Thursday, January 5, 2023

Post # 1087 Bengali Amarchitra Katha 277

                                       ডাউনলোড করুন

 বুদ্ধের মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হয়েছিল ।

বুদ্ধত্ব লাভ এবং মানুষের রোগ, জরা ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বধিসত্ব বারবার জন্মলাভ করেছিলেন ।

বিভিন্ন জন্মে বধিসত্ব কখনো মানুষ ,কখনো বাঁদর,কখনো হরিণ কখনো হাতি আবার বা কখনো সিংহ রূপে জম্মগ্রহন করেছিলেন ।বধিসত্ব তাঁর বিভিন্ন আয়ুষ্কালে জ্ঞান,ক্ষমা, মৈত্রি ও সুবিচারের বানী প্রচার করে গেছেন ।

জাতকের ভিবিন্ন কাহানীর মধ্যে  জ্ঞান,ক্ষমা, মৈত্রি ও সুবিচারের বানী ছড়িয়ে আছে । গ্রন্থবদ্ধ ‘স্বর্ণবণিক’ ইল্লিসের কাহিনী ও ‘কসিয়’ কাহিনী দুটি ব্যাতিক্রম নয় ।

ব্যাতিক্রম নয় ।





 

Wednesday, January 4, 2023

Post # 1086 Bengali Amarchitra Katha 276

                                         ডাউনলোড করুন

পার্বত্য রাজ্য অরুণাচলের প্রাকিতিক সৌন্দর্য যে কেবলমাত্র অতুলোনীয় তা নয়,তার অধিবাসীদের সাংস্কৃতিক জীবন ও কৌতূহলোদীপক । পুরুষ পরম্পরায় মুখে মুখে বয়ে আসা তার সমৃদ্ধ লোককথা সত্যিই বইসিষ্ট সমুজ্জ্বল । অরুণাচলের লোককথা যেন অরুণাচলেরই মানুষের আনান্দ বেদনা , জয় –পরাজয় , উত্থান পতনের সজত্ন সঞ্চিত চিত্রিত প্রতিফলন ।ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের উপযোগী  কয়েকটি মাত্র এই চিত্রকথায় গৃহীত হয়েছে ।  









 

Tuesday, January 3, 2023

Post # 1085 Bengali Amarchitra Katha 274

                                                                             ডাউনলোড করুন

 

 

 

ডায়মন্ড কমিকস্‌ এর জনক শ্রী গুলসন রাই ভার্মা আর আমাদের মধ্যে নেই গত ২১ ডিসেম্বর ২০২২ উনি পরলোকে গমন করেছেন , আমাদের শৈশবের আর এক রূপকার আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ।। 

 

গত 30 এপ্রিল ২০২২ ওনাকে পুরস্কিত করা হয়...প্রতিবেদন টি এখানে তুলে ধরলাম  ...

অ্যানিমেশন এক্সপ্রেস কমিক শিল্পের প্রতিভাকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে সিবিএএম পুরস্কার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে 33টি বিভাগে 300-রও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন১২ জন জুরি সদস্য।




ডায়মন্ড কমিকসের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান রাইকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করল সিবিএএম অ্যাওয়ার্ডস।

১৯৭৮ সালে শ্রী  রাই প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড কমিকস ভারতের অন্যতম বৃহত্তম কমিক-বুক পরিবেশক ও প্রকাশক। এর মূল কমিক চরিত্রগুলো দেশে জনপ্রিয় ও প্রিয়।

পুরস্কার পাওয়ার পর গুলশন রাই অ্যানিমেশন-প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান এবং এডিটর-ইন-চিফ অনিল ওয়ানভারিকে বলেন, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। গত 50 বছর ধরে আমি কমিকসে কাজ করছি এবং ডায়মন্ড কমিকসকে একটি বড় সাফল্যের জন্য সৌভাগ্যবান

রাইয়ের কমিকস ভারতীয় পাঠকদের কাছে হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা - এই তিন ভাষায় উচ্চমানের বিনোদন নিয়ে এসেছিল। তিনি চাচা চৌধুরী, বিল্লু, পিঙ্কি, মোটু পাতলু, ছোট লংবু ইত্যাদি অনেক

