্দিরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক পত্রপত্রিকায় তিনি এঁকেছেন প্রচ্ছদ ও কার্টুন। সঙ্গে একটি নাতিদীর্ঘ লেখাও। সে সব ছবি ও আঁকা আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছে নবদ্বীপ। মঠ-মন্দিরের শহরে সারস্বত মন্দির বহু পুরনো স্কুলগুলির অন্যতম। সে স্কুলের প্রধানশিক্ষক শচীন্দ্রমোহন নন্দীকে গুরু বলেই মানতেন চণ্ডীবাবু। ফলে হিন্দু স্কুলে পড়লেও সারস্বত মন্দিরের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
চণ্ডীবাবু লিখেছেন, ‘যারা লেখাপড়ায় ভাল, তাদের এই স্কুলে ভর্তি করা হত না। এটি ছিল উলট্পুরাণের দেশ। তুমি ভাল ছেলে। পাশ করে আইপিএস, আইসিএস, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার লক্ষ্য যদি থাকে তবে অন্য স্কুলে যাও। এখানে একটু কম মেধার ছেলেদের নেওয়া হয়। কারণ, এই স্কুলটির লক্ষ্য ইংরেজদের সেবা করা নয়, দেশসেবক তৈরি করা।’ ২০০৯ সালে স্কুলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেই লেখার সঙ্গে তিনি একটি কার্টুনও আঁকেন।
নবদ্বীপ মণিমেলার কর্মকর্তা শান্তিরঞ্জন দেব বলছেন, ‘‘আগামী ১৫ মার্চ, চণ্ডীদার জন্মদিনে তাঁকে সম্মাননা জানানো হবে বলে ঠিক হয়েছিল। তিনি আসবেন বলে কথাও দিয়েছিলেন। এই প্রথম চণ্ডীদা কথা রাখতে পারলেন না।’’
সরোজ সরকার (জন্ম ১৯৫৭) পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের একজন বিশিষ্ট কলকাতা-ভিত্তিক শিল্পী,
১৯৮১ সালের পূজা বার্ষিকী পক্ষীরাজ পত্রিকা থেকে শ্রী দেবাশীষ দেবের কমিকস্ টি স্ক্যান করে দিলাম , এটাই মনে হয় ওনার একমাত্র করা কমিকস্ ।
স্বনামধন্য বাঙালি অলংকরণ শিল্পী দেবাশীষ দেব - কার্টুনিস্ট এবং প্রচ্ছদ শিল্পী, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছোটদের বই, পত্রিকা এবং রম্যরচনায় তাঁর মজার অলংকরণ ও ক্যারিকেচারের জন্য সুপরিচিত । তিনি সিরিয়াস ইলাস্ট্রেশন এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যাঙ্কনেও সিদ্ধহস্ত, যা তাঁর কাজের বৈচিত্র্য প্রমাণ করে ।
শিল্পী দেবাশীষ দেব সম্পর্কে মূল তথ্য:
কর্মক্ষেত্র: মূলত শিশুসাহিত্য, রম্যরচনা এবং ব্যঙ্গাত্মক ফিচারের অলংকরণ ও কার্টুন ।
পরিচিতি: চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশ-বিদেশের প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেছেন ।
শৈলী: হাসির গল্প ও রম্যরচনায় মজার ছবি বা ইলাস্ট্রেশনের জন্য তিনি পাঠক মহলে জনপ্রিয় ।
বৈচিত্র্য: বইয়ের প্রচ্ছদ, ক্যারিকেচার, ক্যালিগ্রাফি এবং ভ্রমণের আঁকাতেও তিনি সমান দক্ষ ।
গবেষণা ও ট্রাভেলগ: তিনি ইলাস্ট্রেটর ও কার্টুনিস্টদের নিয়ে সেমিনার, কর্মশালা পরিচালনা এবং ভ্রমণ-কেন্দ্রিক ট্রাভেলগ লিখেছেন ।
তিনি বিখ্যাত কার্টুনিস্টদের কাজ নিয়ে চর্চা করেন এবং নিজেও এই ধারার এক সার্থক উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য হন ।