Saturday, September 5, 2020

Post # 999 Bengali Amarchitra Katha 075

                                                                  ডাউনলোড করুন

 

 

 

 

     


                                  


 

 
 

 
 ৬৭ পর ৭৫ নং অমর চিত্র কথা পোস্ট করা হোল। ৬৮-৭৪ নং আমি কোনদিন বাংলায় দেখিনি ।

 
 
 
 
 
 
 
 
দীপক রাগে যদিবা বহ্নিশিখা ছড়িয়েও পড়তো, মেঘমল্লার গেয়ে বৃষ্টি আনতেও ভুলতেন না তিনি। বিভিন্ন ‘রাগ’ এর ওপর তার ছিলো অদ্ভুত এক নিয়ন্ত্রণ, সঙ্গীতশিল্প যেন নিজেকে সঁপে দিয়েছিলো সঠিক নিয়ন্ত্রকের হাতেই। হ্যাঁ, এই নিয়ন্ত্রকই হচ্ছেন তানসেন, সম্রাট আকবরের সভার নবরত্নের একজন। তানসেন রত্ন হয়ে সুশোভিত নয়, সুরারোপিত করে রেখেছিলেন সভাকে। উত্তর ভারতীয় উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের তানসেন ছিলেন এক অতুলনীয় মহারথী।
 

তানসেনের বাবা ছিলেন একজন কবি, কবি মুকুন্দ মিশ্র। তিনি ছেলের নাম রাখেন রামতনু মিশ্র, মতান্তরে তনু মিশ্র। ছোটবেলায় এ নামেই মানুষ তাকে ডাকতো।

সঙ্গীত দিয়ে তিনি নাকি আন্দোলন জাগাতেন বৃক্ষ ও পাথরে, এই সঙ্গীতই ছিল তার তীব্র শক্তির উৎস। তার এই সঙ্গীতের জন্যই হেলে পড়েছিলো বিহাটের গ্রামের সেই শিবমন্দিরটি– অন্তত তার ভক্তরা তাই জানে এবং মানে।

তানসেনকে নিয়ে সিনেমা

১৯৪৩ সালে সঙ্গীতশিল্পী তানসেনকে নিয়ে বলিউডে ‘তানসেন’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায়। সিনেমাটির পরিচালক ছিলেন জয়ন্ত দেশাই। এতে তানসেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন কে এল সাইগল। পন্ডিত ইন্দ্র রচিত গানে সিনেমাটির সম্পূর্ণ সঙ্গীত প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন ক্ষেমচাঁদ প্রকাশ।

ছেলেবেলায় তানসেন

এই গোয়ালিয়রেই থাকতেন তানসেন, image source: ixigo.com

চারশ বছরেরও আগে গোয়ালিয়র নামক এক গ্রামে বাস করতেন বেশ স্বচ্ছল বিত্তবান এক কবি ও তার স্ত্রী, নাম তার মুকুন্দ মিশ্র। সব রূপকথার রাজাদেরই যেমন থাকে, মুকুন্দ মিশ্রেরও ছিল সেই একই সমস্যা। বুঝতেই পারছেন কী হতে পারে তা? ঠিক ধরেছেন, তাদের কোনো সন্তান ছিল না এবং এ নিয়ে নিঃসন্তান দম্পতির দুঃখের কোনো শেষ ছিল না। এক বন্ধুর পরামর্শে মিশ্র দম্পতি গেলেন তখনকার বিখ্যাত দরবেশ হযরত মোহাম্মদ গাউসের কাছে। গাউস মুকুন্দ মিশ্রের হাতে বেঁধে দিলেন এক পবিত্র সুতো আর এই আশীর্বাদ করলেন যে অতিসত্ত্বরই তাদের এক পুত্রসন্তান হবে। কিছুদিনের মধ্যেই গাউসের ভবিষ্যদ্বাণী ফলে গেল। জন্ম নিলেন তানসেন। পিতা তার জন্য নিযুক্ত করলেন শিক্ষকদের। কিন্তু ছেলের তো পড়াশোনায় মন নেই, তার মন পড়ে থাকে জঙ্গলে, যেখানে সে নিত্য-নতুন পশুপাখির সুর নকল করে! হ্যাঁ, এই ছিল তার প্রিয় খেলা।

হরিদাসের কাছে সঙ্গীতশিক্ষা

গুরু হরিদাস,

একদিন হলো কী, জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এক গানের দল। দুষ্টু তানসেন তাদের ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য শুরু বাঘের মতো করে ডাক! সে ডাক এতোই সত্যি মনে হচ্ছিল যে গায়কেরা অনেক ভয় পেয়ে গেলেন। তখন তানসেন তাদের সামনে আসলো, দলের নেতা তো তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি অনেক প্রশংসাও করলেন তার গর্জনের! এই দলনেতাটি আর কেউ নয়, ছিলেন তখনকার বিখ্যাত এক সঙ্গীতশিক্ষক হরিদাস। হরিদাস তানসেনকে তার শিষ্য করে নিতে চাইলেন। মুকুন্দ মিশ্রকে গিয়ে এ ব্যাপারে অনেক বোঝালেনও তিনি। তানসেনের মা অনেক মন খারাপ করলেন ছেলেকে এত দূর পাঠাবেন বলে, তবে শেষপর্যন্ত হরিদাসের সঙ্গে তানসেন বৃন্দাবন গেলেন সঙ্গীতশিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশে।

১০ বছর ধরে একনিষ্ঠভাবে সঙ্গীতশিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখলেন তানসেন। হরিদাসও তার মতো শিষ্য পেয়ে ঢেলে দিলেন তার সকল বিদ্যা। ভিত্তি নিয়মগুলো থেকে শুরু করে সিদ্ধহস্তে তানপুরা বাজানো, সা রে গা মা পা থেকে শুরু করে সঙ্গীতের নানা রাগ আয়ত্ত করলেন তানসেন। তিনি শিখলেন কীভাবে সঙ্গীতের বিভিন্ন রাগ বদলে দেয় মানুষের মনের অবস্থা! প্রকৃতি ও মানবমনের সাথে সঙ্গীতের নিগূঢ় সম্পর্ক অনুভব করতে লাগলেন তানসেন। একটি রাগ কীভাবে কাউকে আনন্দে পর্যবসিত করতে পারে আর পরক্ষণেই বিপরীত একটি রাগ কীভাবে চোখে জল এনে দিতে পারে- এ সবকিছু যেন তানসেনের নখদর্পণে এসে গিয়েছিল। বলা বাহুল্য, ইতিহাসের পাতায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গুরু-শিষ্যের মধ্যে হরিদাস-তানসেনের নামও উজ্জ্বল হয়ে থাকবে!

