Saturday, January 7, 2023

Post # 1089 Bengali Amarchitra Katha 279

                                        ডাউনলোড করুন

 

পঞ্চতন্ত্রের গল্পগুলির মতোই জাতকের কাহিনী গুলিতে অনেক নীতি ও উপদেশ ছড়িয়ে আছে । পঞ্চতন্ত্রের মতোই এখানেও পশু পাখির ছড়াছড়ি – তারা সবাই মানুষের মতো কথা বলে , কখনো বা মানুষের মতোই ভাবে , তাছাড়া শুধু মানুষকে নিয়েও গল্প আছে ।

অবস্য পঞ্চতন্ত্রের তুলনায় জাতকের কাহিনীগুলিতে রাজ ধর্মের মানব ধর্মকেই বড় করা হয়েছে , পঞ্চতন্ত্রের গল্প গুলি তৈরি হয়েছিল রাজার ছেলেদের রাজনীতি শেখানোর জন্য , আর জাতকের কাহানী গুলির উদ্দেস্য ছিল বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করা । জাতকেরা সবাই প্রখর বুদ্ধিমান , কিন্তু অপরের জন্য সহানুভূতি ও ত্যাগ স্বীকারকে তাঁদের বুদ্ধি তাঁদের বুদ্ধি কখনো ছোট করে দেখেনা । বরং বিপদের সময় তাকে আড়াল করে নিজেই শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে । জাতকের গল্পগুলির এখানেই সবচেয়ে বড় মজা ।   






 

Friday, January 6, 2023

Post # 1088 Bengali Amarchitra Katha 278

                                                                        ডাউনলোড করুন

                                                         বিম্বিসার ও অজাতশত্রু

বিম্বিসারকে বলা হয় মগধের হর্যঙ্ক বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। এর পিতার নাম ছিল ভট্টিয় বা মহাপদ্ম। বৌদ্ধগ্রন্থ মহাবংশ থেকে জানা যায়, বিম্বিসার ১৫ বৎসর বয়সে রাজপদে অভিসিক্ত হন। সিংহলী ঐতিহ্য অনুসারে জানা যায় বিম্বিসারের রাজত্বের সূচনা হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৫ অব্দে। এই বিচারে বলা হয়, তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪০ (মতান্তরে ৫৫৮) অব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

বিম্বিসারের পিতা মহাপদ্মের সাথে অঙ্গরাজের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মহাপদ্ম পরাজিত হলে, মগধ অঙ্গরাজ্যের অধিনস্থ হয়। এই কারণে বিম্বিসার ক্ষমতা লাভের পর থেকেই এর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি রাজ্যকে প্রথমে স্থিতিশীল অবস্থায় এনে সেনাবহিনীকে শক্তিশালী করেন। অবশেষে তিনি একটি বিশাল সেনবাহিনী তৈরি করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই সময় অঙ্গরাজ্যের রাজা ছিলেন উদয়ন। এই যুদ্ধে উদয়নকে পরাজিত করে বিম্বিসার অঙ্গরাজ্য জয় করেন।

এরপর তিনি কোশল রাজকন্যাকে বিবাহ করে কাশীরাজ্যের একটি অংশ যৌতুক পান। এর ফলে মগধরাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হয়। এরপর তিনি বৈশালী রাজবংশের লিচ্ছবি রাজকন্যাকে বিবাহ করেন। এরফলে বিম্বিসার হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হন। এই দুটি বিবাহের ফলে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো মগধ আক্রমণ থেকে বিরত থাকে। এরপর বিম্বিসার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে গান্ধাররাজ্যের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন। এরপর তিনি অবন্তী-রাজ প্রদ্যোৎ-এর সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। এর ফলে বিম্বিসার যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়াই একটি বিশাল অঞ্চলের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিম্বিসার বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। ফলে তিনি ঠিক কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন, এ নিয়ে মতভেদ আছে। জৈন ও বৌদ্ধ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীর-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

