Sunday, January 8, 2023

Post # 1090 Bengali Amarchitra Katha 284

                                          ডাউনলোড করুন

 

জন্ম ও পরিবার

আলবার্ট আইনস্টাইন ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট শহর ‘ উল্‌ম ‘এক সমৃদ্ধ ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন সাধারণত একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে । তার পিতা হেরমান আইনস্টাইন ছিলেন একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার যিনি একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কারখানার মালিক। তার মাতা পলিন ছিলেন একজন গৃহনী যিনি তার পরিবারের সমস্ত কাজকর্ম সামলাতেন। এছাড়া আইনস্টাইন এর দুই বছরের ছোট একটা বোন ছিল যার নাম ছিল মজা।

আলবার্ট আইনস্টাইনের ছেলেবেলা

আলবার্ট আইনস্টাইন জার্মানির উল্‌ম শহরে জন্মগ্রহণ করলেও তার পিতার ব্যবসার কারনে উল্‌ম শহর ত্যাগ মিউনিখে শহরে চলে আসে এবং সেখানে তিনি বেড়ে উঠে।

ছোটবেলা থেকেই অন্যান্য শিশুদের তুমনাই দুর্বল ছিল এমন কি এও জানা যায় কি তিনি ৯ বছর বয়স পর্যন্ত ঠিকমতো কথা বলতে পারতো না। সেসব সত্ত্বেও তার মনে কৌতুহল কম ছিল না যেকোনো যন্ত্র দেখলেই তার মনে বিষ্ময় হতো যে যন্ত্রটি কিভাবে কাজ করছে।

ছোটবেলায় তার ক্লাস কেউ সঙ্গী ছিল না তাই তিনি পিছনের বেঞ্চে একাই বসতো। তার একমাত্র সঙ্গী ছিল তার মা, তিনি তার মা এর কাছ থেকে বেহালা বাদ্যযন্ত্রটি বাজানো শিখেছেন।

একবার তার জন্মদিনে তাকে একটু কম্পাস উপহার দেওয়া হছে। সেই কম্পাসের নিজে নিজে দিক পরিবর্তন দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে উঠে।

এছাড়া তিনি ছোটবেলা থেকে জ্যামিতি ও ক্যালকুলাস এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি খুব শীঘ্রই ক্যালকুলাস প্রধান দুটি শাখা সমকালন ও অন্তরক ক্যালকুলাস আয়াত করে ফেলেন।

যখন আলবার্ট আইনস্টাইন দশ বছর হয় তখন তিনি একজন বিজ্ঞান এর ছাত্র এর কাছে পড়াশোনা করতেন তিনি তাকে আরো উচ্চতর গণিত এবং দর্শন এর ব্যাপারে শিক্ষা দিয়েছিলেন।

এছাড়া তিনি ছোট থেকেই আলোর বিষয়ে তার মনে কৌতুহলের সৃষ্টি করেন আলো কি আলোর তরঙ্গের সাথে ভ্রমন করলে কি হবে? এই সব প্রশ্ন তার মনে চলতে থাকতো।

আলবার্ট আইনস্টাইনের শিক্ষা জীবন

আলবার্ট আইনস্টাইন জার্মানির উল্‌ম শহরে জন্মগ্রহণ করলেও তার পরিবার মিউনিখ শহরে চলে আসায় তার পড়াশোনা এবং শিক্ষার আরম্ভ সেখান থেকেই শুরু হয়।

আলবার্ট আইনস্টাইনের ৫ বছর বয়সে সর্বপ্রথম প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ক্যাথলিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তুু সেই সময় তিনি স্কুলে যেতে পছন্দ করতো না কারণ স্কুলে তার কোনো বন্ধু ছিল না। প্রায় তিনি ক্লাসের শেষ বেঞ্চ বসে চিন্তা করতে থাকতো সেই কারনে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে মানসিক দিক থেকে দুর্বল বলে তার মাতা পিতার কাছে অভিযোগ করে।