আরও এক গুরুর সাহচর্য

তানসেনের বাবা অসুস্থ হবার খবর শুনে তানসেন বৃন্দাবন থেকে ফিরে আসলেন বাড়িতে। মুকুন্দ মিশ্র মারা গেলেন এবং মৃত্যুশয্যায় তানসেনকে বলে গেলেন হযরত গাউসের কাছে গিয়ে সঙ্গীতশিক্ষা গ্রহণের জন্য। বাবার মৃত্যুর পর তানসেন মায়ের সেবায় নিয়োজিত হলেন এবং কিছুদিন পর তার মা-ও মারা গেলেন। পিতৃ-মাতৃহীন তানসেন এখন গাউসের কাছে যাবেন মনস্থির করলেন. কিন্তু তার আগে বর্তমান গুরু হরিদাসের সম্মতি তো লাগবে! হরিদাস তানসেনকে বললেন যে তার দরজা সবসময়ই তানসেনের জন্য খোলা থাকবে এবং সে গাউসের কাছে বিদ্যার্জনের জন্য যেতে পারে।

তানসেন গাউসের কাছে গিয়ে সঙ্গীতশিক্ষা আরও ঝালিয়ে নিতে লাগলেন। তিন বছর ধরে তিনি গাউসের ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। গাউস তানসেনকে গোয়ালিয়রের অন্যান্য সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতবিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, সঙ্গীতজগতে তানসেনের চেনাজানা বাড়তে থাকে গাউসের মাধ্যমে। গোয়ালিয়রের রাজার সাথেও গাউস তাকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং একসময় তারা বেশ ভাল বন্ধু হয়ে উঠেন।

ভারতীয় ডাকটিকিটে তানসেন, image source: istampgallery.com

পরিবারজীবনে তানসেন

রাজপ্রাসাদে যাতায়াত করতে করতে রাজার এক পরিচারিকার প্রেমে পড়লেন তানসেন। মেয়েটির নাম ছিল ‘হুসানী’, যার অর্থ ‘সুন্দরী’। তারা দু’জনে বিয়ে করলেন, তানসেন ধর্মান্তরিত হলেন। পড়ে তানসেন আরও একবার বিয়ে করেন এবং সবমিলিয়ে তার পাঁচ সন্তান ছিল।

খ্যাতির প্রথম ধাপ

মোহাম্মদ গাউস মারা যাবার আগে তার সকল সম্পত্তি তানসেনের নামে দিয়ে গেলেন এবং পরিবার নিয়ে তানসেন সেখানেই বাস করতে লাগলেন। একদিন রেওয়া থেকে এক দূত এসে বললো যে রাজা রামচন্দ্র তানসেনকে তলব করেছেন। খ্যাতির প্রতি এটিই ছিল তানসেনের প্রথম যাত্রা। রাজা তানসেনের সঙ্গীতপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রাসহ আরও বহু মহামূল্যবান পুরষ্কারে তাকে ভূষিত করলেন।

মেঘমল্লারে ডাকা বৃষ্টি, image source: saketjain.com

তানসেন নিজেই যখন উপহার!

একবার সম্রাট আকবর রেওয়াতে বেড়াতে এলেন এবং রাজা রামচন্দ্র তানসেনের গান দিয়ে সম্রাটের মনোরঞ্জন করলেন। এতে অবশ্য রাজা রামচন্দ্রের লাভের চাইতে ক্ষতিই হলো বেশি! কারণ আকবর চেয়ে বসলেন খোদ তানসেনকেই! যদিও রামচন্দ্র তানসেনকে হারাতে চাচ্ছিলেন না, তারপরও মহাপরাক্রমশালী সম্রাটের সাথে রাজা আর কী করে পারবেন? নিমরাজি হয়েই রাজ উপহার হিসেবে তানসেনকে পাঠালেন আকবরের সভায়। আর সে সভায় গিয়ে তানসেনের খ্যাতি যেন আকাশ ছুঁতে লাগলো! এতদিন যেন ঠিক ক্ষেত্র পাননি তানসেন, আকবরের সভা তাকে সেই ক্ষেত্রটি দিল। শোনা যায়, তানসেনের রেওয়াজকক্ষে সাতটি সরস্বতীমূর্তি ছিল আর তিনি যখন সা রে গা মা পা ধ্বনি দিয়ে গলা সাধতেন, একেকবার একেকটি সরস্বতীমূর্তি থেকে ধ্বনিগুলো আসছে বলে মনে হতো!

এই গুরু-শিষ্যকে আজও একসাথেই স্মরণ করা হয়, image source: liveindia.live

রাতের বেলা তানসেন আকবরকে এক সুমধুর রাগের মাধ্যমে ঘুম পাড়াতেন এবং সকালে আরেক অপূর্ব রাগ গেয়ে শান্ত ভঙ্গিতে আকবরকে ঘুম হতে জাগাতেন। সম্রাট আকবরের দৈনন্দিন ছকে তানসেনের নাম গাঁথা হয়ে গিয়েছিল। তাই সম্রাটের সভার নবরত্নে তানসেন থাকবেন, এ কোনো অদ্ভুত কথা ছিল না!

কথিত আছে তানসেন যখন গাইতেন, সকল পশুপাখি তখন তার গান শুনতে চলে আসতো! প্রকৃতির সাথে এমনই সুরের বন্ধনে নিজেকে বেঁধেছিলেন তানসেন! সম্রাটের যখনই অশ্ব কিংবা হস্তী আরোহণ করবার সময় আসতো, তখন তানসেনই তাদের গান গেয়ে শান্ত করতেন এবং সম্রাট নিরাপদে তাতে আরোহণ করতেন।

আকবর-তানসেন

হিন্দুস্তানী সঙ্গীতের এক যাদুকর তানসেন, দিনে দিনে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো সম্রাট আকবরের রাজসভা এবং তার বাইরেও। সফলতা যেখানে চূড়ান্ত, সেই সফলতা থেকে ঈর্ষাকাতর ব্যক্তিদেরকে দূরে রাখা যায় না। তানসেনের ক্ষেত্রেও রাখা যায়নি। অন্য সভাসদেরা তানসেনের খ্যাতি-জনপ্রিয়তায় যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন আর ফন্দি আঁটতে লাগলেন কী করে তানসেনের জনপ্রিয়তা ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া যায়। তো তারা করলেন কি, এক গুজব ছড়িয়ে দিলেন তানসেনের নামে। তানসেন তার সুরমহিমা দিয়ে একটি নিভে যাওয়া প্রদীপেও আলোকসঞ্চার করতে পারেন- এই ছিলো গুজবটি। গুজবটি পুরোপুরি গুজব ছিলোও না। তানসেন তা করতে পারতেন, কিন্তু যে রাগ গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রদীপে আলো আসতে পারে, সেই রাগ গেয়েই এতো বেশি তাপ উৎপাদিত হয় যে তাতে গায়ক নিজেই জ্বলে-পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবেন! এই তো চেয়েছিলো তানসেনের শত্রুরা। এক ঢিলে দুই পাখি সাবারের মতো তানসেনের খ্যাতির সাথে সাথে খোদ তানসেনকেই ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া।