গৌতম বুদ্ধ
গৃহত্যাগের পর প্রথম বৈশালী নগরে (বজ্জি (বৃজি গণতন্ত্র) মহাজনপদের রাজধানী) যান এবং সেখানে থেকে আরাল কালাম নামক পণ্ডিতের কাছে হিন্দু দর্শনে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। কিন্তু এই জ্ঞানে পরিতৃপ্ত হতে পারেন নি। তাই এখান থেকে তিনি উদ্দক রামপুত্তের কাছে শিক্ষাগ্রহণের জন্য আসেন। এই গুরুর কাছে তিনি সাংখ্য এবং যোগবিদ্যা শেখেন। এই নতুন জ্ঞানও তাঁকে শান্ত করতে পারলো না। এরপর তিনি মগধের রাজধানী রাজগিরীতে আসেন। লোকমুখে নতুন সন্ন্যাসীর প্রশংসা শুনে বিম্বিসার তাঁর সাথে দেখা করেন এবং রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু বুদ্ধ এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, যদি কখনও সত্যের সন্ধান পান, তাহলে তিনি রাজার আমন্ত্রণ রক্ষা করবেন। এর কিছুদিন পর, বিম্বিসার এক যজ্ঞানুষ্ঠানের জন্য ১০০০ মেষ বলির উদ্যোগ নেন। এই কথা জানতে পেরে বুদ্ধ রাজার সাথে দেখা করেন এবং মেষ বলি থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। বিম্বিসার এই অনুরোধে বলি বন্ধ করে দেন। এরপর বুদ্ধ উরুবিল্ব গ্রামের নিকটবর্তী এক উপবনে এসে তপস্যা শুরু করেন। বোধিত্বলাভের পর বুদ্ধ, বুদ্ধগয়া'য় ছয় বছর কাটান। এরপর সারনাথ প্রায় দুই বছর পর, কাটিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তিনি মগধ রাজ্যের রাজধানী রাজগিরীতে আসেন। রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধ সংঘের সহস্রাধিক ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য বেণুবন নামক উদ্যানটি গৌতম বুদ্ধকে প্রদান করেন। এরপর বুদ্ধ তাঁকে চতুরার্য সত্য সম্বন্ধে উপদেশ প্রদান করেন। বিম্বিসারের অনুরোধে বুদ্ধ অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে উপোবাস ব্রত পালনের বিধি প্রচলন করেন। কথিত আছে, বিম্বিসারের অনুরোধেই বুদ্ধ বর্ষাকালে পরিব্রাজন না করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সাধনার বর্ষাবাস নামক রীতি প্রচলন করেন। ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের সুবিধার জন্য কুটীর নির্মাণ এবং বুদ্ধ ও ভিক্ষুদের চিকিৎসার জন্য রাজবৈদ্য জীবককে নিযুক্ত করেন। বিম্বিসারের তৃতীয়া পত্নী ক্ষেমা পরবর্তীকালে ভিক্ষুণী সংঘে যোগদান করে অর্হত্ত্ব লাভ করেন।

বিম্বিসারের মৃত্যু
দেবদত্তের প্ররোচনায় বিম্বিসারের পুত্র অজাতশত্রু তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন। বুদ্ধের মতাদর্শে বিশ্বাসী বিম্বিসার তাঁর পুত্রকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পুনরায় দেবদত্তের প্ররোচনায় অজাতশত্রু বিম্বিসার ও তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীকে গৃহবন্দী করে নিজেকে মগধের শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। ৪৯১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গৃহবন্দী অবস্থায় বিম্বিসারের মৃত্যু ঘটে।


বিম্বিসারের স্ত্রী কোশলদেবীর গর্ভে তাঁর পুত্র অজাতশত্রুর জন্ম হয়। কথিত আছে অজাতশত্রু তাঁর পিতা বিম্বিসারকে উপবাস করিয়ে হত্যা করেন। এই শোকে কোশলদেবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ধারণা করা হয় বিম্বিসার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯০-৪৯৩ অব্দের দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

 

অজাতশত্রু
ভারতের প্রাচীন জনপদ, মগধের রাজা। এর অপর নাম কূনিত।

এঁর পিতার ছিলেন রাজা বিম্বিসার। বিম্বিসার-এর স্ত্রী কোশলদেবীর গর্ভে তাঁর পুত্র অজাতশত্রুর জন্ম হয়। কথিত আছে অজাতশত্রু তাঁর পিতা বিম্বিসারকে কারাগারে প্রেরণ করেন। পরে তিনি পিতার হাত-পা কেটে তাতে নুন এবং অম্ল মাখিয়ে কষ্ট দেন। এরপর তাঁকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। এই শোকে তাঁর মা কোশলদেবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