এরপর ৮ বছর বয়সে তাকে লুইটপোল্ড জিমনেসিয়ামে ভর্তি হয় এবং সেখান থেকে তিনি তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকে।

১৩ বছর বইয়াসে তিনি জামিতি এবং কলকুলাস প্রতি আগ্রহী হলে উঠেন। তিনি খুব শীঘ্রই ক্যালকুলাসের প্রধান দুটি শাখা সমকালন ও অন্তরকাল কালকুলাস আয়াত করে ফেলেন।

১৫ বছর বয়সে, তিনি খুব সহজেই গণিতের সবচেয়ে কঠিন সমস্যার সমাধান করতেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন ১৬ বছর বয়সে তার মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কে স্কুলের পড়াশোনা ভালো না লাগার কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তির জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে।

আলবার্ট আইনস্টাইন সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে ভর্তি হওয়ার জন্য এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেন কিন্তু সেখানে ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ব্যর্থ হন।

তারপর তার অধ্যাপক পরামর্শ দিয়েছিলেন যে সবার আগে তাকে সুইজারল্যান্ডের আউতে ‘ক্যান্টনাল স্কুল’ তে ডিপ্লোমা করা উচিত। এর পরে, ১৮৯৬ সালে, সে ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশিকা পাবেন। তিনি অধ্যাপকের পরামর্শ বুঝতে পেরেছিলেন আইনস্টাইন তার শিক্ষকের কথামতন কাজ করে ও ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে ভর্তি হয়ে যায়।

আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০০ সালে ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতক হন।

পরবর্তীকালে ১৯০৫ সালে, ২৬ বছর বয়সে তিনি তার জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার Phd ডিগ্রি অর্জন করেন।

আলবার্ট আইনস্টাইনের কর্মজীবন

স্নাতক পাস করার পরেও চাকরি না পাওয়ের কারণে, আলবার্ট আইনস্টাইনে পিতা তাকে একটি পেটেন্ট আফিসে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে তিনি প্রথমে একজন সহযোগি পরীক্ষকের কাজে নিয়োগ হলেও পরবর্তীকালে তিনি সে পেটেন্ট আফিস টেকনিক্যাল গবেষক এর পদে উন্নতি লাভ করেন।

১৯০৫ সালে পেটেন্ট অফিসে কাজ করা কালীন তিনি জার্মানিতে আয়োজিত একটি বিজ্ঞান সম্মেলন তার গবেষণা পত্র গুলো প্রকাশ করেন। তার গবেষণা পত্র গুলির মধ্যে ৪টি প্রধান গবেষণা বৈজ্ঞানিক দের মহলে তোলপাড় করে তোলে। তার চারটি প্রধান গবেষণা গুলি ছিল –

  • আলোক তড়িৎ ক্রিয়া প্রতিপাদন।
  • আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব আবিষ্কার।
  • ভর-শক্তি সমতা – বিখ্যাত E = mc2 সূত্র
  • ব্রাউনীয় গতি – আণবিক তত্ত্বের সমর্থন।

তার এই গবেষণা প্রকাশের পর থেকেই তার আলোচনা শুরু হতে থাকে কিছু বৈজ্ঞানিক তার গবেষণা পত্রকে সমর্থন করেন কিছু বৈজ্ঞানিক তার গবেষণা ভুল বলে।

তারপর তিনি সেই পেটেন্ট অফিসে কাজ করার সাথে সাথে তার অন্যান্য গবেষণামূলক কাজ গুলি চালিয়ে যেতে থাকেন।

পরবর্তীকালে তিনি ১৯০৯ সালে বার্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষকের চাকরির করেন পরে আইনস্টাইন জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এর জন্য নাম জমা দেন। এর দু’বছর পরে তিনি চেকোস্লোভাকিয়ার প্রাগের জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি ৬ মাসের মধ্যে ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অধ্যাপক হয়েছিলেন।