আকবরের সভায় তানসেন, image source: madhu ki diary

তানসেন যখন দ্বিধায় ভুগছেন, সমাধান নিয়ে এলেন তার সুযোগ্য কন্যা। তিনি তানসেনকে বললেন রাগ মেঘমল্লারের কথা, যেদিন রাজসভায় তানসেন সুরের পরীক্ষা দেবেন দীপক রাগ গেয়ে। তার অব্যবহিত পরেই তার কন্যা গ্রামের দিকতায় গিয়ে শুরু করবেন রাগ মেঘমল্লার, বৃষ্টি নেমে আসবে, শীতল হবে ভূমি। যেই ভাবা সেই কাজ, তানসেন কন্যাকে শিক্ষা দিতে লাগলেন রাগ মেঘমল্লারের। তানসেনের কন্যাও তারই মতো সঙ্গীতপ্রেমী ও পারদর্শী ছিলেন, তাই শিখে নিতে বেশিদিন লাগলো না তার।

অবশেষে এলো সেই দিন, আজ সভাসদ ও স্বয়ং সম্রাট আকবরের সামনে পরীক্ষায় নামলেন তানসেন। দীপক রাগে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে উঠতে লাগলো চারিদিক, সব জিনিসপত্র যেন মোমের মতো গলে যাচ্ছিলো। সভায় থাকা দায় হয়ে উঠেছিলো সবার। তেলে ভর্তি হাজারো প্রদীপ জ্বলে উঠলো সভাজুড়ে, অদ্ভুত কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন তানসেন, রক্ষা পেলো তার খ্যাতি। কিন্তু এদিকে যে তানসেনের শরীরের তাপ বাঁধ মানছে না! শরীর যেন জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে তানসেনের, পূর্ব পরিকল্পনা মতো তার কন্যা গ্রামের দিকে বাজাচ্ছেন মেঘমল্লার রাগ। তিনি দৌড়ে গেলেন সেদিকে, অবিরত জলধারায় শান্ত হলো তাপ ও দীপক রাগের বিভীষিকা। প্রাণে ও খ্যাতি উভয়েই সেদিন বেঁচে রইলেন এই প্রবাদপুরুষ, তবে দীর্ঘ দুমাস অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিলেন। অনেক বছর আকবরের সভা আলোকিত করবার পর আনুমানিক ১৫৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল অথবা ১৫৮৯ সালের ৬ মে তিনি যখন মারা যান, আকবর তখনও তার পাশে ছিলেন।

তানসেনের সমাধি

গোয়ালিয়র গ্রামে তানসেনের সমাধি, image source: ixigo.com

গোয়ালিয়র গ্রামে তানসেনের সমাধি নিয়েও কিছু মিথ চালু আছে তার ভক্তদের মধ্যে! বক্রপাথরে তৈরি সমাধিটির খুব পাশেই রয়েছে একটি তেঁতুল গাছ। তানসেনের ভক্তরা মনে করে যে কোনো গায়ক যদি এই তেঁতুল গাছটির একটি পাতা খেয়ে তানসেনের সমাধি স্পর্শ করে, তবে সে তানসেনের আশীর্বাদপ্রাপ্ত হবে! অদ্ভুত হলেও সত্যি যে তানসেনের মৃত্যুর এত বছর পরও হিন্দুস্তানী এমনকি আন্তর্জাতিক সঙ্গীতেও তানসেন এত প্রবলভাবে বেঁচে আছেন!

তানসেন সমারোহ

তানসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে প্রতি ডিসেম্বরে ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ‘তানসেন সমারোহ’ অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশের বহু সঙ্গীতজ্ঞ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তানসেনের পাশাপাশি তার গুরু হরিদাস ও হযরত মোহাম্মদ গাউসকেও এই সমারোহে স্মরণ করা হয়।

তানসেন সমারোহ, গোয়ালিয়র; image source: soulSteer.com

তানসেন শুধু একজন গায়কই নন, ছিলেন একজন কবি। তিনি বহু গান বেঁধেছেন ও সেগুলোকে গেঁথেছেন বিভিন্ন সুরে। গোয়ালিয়র গ্রামে আজও তার সমাধির পাশে বড় উৎসব হয় এবং দেশ-বিদেশের সঙ্গীতপ্রেমীরা সেখানে এসে তানসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তথ্য সূত্র  https://roar.media/





 

Friday, September 4, 2020

Post # 998 Bengali Amarchitra Katha 067

                                                                     ডাউনলোড করুন
 

 

 

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি (রামায়ণ) মতে লঙ্কার রাক্ষস রাজা বিশ্রবা মুনির ঔরসে কৈকসীর (অন্য নাম নিকষা) গর্ভে রাবণের জন্ম হয় এঁদের মোট চারটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল এই চারটি সন্তানের মধ্যে পুত্র হলো রাবণ, কুম্ভকর্ণ, বিভীষণ ও কন্যা শূর্পনখা

রাবণের ছিল দশটি মাথা, কুড়িটি বাহু, গাত্রবর্ণ ঘোরতর কালো, উজ্জ্বল চুল ও দাঁত এবং টকটকে লাল ঠোঁট ছিল ইনি ময়দানবের কন্যা মন্দোদরীকে বিবাহ করেন কথিত আছে তাঁর প্রায় এক লক্ষ পুত্র ও সোয়া লক্ষ নাতি ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য পুত্র ছিলেন- মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ)
 