ধারণা করা হয় বিম্বিসার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯০-৪৯৩ অব্দের দিকে মৃত্যুবরণ করেন। সেই হিসেবে তাঁর রাজত্বের শুরু হিসেবে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯০-৪৯৩ অব্দ ধরা হয়। সিংহাসন লাভের পর, অজাতশত্রু গঙ্গানদীর তীরস্থ পাটলিগ্রামে একটি ছোট দুর্গের মতো একটি বসতি তৈরি করেন। 

 বিম্বিসার-এর স্ত্রী এবং অজাতশত্রুর মা কোশলদেবী ছিলেন কোশল-রাজ প্রসেনজিৎ-এর বোন। বোনের অকাল মৃত্যুর জন্য প্রসেনজিৎ অজাতশত্রুকে দায়ী করেন এবং বোনের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রসেনজিৎ মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই সুযোগে বৈশালীর বৃজি ও পাবার মল্লরাও মগধের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু বিম্বিসার-এর গড়া বিশাল সুদক্ষ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো বাহিনীই জয়লাভ করতে সক্ষম হয় নি। পরাজয় অনিবার্য মেনে প্রসেনজিৎ শেষ পর্যন্ত অজাতশত্রুর সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হন। সন্ধির শর্ত অনুসারে প্রসেনজিৎ তাঁর কন্যা ভাজিরার সাথে অজাতশত্রুর বিবাহ দেন। এই সময় বিবাহের যৌতুক হিসেবে প্রজেনজিৎ কাশী অঞ্চলকে অজাতশত্রুর হাতে অর্পণ করেন। এই ঘটনার পর থেকে কোশল রাজ্যের পতন শুরু হয়।

কোশল-রাজ প্রসেনজিতের সাথে দ্বন্দ্ব মিটে যাওয়ার পর, অজাতশত্রু বৈশালীর বৃজি ও পাবার মল্লরাদের শায়েস্তা করার জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে গঙ্গা এবং শোন নদীর সঙ্গমস্থলে পাটালিগ্রামে একটি অস্থায়ী দুর্গ নির্মাণ করেন। এরপর কূটনৈতিক তৎপরতায় স্থানীয় ছোট ছোট রাজ্যগুলোর ভিতরে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেন। এরপর দুর্বল রাজ্যগুলো আক্রমণ করে নিজ রাজ্যের অধিকারের আনেন। টানা ১৬ বৎসর যুদ্ধ করার পর অজাতশত্রু সমগ্র বৈশালী জয় করতে সক্ষম হন।

'অবদান-শতক' গ্রন্থ থেকে জানা যায়, প্রথম জীবনে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাঁর পিতা বিম্বিসার ছিলেন গৌতম বুদ্ধের ভক্ত। তিনি তাঁর অন্তঃপুরে বুদ্ধের পায়ের নাখ ও চুলের উপর একটি স্তূপ নির্মাণ করেছিলেন। অজাতশত্রু বিম্বিসার মৃত্যুর পর এই স্তূপে পূজা বন্ধ করে দেন। এক দাসী গোপনে পূজা দিতে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তিনি প্রজাদের  গৌতম বুদ্ধের কাছে যাওয়া নিষেধ করে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পিতাকে হত্যা করার জন্য দারুন মনোকষ্টে ভুগতেন। এই পরিতাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি বুদ্ধের সাথে দেখা করেন। ত্রিপিটকের সূত্রপিটকের দীর্ঘনিকায় অংশের 'সামঞ্‌ঞ ফল সূত্রে' দেখা যায়, তিনি গৌতম বুদ্ধের সাথে দেখা করে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। পরিশেষে তিনি বুদ্ধের কাছে পিতৃহত্যার কথা স্বীকার করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন।