১৯১৩ সালে, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক এবং ওয়ালথার নর্নস্ট জুরিখ এসে আইনস্টাইনকে জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকারী গবেষণা অধ্যাপক হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

১৯২0 সালে, আইনস্টাইন হল্যান্ডের লেডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আজীবন সম্মানজনক সম্মানিত অধ্যাপক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপরে, তার ক্যারিয়ার একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এছাড়া আইনস্টাইন তার জীবনে শত বই এবং গবেষণা পত্র লিখেছিলেন, যা আজও বিজ্ঞানীদের নতুন দিশা দেখাতে সাহায্য করে।

বিবাহ ও দাম্পত্য জীবন

আলবার্ট আইনস্টাইন তার জীবনকালে দুইবার বিবাহ করেন। আইনস্টাইন ওয়ালিস স্কুলে পড়াকালীন তার বন্ধুর মিলেভা মেরিক সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকাই পরবর্তীকালে ১৯০৩ সালে বিবাহ করেন। এবং বিয়ের পর তাদের দুটি সন্তান হয়। পরে আলবার্ট আইনস্টাইন এলসাকে ১৯১৯ সালে বিবাহ করে। আলবার্ট আইনস্টাইনের প্রথম বিয়ের অপেক্ষায় দ্বিতীয় বিয়েতে বেশি সুসম্পর্ক স্থাপন হয়।

আলবার্ট আইনস্টাইনের আবিষ্কার

আলবার্ট আইনস্টাইন তার জীবনকালে একাধিক আবিষ্কার করেছিল, যার কারণে তার নাম বিশ্বের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মধ্যে গণনা করা হয়। তার কিছু উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার গুলো নিম্নরূপ আলোচনা করা হলো -[

আলোর কোয়ান্টাম থিওরি – আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বটিতে আলবার্ট আইনস্টাইন আলোর সবথেকে ছোট আলোর তরঙ্গ ফোটন কণার খোঁজ করেন। তিনি এই তত্ত্বের মাধ্যমে ধাতব বস্তু থেকে ইলেকট্রন নির্গমনের পরীক্ষা করে দেখান। পরে ১৯০৫ সালে তিনি “ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট” আবিষ্কার করেন। পরবর্তীকালে এই তত্ত্বটি কে কাজে লাগিয়ে, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল ডিভাইস সৃষ্টি করা হয়।

E = MC বর্গ – আইনস্টাইন ভর এবং শক্তির মধ্যে একটি সমীকরণ প্রমাণিত, আজ একে পারমাণবিক শক্তি বলা হয়

বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব – ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব টি প্রকাশ করেন। তিনি এই তত্ত্বের মাধ্যমে সময় এবং গতির মধ্যে সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করেন। এবং তিনি গাণিতিক ক্যালকুলেশন এর মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে এই মহাবিশ্বে এ আলোর গতি স্থির বা ধূর্বক।

সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব – বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করার পর, ১৯১৫ সালে তিনি সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি ব্যাখা করেন। এই তথ্যের মাধ্যমে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ও নিউটনের মহাকর্ষ মধ্যাকর্ষণ শক্তির ব্যাপারটি সহজ ভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

আলবার্ট আইনস্টাইনের অন্যান্য আবিষ্কার

  • আজ প্রায় সকলে রেফিরেজেটার বা ফ্রিজ এর ব্যবহার করে। তবে আপনি কি জানেন রেফিরেজেটার তৈরির প্রযুক্তিটি আবিষ্কার করতে আলবার্ট আইনস্টাইন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি অ্যামোনিয়া, জল এবং বুটনে এর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি রেফিরিজেরটার এর আবিষ্কার করেন।
  • আকাশ নীল কেন? এই প্রশ্নটি মাঝে মধ্যে সবার মনে আসে। কিন্তুু আলবার্ট আইনস্টাইন বৈজ্ঞানিক ভিক্তিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর সবার সামনে তুলে ধরে।