মৌলিক ভারতীয় কমিক চরিত্র তৈরি করেছিলেন। প্রকাশক ফ্যান্টম, ম্যানড্রেক, সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান, হে-ম্যান এবং জেমস বন্ডের মতো বিদেশী কমিক বইও হিন্দিতে প্রকাশ করেছিলেন।

আমরা 40 টি চরিত্র তৈরি করেছি, এবং আমাদের চরিত্রগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে পাঠকরা তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সংযোগ স্থাপন করে যেন তারা পরিবারের সদস্যদের মতো। নানাজি, বিল্লু, পিঙ্কির মতো চরিত্রগুলি এখনও পর্যন্ত চিরসবুজ।

কমিক্সের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে রাই বলেন, আমরা আমাদের কমিক্সকে ডিজিটাল কমিক্স, কাস্টমাইজড কমিক্সে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি, যা আমাদের ছোট ছোট অঞ্চলে পৌঁছাতে সক্ষম করে যেখানে কমিক্স আগে কখনও উপস্থিত ছিল না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির নিজস্ব একটি সেট রয়েছে যা আমাদের ডিজিটালভাবে আরও পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে

ডায়মন্ড কমিকস কী ভাবে এগিয়ে চলেছে জানতে চাইলে রাই বলেন, অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। রেলের স্টল, বাসস্ট্যান্ড, নিউজস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সারা দেশে নেটওয়ার্কের বিশাল বণ্টন ছিল তাদের। তাদের কমিকস সব জায়গায় পাওয়া যেত যা সেই সময়ে জনসাধারণের মধ্যে সেরা নাগাল ছিল। আরেকটি মূল বিষয় হচ্ছে সাময়িকতা; আমরা প্রতি মাসে তিনটি ভাষায় প্রায় আট থেকে ১০টি কমিক প্রকাশ করি। আমাদের কমিকস আজও বাংলায় একক বেস্টসেলার কমিকস যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আজ আমরা৫,০০০ কমিকসের মালিক এবং এখনও, তারা পুনরায় মুদ্রণে অন-ডিমান্ড এবং আমরা প্রায় তিন থেকে চার লক্ষ কপি বিক্রি করতে পারি
ডায়মন্ড কমিকস-এর পরিচালক আনশুল ভার্মা তাঁর বাবার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবার কখনও মারা না যাওয়ার মনোভাব তাঁকে এই পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তার বয়স ৭৩ বছর এবং তিনি 13 বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মৃত্যুর জন্য এটা সঠিক সময় নয়, মৃত্যু অপেক্ষা করতে পারে। এই বিশ্বাসই তাঁকে আগলে রেখেছিল। তিনি শুধু আমাদের দু'জনের বাবা নন, তিনি কমিকসের জন্য কাজ করা সমস্ত ৭৩ জন মানুষ এবং শিল্পীদের বাবা, যাদের প্রার্থনা, ভালবাসা এবং ইচ্ছা তাকে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল

ইন্ডাসভার সিসিও অলোক শর্মা বলেন, ২০০৯ সালে গুলশনজির সঙ্গে দেখা হলে কেমোথেরাপির পর তিনি সোজা অফিসে চলে যেতেন। নিজের অবস্থা নিয়ে তিনি কখনও অভিযোগ করেননি। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা অবস্থায়ও তিনি অত্যন্ত উষ্ণ ও স্বাগতম জানাতেন

রাই গত 50 বছর ধরে গর্বের সঙ্গে তা ভাগ করে নিয়েছেন, ডায়মন্ড কমিকস পাঠকের মন গঠনে কাজ করেছে, তাদের চরিত্রগুলি শিশুদের একটি ইতিবাচক শিক্ষা দিয়ে শিক্ষিত করেছিল যা তাদের একটি বৃহত্তর অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল, আর আজ তারা তাদের সন্তানদের ডায়মন্ড কমিকস পড়ার জন্য প্ররোচিত করছে যা তাদের জন্য সুবিধা যোগ করা হয়েছে এবং তারা শূন্য নেতিবাচকতা নিয়ে একটি কমিকস।

বিখ্যাত কার্টুনিস্ট প্রাণ কুমার শর্মা যিনি হিন্দি ম্যাগাজিন লটপটের জন্য চাচা চৌধুরীর স্কেচ করেছিলেন, যা পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তিনি শ্রীমন্তজী, পিঙ্কি, বিলু, চাঁনি চাচি ইত্যাদির মতো কার্টুন চরিত্রও তৈরি করেছিলেন। ডায়মন্ড কমিকসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সখ্য।