বিশ্রবার প্রথমা স্ত্রী দেবর্ণিনী'র সন্তান কুবের ছিলেন যক্ষদের রাজা কুবের অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারী ছিলেন বলে, কৈকসী ঈর্ষান্বিত হয়ে, তাঁর পুত্রদেরকে অনুরূপ ঐশ্বর্য এবং সেই সাথে অমিত তেজ অর্জনের জন্য তপস্যা করতে আদেশ দিলেন এঁরা ব্রহ্মার ঘোরতর উপাসনা শুরু করলে, ব্রহ্মা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে, বর প্রার্থনা করতে বললেন রাবণ অমরত্বের বর প্রার্থনা করলে, ব্রহ্মা তাতে অসম্মত হলেন পরে ইনি দেব, দানব, দৈত্য, যক্ষ, রক্ষ ইত্যাদির কাছে অজেয় ও অবধ্য হওয়ার বর প্রার্থনা করলেন মানুষকে ইনি তৃণতুল্য মনে করে এই তালিকায় মানুষ রাখলেন না ব্রহ্মা উক্ত বরই প্রদান করলেন
 

সেই সময় কুবের লঙ্কার রাজা ছিলেন প্রথমে ইনি কুবেরকে লঙ্কা থেকে বিতারিত করে সেখানে রাক্ষস-রাজ্য স্থাপন করলেন এই সময় ইনি কুবেরের পুষ্পক-রথ অধিকার করেন এরপর তিনি দিগ্বিজয়ে বের হয়ে নর্মদা নদীতীরে মহাদেব পূজা আরম্ভ করলেন সেখানে হাজার হাতবিশিষ্ট কার্তবীর্য নামক এক রাজা জলক্রীড়া করছিলেন এর ফলে নদীর জল ঘোলা হতে থাকলে, ক্রুদ্ধ রাবণ তাঁকে আক্রমণ করেন এই যুদ্ধে রাবণ পরাজিত ও বন্দী হন পরে রাবণের স্বর্গস্থ পিতামহ পুলস্ত্যের অনুরোধে কার্তবীর্য তাঁকে মুক্তি দেন
 

এরপর রাবণ কিষ্কিন্ধ্যা'র রাজা বালীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য উপস্থিত হন সেখানে পৌঁছে ইনি জানতে পারলেন যে বালী চার সমুদ্রে সন্ধ্যাবন্দনা করতে গিয়েছেন রাবণ বালীর সন্ধানে দক্ষিণ সমুদ্রে উপস্থিত হলে, বালী অকস্মাৎ তাঁকে মুষ্ঠিতে পুরে আকাশে উঠে গেলেন এবং ক্রমান্বয়ে চার সমুদ্রে সন্ধ্যাবন্দনা শেষ করলেন রাবণ বালীর এরূপ শক্তি দেখে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে ফিরে আসেন


নারদের প্ররোচনায় ইনি যমরাজের সাথে যুদ্ধ শুরু করেন পরে ব্রহ্মার অনুরোধে উভয়ে এই যুদ্ধ বন্ধ করেন কৈলাসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাবণের রথের গতি রুদ্ধ হয় এই সময় মহাদেবের  অনুচর নন্দী রাবণকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এখানে হর-পার্বতী আছেন নন্দীর বানর মুখ দেখে রাবণ অবজ্ঞায় হাস্য করলে, নন্দী অভিশাপ দেন যে, তার মতো বানদের হাতেই রাবণ বংশ ধ্বংস হবে রাবণ এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে কৈলাস উত্তোলন করতে থাকলে, পার্বতী চঞ্চল হয়ে উঠেন তখন মহাদেব পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে রাবণকে চেপে ধরেন রাবণ সে চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রচণ্ড চিৎকার করতে থাকেন পরে মহাদেবের স্তব করে মুক্তি পান এই সময় মহাদেব তাঁকে চন্দ্রহাস নামে একটি দীপ্ত খড়্গ উপহার দেন
 

স্বর্গে গিয়ে ইনি দেবতাদের সাথে যুদ্ধ করে ইন্দ্র-সহ সকলকে পরাজিত করেন রাবণের শ্রেষ্ঠ-পুত্র মেঘনাদ কপট যুদ্ধে ইন্দ্রকে পরাজিত ও বন্দী করে লঙ্কায় নিয়ে আসেন। এই কারণে মেঘনাদ ইন্দ্রজিৎ নামে পরিচিত হয়ে উঠেন। পরে ব্রহ্মার অনুরোধে ইনি ইন্দ্রকে মুক্তি দেন
 

এরপর রাবণ ধীরে ধীরে অত্যন্ত অত্যাচারী রাজায় পরিণত হলেন ইনি দেব, দানব ও ঋষি কন্যাদের হরণ করতে থাকেন একবার ইনি বৃহস্পতির পুত্র মহর্ষি কুশধ্বজের কন্যা বেদবতীকে হরণ করতে উদ্যত হলে, ইনি অগ্নিতে আত্মাহুতি দেন আত্মাহুতিকালে ইনি রাবণকে জানান যে, পরে ইনি কোনো ধার্মিক পুরুষের অযোনিজ কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করবেন এবং রাবণ বধের কারণ হবেন উল্লেখ্য, এই কন্যাই পরে সীতারূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন
 

রাবণ মরুত্তের যজ্ঞে উপস্থিত হয়ে, যজ্ঞস্থল ধ্বংস করেন। এরপর তিনি সুরথ, গাধি, গয় ও পুরূরবা প্রভৃতি রাজাদের পরাজিত করেন অযোধ্যার রাজা অনরণ্য তাঁর সাথে যুদ্ধে নিহত হন মৃত্যুকালে অনরণ্য অভিশাপ দিয়ে বলেন যে, রাবণ তাঁর বংশজাত সন্তান দ্বারা নিহত হবেন
 

স্বর্গ-অপ্সরা রম্ভা নলকূবরের কাছে অভিসারে যাওয়ার সময়, রাবণ তাঁকে ধর্ষণ করেন ফলে নলকুবের তাঁকে অভিশাপ দেন যে, কোনো নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে রাবণের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হবে
 

রাবণ সমুদ্রে প্রবেশ করে, প্রথমে নাগদের পরাজিত করেন, পরে নিবাতকবচ নামক দৈত্যের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন রাম এবং নিবাতকবচ উভয়ই ব্রহ্মার বরে অজেয় ছিলেন সে কারণে ব্রহ্মার মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধ নিবারিত হয় পরে রাবণ এঁর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন পরে ইনি  নিবাতকবচের কাছ থেকে বহুবিধ মায়াবিদ্যা অর্জন করেন

