Showing posts with label চণ্ডী লাহিড়ী. Show all posts
Showing posts with label চণ্ডী লাহিড়ী. Show all posts

Friday, March 13, 2026

Post # 1205 Birboler Golpo - Chandi Lahiri

                                                                      ডাউনলোড করুন
 

 আজ তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই ।

১৯৩১ সালের ১৩ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপে বুড়ো শিবতলায় তাঁর মামার বাড়িতে চণ্ডী লাহিড়ী’র জন্ম হয়। ওনার বাবার নাম ছিল রোহিণীমোহন লাহিড়ী এবং মায়ের নাম প্রবোধবালা দেবী।। পিতা মোহিনীমোহন লাহিড়ী ছিলেন বর্ধমান জেলার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা। প্রথমে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলে তাঁর পড়াশোনা শুরু হয়। নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতা


বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ.করেন।দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলা কার্টুন চর্চ্চার সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে তার কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিক লোকসেবক পত্রিকায় সাংবাদিকতার
কাজে। এরপর ১৯৬১ সালে কার্টুনিস্ট হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় কার্টুনচর্চা শুরু করেন। আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৯৬২ সালে যোগ

দিয়েছিলেন। এছাড়াও সর্বভারতীয় নানা পত্রিকায় কার্টুন এঁকেছেন। তার কর্মজীবন প্রায় ৫০ বছরের। তার অসংখ্য ব্যঙ্গচিত্র ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের জন্য কার্টুন একেছেন তিনি। চণ্ডী লাহিড়ীর সৃষ্ট পকেট কার্টুন 'তির্যক' ও ছোটদের জন্য সৃষ্ট কমিকস জনপ্রিয় হয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ধরনের কার্টুন আঁকতেন চণ্ডী লাহিড়ী। তিনি কার্টুন নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। যার মধ্যে রয়েছে কার্টুনের ইতিবৃত্ত, বাঙালির রঙ্গ ব্যঙ্গচর্চা, গগনেন্দ্রনাথের কার্টুন ও স্কেচ। তার কার্টুন সংগ্রহের নাম চণ্ডী লুকস অ্যারাউন্ড এবং ভিসিট ইন্ডিয়া উইথ চণ্ডী।

                      চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রুটের লোকাল ট্রেনে কৌটো নাড়িয়ে ভিক্ষে করছেন জনাকয়েক ছাত্র। কারও কারও পরনে হাফপ্যান্টও। এমন সব ছেলেদের ভিক্ষে করতে দেখে কৌতুহলী যাত্রীরা জানতে চাইলেন, ‘‘ব্যাপার কী?’’চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রুটের লোকাল ট্রেনে কৌটো নাড়িয়ে ভিক্ষে করছেন জনাকয়েক ছাত্র। কারও কারও পরনে হাফপ্যান্টও। এমন সব ছেলেদের ভিক্ষে করতে দেখে কৌতুহলী যাত্রীরা জানতে চাইলেন, ‘‘ব্যাপার কী?’’

       

ছোটখাট চেহারার ছেলেটি এগিয়ে এসে জবাব দিয়েছিল, ‘‘আমাদের কলেজের স্যারেরা বেতন পাচ্ছেন না। তাই স্যারেদের মাইনে তুলতেই পথে নেমেছি।’’ টাকা যে খুব বেশি উঠেছিল, এমন নয়। কিন্তু বিনা টিকিটের ছাত্রদের রাতভর কাটোয়া জিআরপি-র হেফাজতে কাটাতে হয়েছিল। এ খবর নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষের কানে পৌঁছতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ কর্মকাণ্ডের হোতা চণ্ডী। কোন চণ্ডী?

নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘তামাম বিশ্ব যাঁকে কার্টুনিস্ট হিসাবে চেনেন, ইনি সেই চণ্ডী লাহিড়ী।’’ নিমাইবাবু জানাচ্ছেন, নবদ্বীপকে ঘিরে চণ্ডীদার কর্মকাণ্ড তাঁর কার্টুনের মতোই বর্ণময়।

 কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ করেন। তত দিনে হাতে তুলে নিয়েছেন রং-তুলি। কিন্তু শহরে গেলেও নবদ্বীপের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কখনও ফিকে হয়নি। নবদ্বীপের বিভিন্ন স্কুলের পত্র-পত্রিকায় স্মৃতিচারণে বহু বার তিনি লিখেছেন তাঁর নবদ্বীপ-কথা। কর্তৃপক্ষের অনুরোধে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলের শতবর্ষ, বিদ্যাসাগর কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী, বকুলতলা প্রাক্তনী রজত জয়ন্তী, সারস্বত মন্দিরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক পত্রপত্রিকায় তিনি এঁকেছেন প্রচ্ছদ ও কার্টুন। সঙ্গে একটি নাতিদীর্ঘ লেখাও। সে সব ছবি ও আঁকা আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছে নবদ্বীপ। মঠ-মন্দিরের শহরে সারস্বত মন্দির বহু পুরনো স্কুলগুলির অন্যতম। সে স্কুলের প্রধানশিক্ষক শচীন্দ্রমোহন নন্দীকে গুরু বলেই মানতেন চণ্ডীবাবু। ফলে হিন্দু স্কুলে পড়লেও সারস্বত মন্দিরের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল।

 

চণ্ডীবাবু লিখেছেন, ‘যারা লেখাপড়ায় ভাল, তাদের এই স্কুলে ভর্তি করা হত না। এটি ছিল উলট্পুরাণের দেশ। তুমি ভাল ছেলে। পাশ করে আইপিএস, আইসিএস, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার লক্ষ্য যদি থাকে তবে অন্য স্কুলে যাও। এখানে একটু কম মেধার ছেলেদের নেওয়া হয়। কারণ, এই স্কুলটির লক্ষ্য ইংরেজদের সেবা করা নয়, দেশসেবক তৈরি করা।’ ২০০৯ সালে স্কুলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেই লেখার সঙ্গে তিনি একটি কার্টুনও আঁকেন।

নবদ্বীপ মণিমেলার কর্মকর্তা শান্তিরঞ্জন দেব বলছেন, ‘‘আগামী ১৫ মার্চ, চণ্ডীদার জন্মদিনে তাঁকে সম্মাননা জানানো হবে বলে ঠিক হয়েছিল। তিনি আসবেন বলে কথাও দিয়েছিলেন। এই প্রথম চণ্ডীদা কথা রাখতে পারলেন না।’’