গৌতম বুদ্ধ
নির্বাণলাভের পর, অল্প দিনের ভিতরে মতাদর্শগত বিভেদ প্রকট হয়ে উঠে। তা ছাড়া এই সময়ের ভিতরে বুদ্ধের যোগ্য শিষ্যদের অনেকে মৃত্যুবরণও করেন। বুদ্ধের বাণী এবং তার ব্যাখ্যা বিলীন হওয়া বা বিকৃত হওয়ার আশংকা তীব্রতর হয়ে উঠে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, ৪৮৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মগধের মহারাজ  অজাতশত্রু সহায়তায় মহাকাশ্যপ এক বৌদ্ধসভার আয়োজন করেন। কথিত আছে রাজগৃহের সপ্তপর্ণী নামক গুহায় এই সভায় যোগদান করেছিলেন। এই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বুদ্ধের অন্যতম শিষ্য আনন্দের নেতৃত্বে সংগৃহীত হয়েছিল ধর্মাংশ এবং আর বুদ্ধের অপর শিষ্য উপালি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিনায়ংশ। পরে এই দুই সংগ্রহকে বিষায়ানুসারে ভাগ করে, তৈরি করা হয়েছিল বিনয়পিটক ও সূত্রপিটক। পরে সূত্রপিটকের একটি অংশ পৃথক করে অভিধম্মপিটক নামক তৃতীয় পিটক তৈরি করা হয়। এই তিনটি পিটকের সংকলনই হলো ত্রিপিটক

একই সাথে তিনি জৈন ধর্মকে বিশ্বাস করতেন। তিনি বহুবার সপরিবারে জৈনগুরু মহাবীরের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

পালি সাহিত্যে জাতকের গল্প থেকে জানা যায় যে, অজাতশত্রু নিষ্ঠুর প্রকৃতির রাজা ছিলেন। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দের দিকে মৃত্যবরণ করেন। এঁরপর তাঁর পুত্র উদয়ন ৪৬০-৪৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। জাতকের গল্প থেকে জানা যায় যে, যেদিন অজাতশত্রর আদেশে তাঁর পিতাকে হত্যা করা হয় সেদিনই উদয়ন জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পুরাণ মতে অজাতশত্রুর পুত্রের নাম ছিল দারসোকা। আর উদয়ন ছিলেন দারসোকার পুত্র। এই বংশের শেষ রাজা নাগদাসকে হত্যা করে তাঁর মন্ত্রী শৈশুনাগ মগধের সিংহাসন অধিকার করেন।

                                                    

Thursday, January 5, 2023

Post # 1087 Bengali Amarchitra Katha 277

                                       ডাউনলোড করুন

 বুদ্ধের মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হয়েছিল ।

বুদ্ধত্ব লাভ এবং মানুষের রোগ, জরা ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বধিসত্ব বারবার জন্মলাভ করেছিলেন ।

বিভিন্ন জন্মে বধিসত্ব কখনো মানুষ ,কখনো বাঁদর,কখনো হরিণ কখনো হাতি আবার বা কখনো সিংহ রূপে জম্মগ্রহন করেছিলেন ।বধিসত্ব তাঁর বিভিন্ন আয়ুষ্কালে জ্ঞান,ক্ষমা, মৈত্রি ও সুবিচারের বানী প্রচার করে গেছেন ।

জাতকের ভিবিন্ন কাহানীর মধ্যে  জ্ঞান,ক্ষমা, মৈত্রি ও সুবিচারের বানী ছড়িয়ে আছে । গ্রন্থবদ্ধ ‘স্বর্ণবণিক’ ইল্লিসের কাহিনী ও ‘কসিয়’ কাহিনী দুটি ব্যাতিক্রম নয় ।

ব্যাতিক্রম নয় ।





 

Wednesday, January 4, 2023

Post # 1086 Bengali Amarchitra Katha 276

                                         ডাউনলোড করুন

পার্বত্য রাজ্য অরুণাচলের প্রাকিতিক সৌন্দর্য যে কেবলমাত্র অতুলোনীয় তা নয়,তার অধিবাসীদের সাংস্কৃতিক জীবন ও কৌতূহলোদীপক । পুরুষ পরম্পরায় মুখে মুখে বয়ে আসা তার সমৃদ্ধ লোককথা সত্যিই বইসিষ্ট সমুজ্জ্বল । অরুণাচলের লোককথা যেন অরুণাচলেরই মানুষের আনান্দ বেদনা , জয় –পরাজয় , উত্থান পতনের সজত্ন সঞ্চিত চিত্রিত প্রতিফলন ।ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের উপযোগী  কয়েকটি মাত্র এই চিত্রকথায় গৃহীত হয়েছে ।  









 

Tuesday, January 3, 2023

Post # 1085 Bengali Amarchitra Katha 274

                                                                             ডাউনলোড করুন

 

 

 

ডায়মন্ড কমিকস্‌ এর জনক শ্রী গুলসন রাই ভার্মা আর আমাদের মধ্যে নেই গত ২১ ডিসেম্বর ২০২২ উনি পরলোকে গমন করেছেন , আমাদের শৈশবের আর এক রূপকার আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ।। 

 

গত 30 এপ্রিল ২০২২ ওনাকে পুরস্কিত করা হয়...প্রতিবেদন টি এখানে তুলে ধরলাম  ...

অ্যানিমেশন এক্সপ্রেস কমিক শিল্পের প্রতিভাকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে সিবিএএম পুরস্কার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে 33টি বিভাগে 300-রও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন১২ জন জুরি সদস্য।




ডায়মন্ড কমিকসের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান রাইকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করল সিবিএএম অ্যাওয়ার্ডস।

১৯৭৮ সালে শ্রী  রাই প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড কমিকস ভারতের অন্যতম বৃহত্তম কমিক-বুক পরিবেশক ও প্রকাশক। এর মূল কমিক চরিত্রগুলো দেশে জনপ্রিয় ও প্রিয়।

পুরস্কার পাওয়ার পর গুলশন রাই অ্যানিমেশন-প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান এবং এডিটর-ইন-চিফ অনিল ওয়ানভারিকে বলেন, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। গত 50 বছর ধরে আমি কমিকসে কাজ করছি এবং ডায়মন্ড কমিকসকে একটি বড় সাফল্যের জন্য সৌভাগ্যবান

রাইয়ের কমিকস ভারতীয় পাঠকদের কাছে হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা - এই তিন ভাষায় উচ্চমানের বিনোদন নিয়ে এসেছিল। তিনি চাচা চৌধুরী, বিল্লু, পিঙ্কি, মোটু পাতলু, ছোট লংবু ইত্যাদি অনেক

মৌলিক ভারতীয় কমিক চরিত্র তৈরি করেছিলেন। প্রকাশক ফ্যান্টম, ম্যানড্রেক, সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান, হে-ম্যান এবং জেমস বন্ডের মতো বিদেশী কমিক বইও হিন্দিতে প্রকাশ করেছিলেন।

আমরা 40 টি চরিত্র তৈরি করেছি, এবং আমাদের চরিত্রগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে পাঠকরা তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সংযোগ স্থাপন করে যেন তারা পরিবারের সদস্যদের মতো। নানাজি, বিল্লু, পিঙ্কির মতো চরিত্রগুলি এখনও পর্যন্ত চিরসবুজ।

কমিক্সের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে রাই বলেন, আমরা আমাদের কমিক্সকে ডিজিটাল কমিক্স, কাস্টমাইজড কমিক্সে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি, যা আমাদের ছোট ছোট অঞ্চলে পৌঁছাতে সক্ষম করে যেখানে কমিক্স আগে কখনও উপস্থিত ছিল না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির নিজস্ব একটি সেট রয়েছে যা আমাদের ডিজিটালভাবে আরও পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে

ডায়মন্ড কমিকস কী ভাবে এগিয়ে চলেছে জানতে চাইলে রাই বলেন, অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। রেলের স্টল, বাসস্ট্যান্ড, নিউজস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সারা দেশে নেটওয়ার্কের বিশাল বণ্টন ছিল তাদের। তাদের কমিকস সব জায়গায় পাওয়া যেত যা সেই সময়ে জনসাধারণের মধ্যে সেরা নাগাল ছিল। আরেকটি মূল বিষয় হচ্ছে সাময়িকতা; আমরা প্রতি মাসে তিনটি ভাষায় প্রায় আট থেকে ১০টি কমিক প্রকাশ করি। আমাদের কমিকস আজও বাংলায় একক বেস্টসেলার কমিকস যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আজ আমরা৫,০০০ কমিকসের মালিক এবং এখনও, তারা পুনরায় মুদ্রণে অন-ডিমান্ড এবং আমরা প্রায় তিন থেকে চার লক্ষ কপি বিক্রি করতে পারি
ডায়মন্ড কমিকস-এর পরিচালক আনশুল ভার্মা তাঁর বাবার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবার কখনও মারা না যাওয়ার মনোভাব তাঁকে এই পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তার বয়স ৭৩ বছর এবং তিনি 13 বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মৃত্যুর জন্য এটা সঠিক সময় নয়, মৃত্যু অপেক্ষা করতে পারে। এই বিশ্বাসই তাঁকে আগলে রেখেছিল। তিনি শুধু আমাদের দু'জনের বাবা নন, তিনি কমিকসের জন্য কাজ করা সমস্ত ৭৩ জন মানুষ এবং শিল্পীদের বাবা, যাদের প্রার্থনা, ভালবাসা এবং ইচ্ছা তাকে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল

ইন্ডাসভার সিসিও অলোক শর্মা বলেন, ২০০৯ সালে গুলশনজির সঙ্গে দেখা হলে কেমোথেরাপির পর তিনি সোজা অফিসে চলে যেতেন। নিজের অবস্থা নিয়ে তিনি কখনও অভিযোগ করেননি। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা অবস্থায়ও তিনি অত্যন্ত উষ্ণ ও স্বাগতম জানাতেন

রাই গত 50 বছর ধরে গর্বের সঙ্গে তা ভাগ করে নিয়েছেন, ডায়মন্ড কমিকস পাঠকের মন গঠনে কাজ করেছে, তাদের চরিত্রগুলি শিশুদের একটি ইতিবাচক শিক্ষা দিয়ে শিক্ষিত করেছিল যা তাদের একটি বৃহত্তর অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল, আর আজ তারা তাদের সন্তানদের ডায়মন্ড কমিকস পড়ার জন্য প্ররোচিত করছে যা তাদের জন্য সুবিধা যোগ করা হয়েছে এবং তারা শূন্য নেতিবাচকতা নিয়ে একটি কমিকস।

বিখ্যাত কার্টুনিস্ট প্রাণ কুমার শর্মা যিনি হিন্দি ম্যাগাজিন লটপটের জন্য চাচা চৌধুরীর স্কেচ করেছিলেন, যা পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তিনি শ্রীমন্তজী, পিঙ্কি, বিলু, চাঁনি চাচি ইত্যাদির মতো কার্টুন চরিত্রও তৈরি করেছিলেন। ডায়মন্ড কমিকসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সখ্য।

শর্মাকে স্মরণ করতে গিয়ে রাই বললেন, প্রণকে আমি কমিক্সের দুনিয়ায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। তিনি লটপট ইত্যাদি হিন্দি বই পত্রিকায় ছোট ছোট ফিচার গল্প লিখতেন। আমিই তাঁর ফিচার স্টোরিজকে কমিকসের আকার দিয়েছি, যা প্রাণকে পারফর্ম করার একটা বড় প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। আমরা চাচা চৌধুরি, পিঙ্কি, বিল্লুর মতো চরিত্র তৈরি করেছি, যা ভারতীয় কমিক ইন্ডাস্ট্রির চিরসবুজ চরিত্র

ডায়মন্ড কমিকস শিক্ষামূলক কমিকস, স্বাস্থ্য কমিকস এবং সামাজিক দায়বদ্ধ কমিকস সহ সমস্ত ক্ষেত্রে তার পথ তৈরি করেছে। সব দিক থেকেই বেড়েছে। রাই আরও বলেন, এখন আমরা ডিজিটাল, কাস্টমাইজড, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছি এবং স্বচ্ছ অভিযানের মতো সরকারি সচেতনতামূলক কমিক্সও তৈরি করেছি। আমাদের কমিকস বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সব ক্ষেত্রকে কভার করছে। আমরা অ্যানিমেশন স্পেকট্রামে চলে এসেছি এবং শীঘ্রই আপনি টেলিভিশন / ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আমাদের চরিত্রগুলি প্রিমিয়ার দেখতে পাবেন। দুর্ভাগ্যবশত, মহামারীর কারণে এটি বিলম্বিত হচ্ছে ।

শক্তিতে ভরপুর মানুষটি   ডায়মন্ড কমিক্সকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিশীল মনোভাব নিয়ে ছিলেন ।