এরপর তিনি জলদেবতা বরুণের পুত্রদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং তাঁদের পরাজিত করেন
এরপর ইনি অশ্মনগরে চারশত কালকেয়
 দানবের সাথে যুদ্ধ করে তাঁদেরকে পরাজিত করেন এই যুদ্ধে রাবণের বোন শূর্পণখার স্বামী বিদ্যুৎজিহ্ব নিহত হন রাবণ তাঁর এই বিধবা বোনকে সান্ত্বনা দিয়ে দণ্ডকারণ্যে বাসবাস করার জন্য প্রেরণ করেন এই সময় রাম পিতৃসত্য রক্ষার্থে সীতা লক্ষ্মণসহ পঞ্চবটী বনে কুটির নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন শূর্পণখা রাম ও লক্ষণের কাছে তাঁর প্রণয়ের কথা ব্যক্ত করলে, লক্ষ্মণ এঁর নাক ও কান কেটে দেন। এরপর শূর্পণখার অধীনস্থ খর দূষণ নামক সেনাপতিদ্বয়কে রামের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলে তাঁরা সসৈন্যে নিহত হন ক্ষুব্ধ শূর্পণখা লঙ্কায় গিয়ে সমুদয় বিষয় রাবণকে জানালেন এবং সীতা-হরণের জন্য রাবণকে উত্তেজিত করে তুললেন
 

রাবণ পঞ্চবটীতে পৌঁছে তাড়কা রাক্ষসীর পুত্র মারীচের সাহায্যে সীতা-হরণের পরিকল্পনা নেন মারীচ স্বর্ণমৃগের রূপ ধরে সীতার সম্মুখে বিচরণ করতে থাকলে, সীতা রামের কাছে উক্ত হরিণ ধরে দেবার জন্য অনুরোধ করলে, প্রথমে রা উক্ত হরিণ ধরতে যান এরপর মারীচ রামের অনুকরণে কাঁদতে থাকলে, রামের বিপদ হয়েছে মনে করে, সীতা লক্ষণকে অনুসন্ধানে পাঠান এরপর রাবণ ভিক্ষুকের বেশে এসে সীতার কাছে এসে নানাভাবে ঘরের বাইরে আসার জন্য প্রলুব্ধ করতে থাকেন পরে ইনি সবলে সীতাকে হরণ করে লঙ্কার পথে অগ্রসর হন পথে জটায়ু পক্ষী তাঁকে বাধা দিলে, রাবণ তাঁর পাখা কেটে পথে ফেলে রেখে অগ্রসর হন এরপর বন্দিনী সীতা যাওয়ার পথে তাঁর অলঙ্কারসমূহ ঋষমূকপর্বতে বানরদের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করেন লঙ্কায় গিয়ে রাবণ সীতাকে বশ করার বহুচেষ্টা করে অপারগ হলে, ইনি সীতাকে অশোকবনে বন্দিনী করে রাখেন ইনি সীতাকে বশে আনার জন্য বেশ কিছু রাক্ষসী নিয়োগ করেন এবং ঘোষণা দেন যে, দশ মাসের মধ্যে সীতা বশীভূত না হলে, ইনি তাঁকে ভক্ষণ করবেন
 

এদিকে রা-লক্ষণ কুটিরে ফিরে এসে সীতাকে না দেখতে পেয়ে, তাঁর অনুসন্ধানে বের হলেন পথে আহত জটায়ু পাখির মুখে সব শুনে, খুঁজতে খুঁজতে এঁরা ঋষমূকপর্বতে বানরদের কাছ থেকে সীতার অলঙ্কার পান সেখানে কিষিন্ধ্যার অধিপতি সুগ্রীবের সাথে রামের  সখ্যতা স্থাপিত হয় এখান থেকে রা হনুমানকে সীতার সংবাদ আনার জন্য লঙ্কায় পাঠান হনুমান লঙ্কায় পৌঁছে অশোকবন তছনছ করেন এবং লঙ্কা  দগ্ধ করে সীতার সংবাদ রামকে পৌঁছে দেন
 

এরপর রা বানর সৈন্যদের সহায়তায় সমুদ্রের উপর সেঁতু নির্মাণ করে লঙ্কায় উপস্থিত হন এই সময় রাবণের কনিষ্ঠ ভাই বিভীষণ সীতাকে ছেড়ে দিতে পরামর্শ দিলে, রাবণ তাঁর সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিভীষণকে অপমান করেন রা-রাবণের চূড়ান্ত যুদ্ধ আরম্ভের পূর্বে বিভীষণ রামের পক্ষে যোগ দেন যুদ্ধে রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিৎ অসাধারণ বিক্রম প্রদর্শন করেন প্রথমে ইনি রা-লক্ষণকে নাগপাশে বন্দী করেন কিন্তু গরুড়ের সাহায্যে এই বন্ধন থেকে উভয়ই মুক্তি লাভ করেন এরপর রাবণ পক্ষের ধূম্রাক্ষ, বজ্রদংশ, অকল্পন ও প্রহস্ত সেনাপতিরা নিহত হলে, রাবণ কুম্ভকর্ণকে অকালে জাগিয়ে তোলেন যুদ্ধে কুম্ভকর্ণ নিহত হন এরপর বিভীষণের সাহায্যে লক্ষণ অন্যায়ভাবে নিরস্ত্র অবস্থায় নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইন্দ্রজিৎকে হত্যা করেন পুত্র-শোকাতুর রাবণ শক্তিশেল দ্বারা লক্ষণকে আঘাত করলে, লক্ষণ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান পরে হনুমান দ্বারা সংগৃহীত বিশল্যকরণী দ্বারা লক্ষ্মণ জীবন ফিরে পান এরপর রা রাবণের বহিনীকে পরাজিত করেন এবং  রাবণকে হত্যা করেন


 সূত্র   http://onushilon.org/

 

 অমর চিত্র কথা  ৬১ পর ৬৭ পোস্ট করতে হোল । ৬২ - ৬৬ বাংলায় আমি দেখিনি। প্রকাশিত হয়েছিল কিনা জানা নেই ।



 









Thursday, September 3, 2020

Post # 997 Bengali Amarchitra Katha 061

                                                                         ডাউনলোড করুন


 
 
৫৮ পর ৬১ পোস্ট করছি... কারন উর্বশী ও আদি শঙ্কর সম্ভবত প্রকাশিত হয়নি । 
 
 




 
 
 
 