শর্মাকে স্মরণ করতে গিয়ে রাই বললেন, প্রণকে আমি কমিক্সের দুনিয়ায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। তিনি লটপট ইত্যাদি হিন্দি বই পত্রিকায় ছোট ছোট ফিচার গল্প লিখতেন। আমিই তাঁর ফিচার স্টোরিজকে কমিকসের আকার দিয়েছি, যা প্রাণকে পারফর্ম করার একটা বড় প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। আমরা চাচা চৌধুরি, পিঙ্কি, বিল্লুর মতো চরিত্র তৈরি করেছি, যা ভারতীয় কমিক ইন্ডাস্ট্রির চিরসবুজ চরিত্র

ডায়মন্ড কমিকস শিক্ষামূলক কমিকস, স্বাস্থ্য কমিকস এবং সামাজিক দায়বদ্ধ কমিকস সহ সমস্ত ক্ষেত্রে তার পথ তৈরি করেছে। সব দিক থেকেই বেড়েছে। রাই আরও বলেন, এখন আমরা ডিজিটাল, কাস্টমাইজড, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছি এবং স্বচ্ছ অভিযানের মতো সরকারি সচেতনতামূলক কমিক্সও তৈরি করেছি। আমাদের কমিকস বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সব ক্ষেত্রকে কভার করছে। আমরা অ্যানিমেশন স্পেকট্রামে চলে এসেছি এবং শীঘ্রই আপনি টেলিভিশন / ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আমাদের চরিত্রগুলি প্রিমিয়ার দেখতে পাবেন। দুর্ভাগ্যবশত, মহামারীর কারণে এটি বিলম্বিত হচ্ছে ।

শক্তিতে ভরপুর মানুষটি   ডায়মন্ড কমিক্সকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিশীল মনোভাব নিয়ে ছিলেন ।




 

Sunday, January 1, 2023

Post # 1084 Bengali Amarchitra Katha 273

                                                                           ডাউনলোড করুন

 


সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ,সকলে ভালো থাকবেন । আজ থকছে সমুদ্র মন্থন......

পুরাণ অনুসারে, দেবাসুরের দ্বন্দ্ব জন্মলগ্ন থেকেই। উভয়েই মহামুনি কাশ্যপের সন্তান। দেবতাদের মাতা অদিতি, যেজন্য তাঁরা আদিত্য। অন্যদিকে অসুরেরা দিতির পুত্র, তাই দৈত্য। এই বৈমাত্রেয় সম্পর্কের কারণেই উভয়ের মধ্যে বিবাদ।

কিন্তু হল কী, দুইপক্ষের যখন যুদ্ধ হয়, আর তাতে অসুরেরা মারা যায়। নিমেষেই তাদের প্রাণ ফিরে আসত। কারণ দৈত্যদের গুরু শুক্রাচার্য মৃত সঞ্জীবনী বিদ্যা জানতেন। যার দ্বারা মুহূর্তেই মৃত ব্যক্তির শরীরে পুনরায় প্রাণ সঞ্চার করা যেত। দেবগুরু বৃহস্পতি এ বিদ্যা জানতেন না। ফলে কোনও দেবতা মারা গেলে তিনি আর প্রাণ ফিরে পেতেন না।

 এভাবে যে কত দেবতার প্রাণ গিয়েছে, ইয়ত্তা নেই। অতঃপর দেবগুরু বৃহস্পতির পুত্র কচ শুক্রাচার্যের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে মৃত সঞ্জীবনী বিদ্যা শিখে ফেলেন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না দেবতারা। সে সময়ই ঘটে গেল এক ঘটনা। ধনদেবী লক্ষ্মীকে রসাতল অর্থাৎ পাতালে যাওয়ার অভিশাপ দিলেন মহামুনি দুর্বাসা।