আইনস্টাইনের বিদেশ ভ্রমণ ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলন

আইনস্টাইনকে তার জীবনকালে একাধিক দেশের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এবং বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করা হই।

তিনি সর্বপ্রথম ১৯২১ সালে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে সফরে যান এবং সেখানে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কলম্বিয়া এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বক্তিতা দেন।

এরপর তিনি ইউরোপ মহাদেশের এর বিভিন্ন দেশে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ইউরোপের সফরে তিনি ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরের একাধিক বৈজ্ঞানিক এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানকার কিংস বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার শিক্ষার্থীদের সামনে তার বক্তব্য প্রদান করেন।

১৯২২ সালে তিনি এশিয়া মহাদেশের জাপান, সিঙ্গাপুর, ইত্যাদি দেশ ভ্রমণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ এবং আইনস্টাইন এর সাক্ষাৎ

১৯৩০ সালে ১৪ ই জুলাই এলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনে তার বাড়িতে দার্শনিক, কবি, সঙ্গীতজ্ঞ নোবেল জয়ী কবিশুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ করেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আইনস্টাইন বিজ্ঞান, ধর্ম, ভারতীয় সংস্কৃতির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আইনস্টাইনের উপাধি ও সম্মান

আলবার্ট আইনস্টাইনকে তার বৈজ্ঞানিক কাজ কর্মের জন্য তাকে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান দেওয়া হয়। এমনকি পদার্থ বিজ্ঞান মহলে তাকে বিজ্ঞানীদের ভোটের মাধ্যমে তাকে সেরা পদার্থবিজ্ঞানী উপাধি দেওয়া হয়। এছাড়া কেউ যদি খুব বুদ্ধিমান হয় তাহলে তাকে আইনস্টাইন বলে ডাকা হয়, তার কিছু প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মান গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো –

  • ১৯২১ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনকে পদার্থবিদ্যায় অতুলনীয় কার্যের জন্য তাকে পদার্থ বিজ্ঞানের সর্বোচ সম্মানজনক পুরুস্কার “নোবেল” দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
  • ১৯২১ সালে আইনস্টাইনকে রয়্যাল সোসাইটির বিদেশি সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ১৯১৬ সালে জার্মানির ফিজিক্যাল সোসাইটির তরফ থেকে আলবার্ট আইনস্টাইনকে সভাপতির পদের জন্য নির্বাচিত করেন।
  • ১৯২৫ সালে আইনস্টাইনকে রয়েল সোসাইটির পক্ষ থেকে “কপলি পদক” দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
  • পরবর্তীকালে ১৯৯৯ সালে আমেরিকার একটি বিখ্যাত ইংরেজি ম্যগাজিন “টাইমস” এর দ্বারা “শতাব্দীর সেরা ব্যাক্তির ” আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

আলবার্ট আইনস্টাইন সালে জার্মানি ত্যাগ করে আমেরিকার নিউ জার্সিতে থাকতে বসবাস শুরু করেন। আইনস্টাইন সেখানে প্রিস্টন কলেজে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫৫ সালে ১৮ এপ্রিল ৭৫ বছর বয়সে মহান বিজ্ঞানী পরলোক গমন করেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন সম্পর্কে আকর্ষণীয় তথ্য

আপনি নিশ্চই আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী থেকে তার সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পরেছেন। এইবার তার সম্পর্কে কিছু মজার এবং আশ্চর্যজনক তথ্য রয়েছে সেই ব্যাপারে জানবো –

  • ১৪ মার্চ আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্মদিনকে সারা বিশ্ব জুড়ে ‘জেনিয়াস ডে’ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।
  • আইনস্টাইন ছোটবেলায় পড়াশোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে খুব দুর্বল ছিলেন।
  • আলবার্ট আইনস্টাইনকে একবার রষ্টপাতি হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং বলেন -” তিনি রাজনীতির জন্য তৈরি নই।”
  • আইনস্টাইন ছিলেন একজন প্রখর বুদ্ধি সম্পন্ন বিজ্ঞানী তার সত্বেও তিনি তারিক, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ইত্যাদি মনে রাখতে পারত না।
  • আলবার্ট আইনস্টাইন কে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কিন্তুু তার সাথে যে ধনরাশিটি পাওয় যেতো তিনি সেটি পাইনি।
  • আলবার্ট আইনস্টাইন নিজেকে সংশয়বাদী বলেছিলেন, তিনি নিজেকে কখনই নাস্তিক বলেনি।




 

Saturday, January 7, 2023

Post # 1089 Bengali Amarchitra Katha 279

                                        ডাউনলোড করুন

 

পঞ্চতন্ত্রের গল্পগুলির মতোই জাতকের কাহিনী গুলিতে অনেক নীতি ও উপদেশ ছড়িয়ে আছে । পঞ্চতন্ত্রের মতোই এখানেও পশু পাখির ছড়াছড়ি – তারা সবাই মানুষের মতো কথা বলে , কখনো বা মানুষের মতোই ভাবে , তাছাড়া শুধু মানুষকে নিয়েও গল্প আছে ।

অবস্য পঞ্চতন্ত্রের তুলনায় জাতকের কাহিনীগুলিতে রাজ ধর্মের মানব ধর্মকেই বড় করা হয়েছে , পঞ্চতন্ত্রের গল্প গুলি তৈরি হয়েছিল রাজার ছেলেদের রাজনীতি শেখানোর জন্য , আর জাতকের কাহানী গুলির উদ্দেস্য ছিল বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করা । জাতকেরা সবাই প্রখর বুদ্ধিমান , কিন্তু অপরের জন্য সহানুভূতি ও ত্যাগ স্বীকারকে তাঁদের বুদ্ধি তাঁদের বুদ্ধি কখনো ছোট করে দেখেনা । বরং বিপদের সময় তাকে আড়াল করে নিজেই শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে । জাতকের গল্পগুলির এখানেই সবচেয়ে বড় মজা ।   






 

Friday, January 6, 2023

Post # 1088 Bengali Amarchitra Katha 278

                                                                        ডাউনলোড করুন

                                                         বিম্বিসার ও অজাতশত্রু

বিম্বিসারকে বলা হয় মগধের হর্যঙ্ক বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। এর পিতার নাম ছিল ভট্টিয় বা মহাপদ্ম। বৌদ্ধগ্রন্থ মহাবংশ থেকে জানা যায়, বিম্বিসার ১৫ বৎসর বয়সে রাজপদে অভিসিক্ত হন। সিংহলী ঐতিহ্য অনুসারে জানা যায়― বিম্বিসারের রাজত্বের সূচনা হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৫ অব্দে। এই বিচারে বলা হয়, তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪০ (মতান্তরে ৫৫৮) অব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

বিম্বিসারের পিতা মহাপদ্মের সাথে অঙ্গরাজের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মহাপদ্ম পরাজিত হলে, মগধ অঙ্গরাজ্যের অধিনস্থ হয়। এই কারণে বিম্বিসার ক্ষমতা লাভের পর থেকেই এর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি রাজ্যকে প্রথমে স্থিতিশীল অবস্থায় এনে সেনাবহিনীকে শক্তিশালী করেন। অবশেষে তিনি একটি বিশাল সেনবাহিনী তৈরি করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই সময় অঙ্গরাজ্যের রাজা ছিলেন উদয়ন। এই যুদ্ধে উদয়নকে পরাজিত করে বিম্বিসার অঙ্গরাজ্য জয় করেন।

এরপর তিনি কোশল রাজকন্যাকে বিবাহ করে কাশীরাজ্যের একটি অংশ যৌতুক পান। এর ফলে মগধরাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হয়। এরপর তিনি বৈশালী রাজবংশের লিচ্ছবি রাজকন্যাকে বিবাহ করেন। এরফলে বিম্বিসার হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হন। এই দুটি বিবাহের ফলে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো মগধ আক্রমণ থেকে বিরত থাকে। এরপর বিম্বিসার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে গান্ধাররাজ্যের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন। এরপর তিনি অবন্তী-রাজ প্রদ্যোৎ-এর সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। এর ফলে বিম্বিসার যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়াই একটি বিশাল অঞ্চলের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিম্বিসার বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। ফলে তিনি ঠিক কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন, এ নিয়ে মতভেদ আছে। জৈন ও বৌদ্ধ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীর-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

গৌতম বুদ্ধ
গৃহত্যাগের পর প্রথম বৈশালী নগরে (বজ্জি (বৃজি গণতন্ত্র) মহাজনপদের রাজধানী) যান এবং সেখানে থেকে আরাল কালাম নামক পণ্ডিতের কাছে হিন্দু দর্শনে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। কিন্তু এই জ্ঞানে পরিতৃপ্ত হতে পারেন নি। তাই এখান থেকে তিনি উদ্দক রামপুত্তের কাছে শিক্ষাগ্রহণের জন্য আসেন। এই গুরুর কাছে তিনি সাংখ্য এবং যোগবিদ্যা শেখেন। এই নতুন জ্ঞানও তাঁকে শান্ত করতে পারলো না। এরপর তিনি মগধের রাজধানী রাজগিরীতে আসেন। লোকমুখে নতুন সন্ন্যাসীর প্রশংসা শুনে বিম্বিসার তাঁর সাথে দেখা করেন এবং রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু বুদ্ধ এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, যদি কখনও সত্যের সন্ধান পান, তাহলে তিনি রাজার আমন্ত্রণ রক্ষা করবেন। এর কিছুদিন পর, বিম্বিসার এক যজ্ঞানুষ্ঠানের জন্য ১০০০ মেষ বলির উদ্যোগ নেন। এই কথা জানতে পেরে বুদ্ধ রাজার সাথে দেখা করেন এবং মেষ বলি থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। বিম্বিসার এই অনুরোধে বলি বন্ধ করে দেন। এরপর বুদ্ধ উরুবিল্ব গ্রামের নিকটবর্তী এক উপবনে এসে তপস্যা শুরু করেন। বোধিত্বলাভের পর বুদ্ধ, বুদ্ধগয়া'য় ছয় বছর কাটান। এরপর সারনাথ প্রায় দুই বছর পর, কাটিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তিনি মগধ রাজ্যের রাজধানী রাজগিরীতে আসেন। রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধ সংঘের সহস্রাধিক ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য বেণুবন নামক উদ্যানটি গৌতম বুদ্ধকে প্রদান করেন। এরপর বুদ্ধ তাঁকে চতুরার্য সত্য সম্বন্ধে উপদেশ প্রদান করেন। বিম্বিসারের অনুরোধে বুদ্ধ অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে উপোবাস ব্রত পালনের বিধি প্রচলন করেন। কথিত আছে, বিম্বিসারের অনুরোধেই বুদ্ধ বর্ষাকালে পরিব্রাজন না করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সাধনার বর্ষাবাস নামক রীতি প্রচলন করেন। ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের সুবিধার জন্য কুটীর নির্মাণ এবং বুদ্ধ ও ভিক্ষুদের চিকিৎসার জন্য রাজবৈদ্য জীবককে নিযুক্ত করেন। বিম্বিসারের তৃতীয়া পত্নী ক্ষেমা পরবর্তীকালে ভিক্ষুণী সংঘে যোগদান করে অর্হত্ত্ব লাভ করেন।

বিম্বিসারের মৃত্যু
দেবদত্তের প্ররোচনায় বিম্বিসারের পুত্র অজাতশত্রু তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন। বুদ্ধের মতাদর্শে বিশ্বাসী বিম্বিসার তাঁর পুত্রকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পুনরায় দেবদত্তের প্ররোচনায় অজাতশত্রু বিম্বিসার ও তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীকে গৃহবন্দী করে নিজেকে মগধের শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। ৪৯১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গৃহবন্দী অবস্থায় বিম্বিসারের মৃত্যু ঘটে।


বিম্বিসারের স্ত্রী কোশলদেবীর গর্ভে তাঁর পুত্র অজাতশত্রুর জন্ম হয়। কথিত আছে অজাতশত্রু তাঁর পিতা বিম্বিসারকে উপবাস করিয়ে হত্যা করেন। এই শোকে কোশলদেবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ধারণা করা হয় বিম্বিসার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯০-৪৯৩ অব্দের দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

 

অজাতশত্রু
ভারতের প্রাচীন জনপদ, মগধের রাজা। এর অপর নাম কূনিত।

এঁর পিতার ছিলেন রাজা বিম্বিসার। বিম্বিসার-এর স্ত্রী কোশলদেবীর গর্ভে তাঁর পুত্র অজাতশত্রুর জন্ম হয়। কথিত আছে অজাতশত্রু তাঁর পিতা বিম্বিসারকে কারাগারে প্রেরণ করেন। পরে তিনি পিতার হাত-পা কেটে তাতে নুন এবং অম্ল মাখিয়ে কষ্ট দেন। এরপর তাঁকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। এই শোকে তাঁর মা কোশলদেবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

ধারণা করা হয় বিম্বিসার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯০-৪৯৩ অব্দের দিকে মৃত্যুবরণ করেন। সেই হিসেবে তাঁর রাজত্বের শুরু হিসেবে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯০-৪৯৩ অব্দ ধরা হয়। সিংহাসন লাভের পর, অজাতশত্রু গঙ্গানদীর তীরস্থ পাটলিগ্রামে একটি ছোট দুর্গের মতো একটি বসতি তৈরি করেন। 

 বিম্বিসার-এর স্ত্রী এবং অজাতশত্রুর মা কোশলদেবী ছিলেন কোশল-রাজ প্রসেনজিৎ-এর বোন। বোনের অকাল মৃত্যুর জন্য প্রসেনজিৎ অজাতশত্রুকে দায়ী করেন এবং বোনের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রসেনজিৎ মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই সুযোগে বৈশালীর বৃজি ও পাবার মল্লরাও মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু বিম্বিসার-এর গড়া বিশাল সুদক্ষ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো বাহিনীই জয়লাভ করতে সক্ষম হয় নি। পরাজয় অনিবার্য মেনে প্রসেনজিৎ শেষ পর্যন্ত অজাতশত্রুর সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হন। সন্ধির শর্ত অনুসারে প্রসেনজিৎ তাঁর কন্যা ভাজিরার সাথে অজাতশত্রুর বিবাহ দেন। এই সময় বিবাহের যৌতুক হিসেবে প্রজেনজিৎ কাশী অঞ্চলকে অজাতশত্রুর হাতে অর্পণ করেন। এই ঘটনার পর থেকে কোশল রাজ্যের পতন শুরু হয়।

কোশল-রাজ প্রসেনজিতের সাথে দ্বন্দ্ব মিটে যাওয়ার পর, অজাতশত্রু বৈশালীর বৃজি ও পাবার মল্লরাদের শায়েস্তা করার জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে গঙ্গা এবং শোন নদীর সঙ্গমস্থলে পাটালিগ্রামে একটি অস্থায়ী দুর্গ নির্মাণ করেন। এরপর কূটনৈতিক তৎপরতায় স্থানীয় ছোট ছোট রাজ্যগুলোর ভিতরে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেন। এরপর দুর্বল রাজ্যগুলো আক্রমণ করে নিজ রাজ্যের অধিকারের আনেন। টানা ১৬ বৎসর যুদ্ধ করার পর অজাতশত্রু সমগ্র বৈশালী জয় করতে সক্ষম হন।

'অবদান-শতক' গ্রন্থ থেকে জানা যায়, প্রথম জীবনে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাঁর পিতা বিম্বিসার ছিলেন গৌতম বুদ্ধের ভক্ত। তিনি তাঁর অন্তঃপুরে বুদ্ধের পায়ের নাখ ও চুলের উপর একটি স্তূপ নির্মাণ করেছিলেন। অজাতশত্রু বিম্বিসার মৃত্যুর পর এই স্তূপে পূজা বন্ধ করে দেন। এক দাসী গোপনে পূজা দিতে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তিনি প্রজাদের  গৌতম বুদ্ধের কাছে যাওয়া নিষেধ করে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পিতাকে হত্যা করার জন্য দারুন মনোকষ্টে ভুগতেন। এই পরিতাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি বুদ্ধের সাথে দেখা করেন। ত্রিপিটকের সূত্রপিটকের দীর্ঘনিকায় অংশের 'সামঞ্‌ঞ ফল সূত্রে' দেখা যায়, তিনি গৌতম বুদ্ধের সাথে দেখা করে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। পরিশেষে তিনি বুদ্ধের কাছে পিতৃহত্যার কথা স্বীকার করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন।

গৌতম বুদ্ধ
নির্বাণলাভের পর, অল্প দিনের ভিতরে মতাদর্শগত বিভেদ প্রকট হয়ে উঠে। তা ছাড়া এই সময়ের ভিতরে বুদ্ধের যোগ্য শিষ্যদের অনেকে মৃত্যুবরণও করেন। বুদ্ধের বাণী এবং তার ব্যাখ্যা বিলীন হওয়া বা বিকৃত হওয়ার আশংকা তীব্রতর হয়ে উঠে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, ৪৮৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মগধের মহারাজ  অজাতশত্রুর সহায়তায় মহাকাশ্যপ এক বৌদ্ধসভার আয়োজন করেন। কথিত আছে রাজগৃহের সপ্তপর্ণী নামক গুহায় এই সভায় যোগদান করেছিলেন। এই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বুদ্ধের অন্যতম শিষ্য আনন্দের নেতৃত্বে সংগৃহীত হয়েছিল ধর্মাংশ এবং আর বুদ্ধের অপর শিষ্য উপালি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিনায়ংশ। পরে এই দুই সংগ্রহকে বিষায়ানুসারে ভাগ করে, তৈরি করা হয়েছিল বিনয়পিটক ও সূত্রপিটক। পরে সূত্রপিটকের একটি অংশ পৃথক করে অভিধম্মপিটক নামক তৃতীয় পিটক তৈরি করা হয়। এই তিনটি পিটকের সংকলনই হলো ত্রিপিটক।

একই সাথে তিনি জৈন ধর্মকে বিশ্বাস করতেন। তিনি বহুবার সপরিবারে জৈনগুরু মহাবীরের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

পালি সাহিত্যে জাতকের গল্প থেকে জানা যায় যে, অজাতশত্রু নিষ্ঠুর প্রকৃতির রাজা ছিলেন। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দের দিকে মৃত্যবরণ করেন। এঁরপর তাঁর পুত্র উদয়ন ৪৬০-৪৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। জাতকের গল্প থেকে জানা যায় যে, যেদিন অজাতশত্রর আদেশে তাঁর পিতাকে হত্যা করা হয় সেদিনই উদয়ন জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পুরাণ মতে অজাতশত্রুর পুত্রের নাম ছিল দারসোকা। আর উদয়ন ছিলেন দারসোকার পুত্র। এই বংশের শেষ রাজা নাগদাসকে হত্যা করে তাঁর মন্ত্রী শৈশুনাগ মগধের সিংহাসন অধিকার করেন।