ঘটোৎকচ মহাভারতের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ঘটোৎকচ খুবই শক্তিশালী ও মায়াবী রাক্ষস ছিল। তার পিতা ছিল পঞ্চপান্ডবের দ্বিতীয় পান্ডব ভীম ও মাতা ছিল অপরূপ সুন্দরী রাক্ষস রাজকন্যা হিড়িম্বা।
ঘটোৎকচের স্ত্রীর নাম ছিল অহিল্বতি ও পুত্রের নাম ছিল বর্বরিক।
ঘটোৎকচের হাতিয়ার ছিল গদা। সে জাদুবিদ্যায় পারদর্শী ছিল। নিজের শরীরকে ইচ্ছামত বৃহদাকার বা ক্ষুদ্রাকার করতে পারত ঘটোৎকোচ।
এই ঘটোৎকচ কুরুক্ষেত্রে পান্ডবের সাথে কৌরবদের যুদ্ধ বাঁধলে পান্ডবদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল।
যুদ্ধের চতুর্দশ দিনে কুরু-পান্ডবদের যুদ্ধ আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সেদিন রাতের বেলাও যুদ্ধ চলতে থাকে। কৌরব বাহিনীর কর্ণ সেদিন ভীষণ তেজে যুদ্ধ করতে থাকে।
যেহেতু রাক্ষসরা নিশাচর সেহেতু ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ঘটোৎকচকে ডেকে বললেন যে, “মহাবীর কর্ণ যে বিষম তেজে আজ যুদ্ধ করছে তাতে করে কোন পান্ডবসৈন্য তার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারছে না। আজ কেবল দুজন ব্যক্তিই আছে যারা কর্ণের মোকাবিলা করতে সক্ষম। একজন তুমি আরেকজন অর্জুন। কিন্তু অর্জুনকে এখন যুদ্ধে পাঠানো ঠিক হবে না। কারণ, অর্জুনকে বধ করবার নিমিত্তে কর্ণ ইন্দ্রের উপাসনা করে ইন্দ্রদত্ত ‘বৈজয়ন্তী’ শক্তি লাভ করেছে। এই শক্তি মাত্র একবারই নিক্ষেপ করা যাবে। ফলে তুমিই যেয়ে কর্ণের মুখোমুখি হও।’’
ঘটোৎকচ ভগবান বাসুদেব শ্রী কৃষ্ণের অনুমতি পেয়ে একশত ঘোড়াটানা রথে করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে। তার বৃহৎ রথ ভালুকের চামড়া দ্বারা আচ্ছাদিত। রথের আকাশস্পর্শী ধ্বজের উপর একটি ভীষণ করালদর্শন গৃধ্র (শকুন) উপবিষ্ঠ রয়েছে।
ঘটোৎকচ মায়া(জাদু) দ্বারা ভীষণ আকৃতির সব রাক্ষস সৃষ্টি করল। তারা কৌরব বাহিনীকে ছিন্ন ভিন্ন করে দিতে লাগল। কর্ণ একের পর এক ভয়ংকর বাণ নিক্ষেপ করতে লাগল ঘটোৎকচের দিকে। ঘটোৎকচ কখনো অদৃশ্য হয়ে আবার কখনো দৃশ্যমান হয়ে প্রতিঘাত করতে লাগল। ঘটোৎকচের বিক্রমে কৌরবেরা দিশেহারা বোধ করতে লাগল।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে ঘটোৎকচ একটি চক্রযুক্ত শতঘ্নী নিক্ষেপ করে কর্ণের রথের চার অশ্ব বধ করে। কৌরবগণ তখন ঘটোৎকচের বিক্রমের সাথে টিকতে না পেরে কর্ণকে অনুরোধ করে ইন্দ্রদত্ত শক্তি অস্ত্রে ঘটোৎকচকে বধ করতে। প্রথমত কর্ণ ইতস্তত করতে থাকে কারণ সে ঐ অস্ত্র দিয়ে অর্জুনকে বধ করবে বলে ঠিক করে রেখেছিল। কিন্তু ঘটোৎকচের ভয়াবহ বিক্রম দেখে অনন্যোপায় হয়ে কর্ণ ইন্দ্রদত্ত ‘বৈজয়ন্তী’ শক্তি ঘটোৎকচের প্রতি নিক্ষেপ করে।
ভয়ংকর কালরুদ্র সদৃশ এই শক্তি যখন ঘটোৎকচের দিকে ধেয়ে যায় ঘটোৎকচ বুঝতে পারে তার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে। তখন সে একটি অদ্ভুত কাজ করে। সে তার নিজের শরীরকে বিন্ধ্য পর্বত সদৃশ বিশাল করে তোলে।
কর্ণের নিক্ষিপ্ত শক্তি ঘটোৎকচের সকল মায়া ছিন্ন করে ও তার বক্ষ বিদীর্ণ করে ইন্দ্রলোকে চলে যায়।
ঘটোৎকচ পর্বতের মত বিশাল শরীর নিয়ে কৌরবসৈন্যদের মধ্যে পতিত হয়; তার প্রাণহীন দেহের ভারে কৌরব বাহিনীর এক অংশ নিষ্পেষিত ও ধ্বংস হয়ে যায়।
এভাবে ঘটোৎকচ তার মৃত শরীর দ্বারাও শত্রুপক্ষের ভয়াবহ বিনাশ করে যায়।

ভীষ্ম পর্ব

যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ঘটোৎকচ কৌরব যুবরাজ দুর্যোধনকে পরাজিত করেন। চতুর্থ দিনে ঘটোৎকচের সঙ্গে প্রাগজ্যোতিষ (বর্তমান আসাম) রাজ্যের রাজা ভগদত্তের তীব্র যুদ্ধ হয়, কিন্তু সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ায় জয়-পরাজয় ব্যতিরেকেই যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে সপ্তম দিনে ভগদত্ত ঘটোৎকচকে দ্বৈরথ যুদ্ধে পরাজিত করেন। অষ্টম দিনে ঘটোৎকচ দ্রোণাচার্য, অশ্বত্থামা, দুর্যোধন, জয়দ্রথসহ বহু কৌরব মহারথীকে পরাজিত করেন।

দ্রোণ পর্ব

যুদ্ধের চতুর্দশ দিনে সূর্যাস্তের পরও যুদ্ধ চলছিল। রাত্রিতে রাক্ষসদের শক্তি বেড়ে যায় বলে এসময় ঘটোৎকচ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। কৌরবপক্ষ অবলম্বনকারী দুই রাক্ষস অলম্বুশ ও অলায়ুধ ঘটোৎকচের হাতে নিহত হন। এরপর ঘটোৎকচ কৃষ্ণের নির্দেশে কর্ণকে আক্রমণ করেন। ঘোরতর যুদ্ধের পর কর্ণ দেবরাজ ইন্দ্রের একাঘ্নী অস্ত্র ঘটোৎকচের দিকে নিক্ষেপ করলে এর আঘাতে ঘটোৎকচ নিহত হন। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে ঘটোৎকচ বিশালাকার ধারণ করায় তাঁর শব কৌরব সৈন্যবাহিনীর ওপরে পতিত হয় এবং এক অক্ষৌহিণী সৈন্য নিহত হয়।