 ব্যস! শুনেই সকলের মাথায় হাত। লক্ষ্মী স্বয়ং ধনরত্নের দেবী। তিনি না থাকলে যে খোদ কুবের-ই নিঃস্ব হয়ে যাবেন! তখন পিতামহ ব্রহ্মা এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরামর্শ দিলেন দেবতাদের। বললেন, সমুদ্র মন্থন করতে হবে। এতে লক্ষ্মী তো উঠে আসবেনই, সেইসঙ্গে অমৃত নামক একটি তরলও। এই তরল যে একবার পান করবেন, কখনও মৃত্যু হবে না তাঁর। ব্যস্ আর কী, দেবাসুর মিলে শুরু হয়ে গেল সমুদ্র মন্থন। বাকি ঘটনা তো আমাদের জানাই।






 

Tuesday, December 13, 2022

Post # 1083 Bengali Amarchitra Katha 272

                                                                  ডাউনলোড করুন

                                                              

 

 

 ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্র কে আধুনিক হিন্দি গদ্যের জনক বলাহয় । তিনি মাত্র ৩৫ বছর জীবিত ছিলেন , এই অল্প সময়ে ১৭৫ টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন , এর মধ্যে আছে ছোট গল্প , নাটক ,কবিতা ও প্রবন্ধ ।

 আজকের কমিকস্‌ টির গল্প ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্রের (১৮৫০ - ১৮৮৫) একটি নাটকের উপর প্রতিষ্ঠিত, এই নাটক সরবরাহ করেছিলেন শ্রীমতী শান্তিদেবী মতিচন্দ্র । নাটকের বিষয়বস্তু তৎকালীন একটি জনপ্রিয় উপকথার উপরে প্রতিষ্ঠিত । দ্বিতীয় গল্পটি উত্তর ভারতের সুপরিচিত উপকথা ।

ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্র হিন্দি সাহিত্যের ভগীরথ রূপে পরিগণিত। তার লেখনী স্পর্শেই হিন্দি সাহিত্যে নবজাগরণের যুগরূপে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। ইতিহাস প্রসিদ্ধ শেঠ আমিনচন্দের বংশজাত ভারতেন্দু হিন্দি সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক। বাল্যাবস্থা থেকেই তার বহুমুখী প্রতিভার বিচ্ছুরণ পরিলক্ষিত হয়। তার সৃজনশীল কবিপ্রতিভা এবং বহুমুখী রচনাশৈলী তার জনপ্রিয়তাকে বহুবিস্তৃত করেছিল ফলে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে, ভারতের সমকালীন সাহিত্যজগত সাংবাদিককুল তাকে ভারতেন্দু আখ্যায় ভূষিত করেন।


হিন্দি সাহিত্যক্ষেত্রে আধুনিককালের প্রবর্ত্তকরূপ (১৯০০) ভারতেন্দু হরিশচন্দ্রের মহত্ব কেবলমাত্র সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গীতেই সীমাবদ্ধ নয়। ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেও তার মহত্ত্ব অপরিসীম। এর মূলত দুটি কারণ স্বীকার করা হয়। একটি কারণ হল ভারতেন্দুই প্রথম কবি যিনি রীতিকালীন নগ্ন শৃঙ্গারের জগত থেকে কাব্যকে উদ্ধার করে সুস্থ এবং স্বকীয় পৃথিবীতে নামিয়ে এনেছিলেন। অন্য কারণ হল আপন দূরদৃষ্টিসহকারে পদ্যসাহিত্যকে যুগোপযোগী করে তুলেছিলেন এবং সাহিত্যের অন্যান্য ক্ষেত্রে যুগোপযোগী চিন্তাচেতনার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিলেন।


কবিঘর হরিশচন্দ্র ইতিহাসখ্যাত শেঠ আমিণচন্দের বংশজাত, তার পিতা বাবু গোপালচন্দ্র। গিরিধরদাস সমকালীন যুগের এক প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন। হরিশ্চন্দ্র বাল্যাবস্থা থেকেই সর্বতোমুখী রচনাশৈলীর নিদর্শন রাখেন। কবিত্বশক্তির প্রকাশের সাথে সাথে তিনি একজন সাংবাদিকতারূপেও আপন প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। 'কবিবচনসুধা এবং ‘হরিশচন্দ্র চন্দ্রিকা' তারই সম্পাদনায় প্রকাশিত হত। এই পত্রিকা দুটি তৎকালে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।