তথ্য সূত্র https://bn.wikipedia.org/







 

Wednesday, September 2, 2020

Post # 996 Bengali Amarchitra Katha 058

                                                                        ডাউনলোড করুন

বিজ্ঞান মতে সূর্য হল সমস্ত শক্তির আধার। সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ চালু থাকে সূর্যের শক্তি নিয়েই। আবার দেবতা হিসেবে সূর্যের উপাসনা ছিল প্রাচীন সভ্যতার অঙ্গ। সে-সময় ধর্মবিশ্বাস এবং প্রকৃতিনির্ভরতা মানুষের জীবনচর্যার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিল। ঋগ্বেদে সবিতা, আদিত্য, বিষ্ণু, বরুণ, পুষা, অর্যমা, ভগ, মিত্র, সূর্য প্রভৃতি নানা নামে যে দেবতার পরিচয় পাওয়া যায় তিনিই পুরাণে সূর্য অভিধায় অভিহিত হয়ে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। পৌরাণিক অভিধান মতে, আর্যদের উপাস্য দেবতা হল সূর্য। সূর্য, সবিতা, আদিত্য, বিবস্বান, বিষ্ণু-পাঁচটি নামে সূর্যের স্তুতি পাওয়া যায়। আর্যজাতির বিভিন্ন শাখায় সূর্যের উপাসনা দেখতে পাওয়া যায়। ইনি গ্রীকদের 'হেলিয়স' নামে, লাতিনদের কাছে 'সল', টিউটনদের কাছে 'টিয়ার', ইরানীদের কাছে 'খুরসিদ' নামে পরিচিত। হেলিয়স থেকে হেলিওথেরাপি বা সূর্যালোক হাজার হাজার বছর ধরে চর্মরোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। চিকিৎসায় হেলিওথেরাপি প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায় ১৪০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। ত্বকের বিভিন্ন রোগে কিছু উদ্ভিজ পদার্থকে ব্যবহার করে রোগীকে সূর্যস্নান করানোর পদ্ধতি চালু ছিল। সূর্যরশ্মি যে-সমস্ত রোগের নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে সেগুলি হল সোরিয়াসিস, ভিটিলিগো, ক্যান্সার ইত্যাদি। এমনকি উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নিলস রিবার্গ ফিনসেন (১৮৬০-১৯০৪) সৌরশক্তির রোগনিরাময় ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করেন এবং ১৯০৩ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। সুতরাং সহজেই অনুমেয় যে দেবতা রূপে, শক্তির আধার রূপে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে সূর্যের গুরুত্ব অপরিসীম। আবার আমাদের মহাকাব্যেও সূর্যের আলোকোজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত এবং শম্ভুনাথ কুণ্ডু প্রণীত 'প্রাচীন বঙ্গে পৌরাণিক ধর্ম ও দেবভাবনা' গ্রন্থ উল্লেখ করে বলা যায় যে, বৈদিক যুগে বিষ্ণু ও সূর্য ছিলেন অভিন্ন। কিন্তু পৌরাণিক দেবভাবনায় তাঁরা ভিন্ন হলেন এবং বিষ্ণুকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক সম্প্রদায় শুধু গড়ে ওঠেনি---ক্রমশ বিস্তার ও ব্যাপ্তি লাভ করে। অপরপক্ষে যে সূর্যের প্রতি প্রার্থনা বা স্তূতি সীমিত ছিল ব্রাহ্মণদের গায়ত্রীমন্ত্রে তিনি ক্রমশ একটি মূর্তি হিসেবে পূজিত হতে লাগলেন, যখন শাকদ্বীপ থেকে মগদ্বিজরা এসে সেই মূর্তিপূজার বিধিমতো ব্যবস্থা করলেন। বঙ্গদেশীয় বিভিন্ন লেখমালায় তাঁর সশ্রদ্ধ উল্লেখ তাঁকে স্বমহিমায় বরেণ্য করেছে।

রাজশাহী জেলার জগদীশপুর তাম্রশাসনে গুল্মগন্ধিকায় সহস্ররশ্মি (সূর্য)-র মন্দির নির্মাণ এবং পুজোর ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য ভূমিদান করেন ক্ষেমার্ক, ভোয়িল ও মহিদাস নামে তিন গৃহস্থ। আনুমানিক ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যভাগে বর্ধমান জেলার গলসীর কাছে প্রাপ্ত গোপচন্দ্রের বর্ধমানভুক্তির মল্লসারুল তাম্রশাসনে লোকনাথ ধর্মের উদ্দেশে প্রণাম নিবেদিত হয়েছে---'জয়তী শ্রীলোকনাথঃ ষঃ পুংসাং সুকৃৎ-হেতু।/সত্য-তপোময়মূর্ত্তিল্লোকদ্বয়-সাধনো ধর্মঃ।।'' বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ণনা ও মূর্তিবিচারে লোকনাথ ধর্মরূপী সূর্যই। এই সূর্য শাকদ্বীপী মগ ব্রাহ্মণগণ আনীত উদীচ্যবেশী। নীহাররঞ্জন রায়ের মতে গুপ্ত এবং গুপ্তোত্তর পর্বে বাংলাদেশে সৌরধর্ম কতকাংশে প্রতিপত্তি লাভ করে এবং তাকে কেন্দ্র করে একটি বিশিষ্ট সৌর সম্প্রদায়ও গড়ে উঠেছিল। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর এবং হুগলি জেলা থেকে প্রাপ্ত দুটি পূর্ণাবয়ব সূর্য মূর্তি, বর্ধমান জেলা থেকে ভগ্ন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একাধিক সূর্য মূর্তি, নবগ্রহ মূর্তি স্থান পেয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায়। বেলকাশ থেকে মল্লসারুলের দূরত্ব আহামরি কিছু নয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় রক্ষিত বর্ধমান জেলা থেকে পাওয়া একাধিক সূর্যমূর্তি বর্ধমান এবং সংলগ্ন এলাকার সৌরসম্প্রদায়ের স্তূতি বা ব্যাপ্তি যে ছিল তার মান্যতা দেয়।

দিনাজপুর জেলার বৈরহাট্টা গ্রামে প্রাপ্ত আসীন সূর্যমূর্তির পাদপীঠে উৎকীর্ণ লিপি 'সমস্ত-রোগাণাং হর্ত্তা' বঙ্গদেশে সূর্যের রোগবিনাশী রূপটি প্রকাশ করে। ভবিষ্য, শাম্ব, বরাহ, স্কন্দ প্রভৃতি পুরাণে সূর্য কর্তৃক কৃষ্ণ ও জাম্ববতীর পুত্র শাম্বের কুষ্ঠরোগমুক্তির কাহিনিকে সমর্থন করে। শাম্ব কর্তৃক মথুরায় প্রতিষ্ঠিত সূর্যবিগ্রহের নাম শাম্বাদিত্য। কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে কবি ময়ূরভট্ট 'সূর্যশতক' রচনা করেছিলেন। সূর্যদেবতার কুষ্ঠরোগ নিবারক গুণটির জন্য তিনি জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। পরবর্তীকালে ধর্মঠাকুরের মধ্যেও সূর্যের এই গুণটি আরোপিত হয়েছিল। মনে করা হয় যে বঙ্গদেশে ধর্মঠাকুরের ব্যাপক জনপ্রিয়তার জন্য সূর্যের বিগ্রহ পূজার চলন হ্রাস পায়।

দক্ষিণ দামোদরের শাঁকারি গ্রামের কবি নরসিংহ বসু যে ধর্মঠাকুরকে দেখে ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনায় (১৭১৪ খ্রিস্টাব্দ) হাত দিয়েছিলেন সেই জুজুটি গ্রামের ধর্মঠাকুরের খোঁজে গিয়ে বর্তমান প্রবন্ধে আলোচ্য সূর্যমূর্তিটি নজরে আসে লেখকের। সহকর্মী মিলিকপাড়ার শ্রীমন্ত মণ্ডলের পরিচিত পাশাপাশি গ্রাম জুজুটি। তারই দ্বিচক্রযানে ফেরার পথে বেলকাশ গাজনতলার উল্টোদিকে বাঁধের লাগোয়া হাতির পিঠের মতো প্রাচীন বাংলার দোচালা রীতির ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়ানো একটি মন্দির চোখ টেনেছিল। মন্দিরের ওপরের দুটি অশ্বত্থ গাছের শিকড় গ্রাস করেছে গোটা মন্দিরটিকে। পাতলা ছোটো ইটে তৈরি মন্দিরের বাইরের দিকের আর্চওয়ে এবং লম্বালম্বি প্যানেলে কিছু টেরাকোটার নিদর্শন এখনও চোখে পড়ে। সামনের দিকে ত্রিখিলান যুক্ত প্রবেশপথগুলি দামোদরের পুরোনো বাঁধের মাটিতে প্রায় পোঁতা। সামান্য অংশই দেখা যায়। মূল প্রবেশপথের (এখন বন্ধ) ওপরের দেওয়ালের ইট সরিয়ে কিছুটা কেটে আলোর পথ করা হয়েছে। কারো মতে, এই পথ দিয়েই মন্দিরের মূর্তি চুরি হয়েছে স্মরণাতীত কালে। কেন এসেছি এই কৌতূহলে জুটে যায় কিছু উৎসাহী মানুষও। সংলগ্ন রায়পরিবারের কর্তা মন্দিরের ভেতরে নিয়ে যান। পিছন দিকে এক খিলানযুক্ত প্রবেশপথে মাথা নিচু করে ঢুকতে হয়। অন্ধকার ভেতরে টর্চ বা মোবাইল জ্বালালে চোখে পড়বে এই মন্দিরের পক্ষে অবাক করা একটি সূর্য মূর্তি।

গৃহকর্ত্রী শিবানী রায় এবং তাঁর পুত্র রানা পাশের দামোদর নদে মাছ ধরে জীবন যাপন করেন। বছর পাঁচেক আগে দামোদরে ফাঁদি জাল পেতে মাছ ধরার সময় মায়ের পায়ে ঠেকে পাথরটি। কী জিনিস আগ্রহে তুলে দেখেন সেটি একটি মূর্তি! ভারি মূর্তিটি পুত্রের মাথায় তুলে বাড়ি নিয়ে এসে পরিষ্কার করে বসান ভাঙা মন্দিরে। মূর্তি দেখতে আসা মানুষজনের কাছে তিনি জানতে পারেন সেটি সূর্যমূর্তি। বর্ধমানে এই সূর্য মূর্তি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় প্রথম আলোকপাত করেন আঞ্চলিক ইতিহাসসন্ধানী সঞ্জীব চক্রবর্তী।

পাথরে খোদিত সূর্যমূর্তিটি দৈর্ঘেপ্রস্থে যথাক্রমে ২৭ এবং ১৪.৫ ইঞ্চি। মূর্তিশৈলী বিশেষজ্ঞদের মতে মূর্তিটি পাল-সেন যুগের। কোমরবন্ধ সহ মূর্তিটি কীরিটধারী, সনাল পদ্ম দুই হাতে। আছেন দণ্ডী ও পিঙ্গল এবং অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানানো ঊষা ও প্রত্যুষা। সপ্তাশ্ববাহিত রথের সারথি অনূরু বা অরুণ। পুরাণ মতে অনূরু কশ্যপ ও বিনতার পুত্র, গড়ুরের জ্যেষ্ঠ। প্রসূত ডিম্ব দীর্ঘদিন বিদীর্ণ না হওয়ায় বিনতা অকালে তা বিদীর্ণ করেন। অর্ধপুষ্ট অরুণ ঊরুহীন হওয়ায় তাঁর নাম অনূরু। নারদের নির্দেশে অরুণ শিবকে সন্তুষ্ট করে সূর্যরথের সারথ্য লাভ করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সূর্যরথের সাতটি ঘোড়া সংস্কৃত সাত ছন্দের নামে---গায়ত্রী, বৃহতি, উষ্ণিক, জগতি, ত্রিষ্টুপ, অনুষ্টুপ এবং পঙ্‌ক্তি।

তাঁর সূর্য ঠাকুরের পুজো কী ভাবে করান জানতে চাওয়ায় শিবানী রায়ের প্রথম উত্তর ছিল, আমার নিজেরই খাওয়া জোটে না তো ঠাকুরকে কী খাওয়াবো! ঠাকুর পেয়ে প্রথমবার ব্রাহ্মণ ডেকে হোম করিয়ে সবাইকে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ান। আর পেরে ওঠেন না। নিত্যদিন জল-বাতাসাও দেওয়া হয়ে ওঠে না তাঁর। মূর্তি দেখতে আসে মানুষজনের কেউ কেউ মালিকানাহীন মন্দিরটি সারিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা হয়নি। প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চেয়েও বিফল হয়েছেন শিবানী রায়। পরিবারের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে মূর্তি নিয়ে নেবার লোভ দেখাচ্ছেন। দোটানায় পড়ে যাচ্ছেন শিবানীদেবী। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে এলে রক্ষা পায় আগলহীন মন্দিরে একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা সূর্যমূর্তিটি।