কাশীর স্বনামধন্য কবি নাট্যকার এবং প্রোথিতযশা পুরুষ বাবু গোপালচন্দ্রের (ছদ্মনাম ‘গিরিধরদাস’) পবিত্র গৃহে ১৮৫০ সালে ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্রের জন্ম হয়। সহজাত প্রতিভা ও সাহিত্যানুকুল পরিবেশের বাল্যাবস্থা থেকেই ভারতেন্দুর প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল।


ভারতেন্দু ছিলেন প্রধানত কবি যদিও সাহিত্যের অন্যান্য শাখায় তার পদচারণা ছিল স্বচ্ছন্দ। তার রচিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা প্রায় সত্তর। এদের মধ্যে-'প্রেম মালিকা' ‘প্রেম সরোবর’ ‘গীত গোবিন্দানন্দ’ ‘বর্ষা বিনোদ’ ‘বিনয় প্রেমপচাশ', প্রেম ফুলওয়ায়ী, বেণুগীতি ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতেন্দু গ্রন্থাবলীর প্রথম খণ্ডে তার সমস্ত ছোটো বড়ো কাব্যরচনাসমূহ সংকলিত হয়েছে।


মূলত আধুনিক হিন্দি নাটক ও প্রবন্ধরচনা ভারতেন্দুর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। প্রাক ভারতেন্দু যুগে, রঙ্গমঞ্চ বা নাট্যধারার বিকাশ ঘটেনি তেমনভাবে। অত্যন্ত নিম্নমানের কয়েকটি ভ্রাম্যমান পার্সী থিয়েটারের দল থাকলেও যুগোপযোগী চিন্তাশৈলির এবং সামাজিক পটভূমিকার যথার্থ রূপায়ণের কোনও প্রকাশ তৎকালে দেখা যায়নি।

নিরাশার কালিমা থেকে পবিত্র ভারতীয় জীবন ও সাহিত্যকে উদ্ধার করে ভারতেন্দু সূর্য হিন্দি সাহিত্যের আকাশকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করেছিল।


সাহিত্যের অনেকগুলি শাখা থাকলেও নাটকই একমাত্র শাখা যার মাধ্যমে সামাজিক শিক্ষা, চিত্তবিনোদন এবং ভাববিনিময়ের সুযোগ সর্বাধিক বিদ্যমান। সুতরাং সাহিত্যের এই শাখার যথার্থ বিকাশ ব্যতিরেকে অন্যান্য শাখাগুলিও কিয়দংশে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সারসত্যটি ভারতেন্দু যথার্থভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই দেশের অতীত ইতিহাসের নাট্যরূপায়ণে প্রয়াসী হন। ফলে পরাধীন ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় ঐক্য এবং নবজাগরণের সূচনাকল্পে বারতেন্দুজী তার লেখনী ধারণ করেছিলেন নাটক রচনার মাধ্যমে। তার অনুদিত এবং মৌলিক নাটকের সংখ্যা সতেরো। ওই নাটকসমূহের কায়ায় তৎকালীন রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছে।


প্রাবন্ধিক ভারতেন্দু সাহিত্যাকাশে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। সমকালীন সমাজে পুঁজিবাদের বিস্তার মানবের মুক্তিপথে বাধার অচলায়তন রূপে বিরাজ করছিল। রাজনীতি, শিল্প, পুরাতত্ত্ব, ইতিহাস, ভ্রমণ, জীবনী, সমাজসংস্কার এবং ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধাবলী আমাদের চিন্তাশক্তিকে উদ্দীপ্ত করে। তাই হিন্দি সাহিত্যের আলোচনার পুরোধাপুরুষ হিসাবে আমরা ভারতেন্দুকে উল্লেখ করতে পারি।


 
 


ফাউন্দার


 www.bonglib.in একটি ওয়েব সাইট আমাদের এই ব্লগ সহ বিভিন্ন ব্লগে প্রকাস পাওয়া বই গুলি তাঁদের সাইটে দিচ্ছেন , এনাদের প্রোফাইলে আবার ফাউন্ডার কোফাউন্ডার লিখে দিচ্ছেন , কিন্তু লেবেল নিতে গেলে তো নিজেদের কিছু করে দেখানো প্রয়াজন , নিজে জীবনে একটি বই ও স্ক্যান না করেও এভাবে সাইট চালিয়ে লাভ কোথায় জানিনা ,অনেক ব্লগার এদের জন্য ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছেন ।