Wednesday, March 30, 2022

Post # 1076 Bengali Amarchitra Katha 264

                                                  ডাউনলোড করুন

 

 আজ থাকছে একটি সুন্দর জতক কাহিনী.................. 

হিন্দুরা বিশ্বাস করে সব প্রানীই মৃত্যু পর আবার জন্মগ্রহন করে। বুদ্ধও এ নিয়মের ব্যতিক্রমি নন । কিংবদন্তী এই যে ,তিনিও বুদ্ধত্ব অর্থাৎ পরম জ্ঞানী রুপে আবির্ভূত হবার আগে বেশ কয়েকবার বোধিসত্ত্ব হিসাবে জন্মগ্রহন করেছিলেন ।  

বোধিসত্ত্ব নানা রুপে পৃথিবীতে এসেছেন – কখনো মানুষ ,কখনো বা বানর, হরিন,হাতি অথবা সিংহ । যে নশ্বর রূপেই জন্মগ্রহন করুন না কেন , তিনি সর্বদাই করুণার আলোর ন্যায় আর প্রজ্ঞার বানী প্রচার করে গেছেন । এই সৎ ভাবনা আর সৎজীবন যাপনের জ্ঞানই জাতকের গল্পে রূপ পেয়েছে ।   

 




 

Friday, March 25, 2022

Post # 1075 Bengali Amarchitra Katha 263

                                                                      ডাউনলোড করুন

অন্ধ্রপ্রদেশের সবথেকে জনপ্রিয় উপকথা ''বালনাগাম্মা''-র অনুসরণে এই অমরচিত্রকথাটি  লুইস,এম, ফারনাণ্ডেস কর্তৃক সম্পাদিত।

রূপকথার গল্প যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে ...তাই হয়ত এই গল্প গুলি চির সজীব, জিবন্ত হয়ে আছে এখনো, গল্প শুনতেও ভালবাসে সকলে , বিশেষ করে ছোটরা... ছোট্ট মেয়েটি থাকতে ঠাকুমা তাঁর ঠাকুমার কাছ থেকে যে গল্প শুনেছিলেন তিনি তা তাঁর নাতি নাতনিদের নিজের মতো করে বলতে ভালবাসতেন । বহু দূর দেশ ভ্রমন কালে কোন পথিক তাঁর যাত্রাপথে কোনও কাহিনী শুনে পরে যখন সেগুলি কারো কাছে বলতেন তখন দরকার মতো স্থান কাল পাত্র অদল বদল করে নেন । এই ভাবে গল্প পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে ছড়িয়ে পড়েছে অন্য প্রান্তে... বলা বাহুল্য , আর এই কারনেই ঈশপ ও পঞ্চতন্ত্র প্রনেতা বিষ্ণুশর্মার কাহিনী মধ্যে অনেক রকম মিল দেখতে পাওয়া যায় ।





 

Thursday, March 24, 2022

Post # 1074 Bengali Amarchitra Katha 262

                                                                         ডাউনলোড করুন

  দিল্লিতে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা হামলার নেতৃত্ব রাসবিহারী বসু। ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। কিন্তু, তিনি সুকৌশনে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে ১৯১৫ সালে জাপান পালিয়ে যান। তিনিই ভারতের বাইরে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। পরবর্তীকালে নেতাজির হাতে আজাদ হিন্দ ফৌজ-এর পরিচালনার ভার তুলে দেন। 

Death anniversary of Indian revolutionary Rashbehari Bose

স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন অগ্রগণ্য বিপ্লবী নেতা ছিলেন রাসবিহারী বসু । ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালে জাপান সরকার রাসবিহারী বসুকে সম্মানসূচক সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান খেতাবে ভুষিত হন। অন্যদিকে, ১৯৬৭ সালে ২৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার তাঁর স্মৃতিরক্ষার্থে ডাকটিকিট প্রকাশ করেন। আজ এই বিপ্লবীর মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ২১ জানুয়ারি ১৯৪৫ সালে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

দিল্লিতে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা হামলার নেতৃত্ব রাসবিহারী বসু। ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। কিন্তু, তিনি সুকৌশনে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে ১৯১৫ সালে জাপান পালিয়ে যান। তিনিই ভারতের বাইরে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। পরবর্তীকালে নেতাজির হাতে আজাদ হিন্দ ফৌজ-এর পরিচালনার ভার তুলে দেন। 

১৮৮৬ সালে পূর্ব বর্ধমানে সুবলদহ গ্রামে জন্ম হল রাসবিহারী বসুর। সেখানেই কেটেছে তাঁর ছোটবেলা। শোনা যায়, তিনি ছোট বয়স লাঠি খেলায় পারদর্শী ছিলেন। তখন তিনি নাকি ইংরেজদের মূর্তি তৈরি করে তা লাঠি দিয়ে ভাঙতেন। ছোট বস বর্ধমানে কাটলেও জীবনের শেষটা কটিয়েছেন জাপানে। তিনি ১৯১৮ খ্রীষ্টাব্দের ৯ জুলাই রাসবিহারী বসু জাপানি সোমা পরিবারের কন্যা তোশিকো সোমাকে গোপনে বিবাহ করেন। তাদের দুই সন্তানের নাম হল তেৎসুকো হিগুচি বসু ও মাশাহিদের বসু। 

জীবনের প্রথম থেকেই বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা বিস্ফোরণের মামলায় যুক্ত হন। পরে দেরাদুনে যান। সেখানে বন্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেড ক্লার্ক হিসেবে নিযুক্ত হন। বহু বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাসবিহারী বসু। যে কারণে, ব্রিটিশ সরকারের সন্দেহভাজন হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বে বড়লাট হার্ডিঞ্জের ওপর প্রাণঘাতী হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সমগ্র ভারতব্যাপী সশস্ত্র সেনা ও গণ অভ্যুত্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাসবিহারী বসু। 
জানা যায়, রাসবিহারী বসু জাপানি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের পাশে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন যোগায়। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৮-১৯ মার্চ টোকিওতে তাঁর ডাকে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ বা ভারতীয় স্বাধীনতা লীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনিই ছিলেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি অন্যতম সংগঠক।





 

Wednesday, March 23, 2022

Post # 1073 Bengali Amarchitra Katha 261

                                                                           ডাউনলোড করুন

 

 এই বইটি বাংলায় প্রকাশিত হয়নি , ইংরাজি বইটি খুব সহজ ভাষায় করা হয়েছে , আশাকরি পাঠকদের অসুবিধা হবেনা । 

গল্প শোনার যতো মজা ,গল্প বানানোর মজা তার থেকে কম নয় । আর এই বানানো গল্পটি যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে,এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় উড়ে চলে – তার মজাও কম নয় । একবার সে পোশাক বদলায়,আরেক বার তার মুখের কথায় নতুন বাতাস লাগে । তারপর আবার নতুন কেনা জামা কাপড় পরে এ যেন আরেক নতুন মানুষ .........





 

Tuesday, March 22, 2022

Post # 1072 Bengali Amarchitra Katha 260

                                                                         ডাউনলোড করুন

 

 

১৮৩৬ সালে ১৮ই ফেব্রুয়ারি রামকৃষ্ণ পরমহংস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কামারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মা চন্দ্রমণি দেবী। রামকৃষ্ণের গদাধর চট্টোপাধ্যায় হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

যখন থেকে চন্দ্রমণি তাকে ধারণ করেছিলেন, তখন থেকেই তিনি এবং তার স্বামী উভয়ই অলৌকিক ও রহস্যময় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন যা তাদের নিশ্চিত করেছে যে গদাধর কোনও সাধারণ শিশু হবে না।

তরুণ গদাধর পড়তে ও লিখতে গ্রামের স্কুলে ভর্তি হয়েছিল তবে সে পড়াশুনো থেকে খেলতে পছন্দ করত। তিনি হিন্দু দেবদেবীদের মাটির প্রতিমা আঁকতে এবং বানাতে পছন্দ করতেন।

তিনি তার মায়ের কাছ থেকে শুনে আসা লোক ও পৌরাণিক কাহিনী দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি ধীরে ধীরে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ এবং অন্যান্য পবিত্র সাহিত্য পাঠ করেন। তরুণ গদাধর প্রকৃতিকে এতটাই পছন্দ করতেন যে তিনি তাঁর বেশিরভাগ সময় উদ্যান এবং নদীর তীরে কাটাতেন।

১৮৪৩ সালে গদাধরের পিতার মৃত্যুর পরে, পরিবারের দায়িত্ব পড়ে তার বড় ভাই রামকুমারের উপর। পরিবারের উপার্জনের জন্য রামকুমার কলকাতায় ফিরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

গদাধর তাঁর পরিবারের যত্ন নেওয়া এবং গ্রামে দেবতার নিয়মিত উপাসনা শুরু করেন, যা আগে তাঁর ভাই পরিচালিত করেছিলেন। তিনি গভীরভাবে ধর্মীয় এবং উপাসনা করেছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি কলকাতায় সংস্কৃত পড়ানোর জন্য একটি স্কুল খোলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুরোহিত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তিন বছর পরে, তিনি রামকুমারের একজন সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পুরোহিত হয়েছিলেন। রামকুমারের মৃত্যুর পরে তিনি কালী ধর্মীয় মন্দিরে পুরোহিতের পদ গ্রহণ করেন।

পাশের গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী সারদামনি সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন যখন তিনি তেইশ বছর বয়সে ছিলেন। সারদামনি আঠার বছর বয়সে দক্ষিণেশ্বরে স্বামীর সাথে যোগ দেন। রামকৃষ্ণ সারদা মাকে দিব্য মাতৃকাজ্ঞানে পূজা নিবেদন করেছিলেন। তাকে দেবী কালীর আসনে মায়ের রূপে পূজা করেছিলেন। রামকৃষ্ণ দেব বলতেন নারীমাত্রেই জগজ্জননীর রূপ, তাই তার স্ত্রী মায়ের এক রূপ। সারদা দেবী তার স্বামীর আদেশ মেনে খুব সহজেই শিষ্যদের কাছে মায়ের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

দক্ষিণেশ্বরে পৌরোহিত্যঃ

দক্ষিণেশ্বরে পৌরোহিত্যঃ

১৮৫৫ সালে দক্ষিণেশ্বরে কালী মন্দিরটি কলকাতার এক ধনী জমিদারপত্নী রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরের পুরোহিত খুঁজতে খুব অসুবিধা হয়েছিল। তাই রানি রাসমণির জামাই মথুরবাবু কলকাতার রামকুমারে কাছে আসে এবং তাকে মন্দিরে প্রধান পুরোহিতের পদ দেন। যার পরে গদাধরও মন্দিরে চলে আসেন এবং প্রতিদিনের আচার-অনুষ্ঠানে সাহায্য করেন। তিনি মন্দিরে দেবতাকে সাজাতেন।

১৮৫৬ সালে রামকুমার মারা যাওয়ার পরে গদাধর মন্দিরে প্রধান পুরোহিতের পদ গ্রহণ শুরু করেছিলেন। এভাবে গদাধরের পুরোহিত হিসাবে যাত্রা শুরু হয়। বলা হয় গদাধরের পবিত্রতা এবং অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী। মথুরবাবু তরুণ গদাধরের নাম রামকৃষ্ণ রেখেছিলেন।

দেবী কালীর উপাসকের রূপে রামকৃষ্ণ কে শক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হত তবে কিছু মানুষ তাঁকে অন্যান্য আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে তাকে বিচার করতেন। রামকৃষ্ণ সম্ভবত খুব কম যোগীর মধ্যে একজন ছিলেন। যিনি বিভিন্ন পথের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরকে অনুভব করার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি আলাদা আলাদা গুরুর অধিনে শিক্ষা নিয়েছিলেন। তিনি হনুমানের রূপে ভগবান রামের উপাসনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন রামের সবচেয়ে অনুগত অনুসারী।

১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৩ সাল পর্যন্ত মহিলা সাধু এবং ভৈরবী ব্রাহ্মণীর কাছ থেকে তন্ত্র পদ্ধতি শিখেছিলেন। রামকৃষ্ণ তন্ত্রের ৬৪ টি সাধনা পূরণ করেছিল। রামকৃষ্ণ পরবর্তীতে বৈষ্ণব ভক্তি সাধনার উপর আগ্রহী হন। তিনি বৈষ্ণব বিশ্বাসের কেন্দ্রীয় ধারণাগুলি মধুভাবকেও অনুশীলন করেছিলেন, যা কৃষ্ণের প্রতি রাধাকে যে ভালবাসার অনুভূতি দিয়েছিল তার সমার্থক।

রামকৃষ্ণ নদিয়া সফর করেছিলেন এবং এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেখেছিলেন যে বৈষ্ণব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা চৈতন্য মহাপ্রভু তার দেহে মিশ্রিত হয়েছিলেন। ১৮৬৪ সালে তোতাপুরী নামক জনৈক পরিব্রাজক বৈদান্তিক সন্ন্যাসীর কাছ থেকে রামকৃষ্ণ সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।

 

শ্রীরামকৃষ্ণের অসংখ্য শিষ্যের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ শীর্ষস্থানীয়। যিনি বিশ্বমঞ্চে রামকৃষ্ণের দর্শন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিবেকানন্দ তার গুরু রামকৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য ১৮৯৭ সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সমাজের সেবায় প্রতিষ্ঠাকে নিবেদিত করেছিলেন।

অন্যান্য শিষ্যরা যারা পারিবারিক জীবনের সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন এবং বিবেকানন্দের সাথে রামকৃষ্ণ মঠ নির্মাণে অংশ নিয়েছিলেন তারা হলেন কালীপ্রসাদ চন্দ্র( স্বামী অভেদানন্দ), শশীভূষণ চক্রবর্তী (স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ), রাখালচন্দ্র ঘোষ (স্বামী ব্রহ্মানন্দ), শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী (স্বামী সারদানন্দ)। তারা সকলেই কেবল ভারতবর্ষ নয়, সারা বিশ্বজুড়ে শ্রী রামকৃষ্ণের শিক্ষার প্রচার এবং তাদের সেবার দৃষ্টিভঙ্গি আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রামকৃষ্ণের অন্যান্য বিখ্যাত শিষ্যদের মধ্যে রয়েছে মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, মহেন্দ্র লাল সরকার, অক্ষয় কুমার সেন।

রামকৃষ্ণ তার প্রত্যক্ষ শিষ্যদের পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্রহ্মমোহন নেতা মিঃ কেশবচন্দ্র সেনের উপরও গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। রামকৃষ্ণের শিক্ষা এবং তার সংস্থা কেশবচন্দ্র সেনকে ব্রাহ্ম আদর্শের কঠোরতা প্রত্যাখ্যান করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বহুবাদকে স্বীকৃতি দিয়ে ব্রাহ্মণ আদেশের মধ্যেই নব বিধান আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তিনি তার নব বিধান আমলে রামকৃষ্ণের শিক্ষার প্রচার করেছিলেন।

 ১৮৮৫ সালে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কলকাতার সেরা চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য তার শিষ্যগণ রামকৃষ্ণকে শ্যামপুকুরে এক ভক্তের বাড়িতে স্থানান্তরিত করেছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে এবং কাশীপুরের এক বিরাট বাগানবাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়। তার অবস্থা দিনের পর দিন আরও অবনতি ঘটে এবং অবশেষে ১৮৮৬ সালে ১৬ আগস্ট কাশীপুরে বাগান বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।





 

Thursday, March 3, 2022

Post # 1071 Bengali Amarchitra Katha 019

                                                                     ডাউনলোড করুন

হনুমান ছিলেন রুদ্র অর্থাৎ শিবের একাদশতম অবতার, পাশাপাশি তাঁকে পবন পুত্রও বলা হয়। ২) হনুমান এর পিতার নাম কেশরী এবং মাতার নাম অঞ্জনা। অঞ্জনা দেবীও ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত।

পবন পুত্র হনুমানের দশটি অজানা গল্প


Unknown fact about lord hanuman, unknown story of lord hanuman


পবন পুত্র হনুমানের অসীম ক্ষমতার কথা আমাদের সকলেরই জানা রয়েছে। তাকে প্রসন্ন করবার জন্য আমরা সকলেই হনুমান চালিশা পাঠ করে থাকি। কিন্তু তার জীবনের অনেক কথাই আমাদের আজানা। আজ আমরা জানব হনুমানজীর জীবনের দশটি আজানা গল্প যেগুলো আপনি আগে কখনও শোনেননি এ ব্যাপারে নিশ্চিত।

এক।। হনুমানজীর জন্ম হয়েছিল মাতা অঞ্জনীর পাপ নির্মূল করতে :
হনুমানজীর মা অঞ্জনী ছিলেন মর্তের এক অপ্সরা। মুণি ঋষির পাপে তার মুখ বাঁদরের মত বিকৃত হয়ে যায়। তাকে অভিশাপ দেওয়া হয় তিনি যখনই ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হবেন তার মুখ বানরাকৃতি হয়ে যাবে। অঞ্জনী প্রেম বন্ধন এবং বিবাহ হয় বানর রাজ কেশরীর সঙ্গে। অঞ্জনী ছিলেন শিবের উপাসক। তার উপাসনায় শিব প্রসন্ন হয়ে তাকে বর দেয় যে তার গর্ভে জন্ম নেবেন  এবং তাতে তার পাপ কেটে যাবে। একবার রাজা দশরত পুত্র লাভের আশায় যজ্ঞ করছিলেন। সেই যজ্ঞের প্রসাদ যেটা কৌশল্যার পাতে পড়ার কথা ছিল সেটি একটি চিল এসে আচমকাই নিয়ে উড়ে চলে যায় এবং অঞ্জনীর পাতে পড়ে। অঞ্জনী সেটি শিব ঠাকুরের প্রসাদ ভেবে খেয়ে নেয় এবং গর্ভবতী হয়। পরে শিব ঠাকুরের একাদশ তম রুদ্র অবতার হনুমানের জন্ম হয় এবং মাতা অঞ্জনী পাপ মুক্ত হন।

দুই।। শ্রীরামের দ্বারা হনুমানকে মৃত্যু দন্ড প্রদান :

কি শিরোনাম পরে অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ এমনটাই একবার হয়েছিল। যেই প্রভু রামের হনুমান ভক্ত ছিল সেই রামই একবার হনুমানকে বধের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। একবার কোন এক কারনে রাম চন্দ্রের গুরু বিশ্বামিত্র হনুমানের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং তিনি শিষ্য রামকে হনুমান বধের আদেশ দেন। রাম গুরুর আদেশ পালন করবার জন্য হনুমানজীর ওপর অনেক মায়াবী বাণ বর্ষন করেন। কিন্তু হনুমান সেই বাণের বিপরীতে ধ্যগমগ্ন হয়ে রাম নাম করতে থাকেন নিরন্তর। রাম নামের প্রভাবে শ্রী রঘুবীরের একটিও বাণ হনুমানের গায়ে লাগে নি। রাম নামের জন্য হনুমান একেবারে অক্ষত থাকেন।

তিন।। মাতা সীতার উপহার হনুমানের প্রত্যাখ্যান :

  সীতা মাতা একবার প্রসন্ন হয়ে খুব সুন্দর এক সোনার হার উপহার দেন হনুমানকে। কিন্তু হনুমান সেই উপহার নিতে অস্বীকার করেন। সীতা মাতা একটু অসন্তুষ্ট হয়ে তার উপহার প্রত্যাখ্যান করার কারন জিজ্ঞেস করেন। তখন হনুমান তার বুক চীরে সীতা মাতাকে দেখান তার বুকে শ্রীরাম ও সীতা বাস করেন তাই অন্য সব কিছু তার কাছে তুচ্ছ।

চার।। হনুমানের লেখা রামায়ন : 

হনুমানজীও একবার রামায়ন লিখতে গেছিলেন। বরং বলা ভাল রামায়ন লিখেছিলেন। লঙ্কা কান্ডের পর হনুমানজী একবার হিমালয়ে গিয়ে নখ দিয়ে রামায়ন রচনা করতে লাগলেন। কিন্তু এদিকে ঋষি বাল্মিকী এই কথা শুনে একটু অভিমান করেন। বাল্মিকীর অভিমানের কথা শুনে হনুমানজী তার লেখা রামায়নসহ পর্বতটি সাগরে ফেলে দেন।

পাঁচ।। ভীম এবং হনুমান দুই ভাই : 

আপনারা সকলেই জানেন মহাভারতে উল্লেখ আছে একবার হনুমানজী ভীমের গর্ব চূর্ন করেছিলেন। কিন্তু আপনারা জানেন কি ভীম ও হনুমান দুই ভাই। হনুমানজীর জন্মদাতা পিতা হলেন কেশরী আর ভীমের হলেন পান্ডুর ছেলে। কিন্তু এদের দুজনেরই আধ্যাত্মিক পিতা হলেন বায়ু।  তাই তারা একে অপরের সহদর। হনুমানজীর জন্মে বায়ুর অবদানতো আপনি জানেন। ঠিক সেই রকমই ভীমের জন্মের পেছনেও বায়ুর অবদান রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পঞ্চপান্ডবের পিতা  পান্ডু কিন্তু এক অভিশাপে সন্তান জন্মে অপারক ছিলেন।

ছয়।। হনুমান নামের প্রকৃত অর্থ বিকৃত চোয়াল :

হনুমান কথাটি প্রকৃতপক্ষে একটি সংস্কৃত শব্দ। 'হনু' কথাটির অর্থ হল ' চোয়াল ' এবং 'মান' কথাটির অর্থ হল 'বিকৃত'। অর্থাৎ বিকৃত চোয়াল। শৈশবে সূর্যকে মধুর ফল ভেবে খেতে যাওয়ায় ইন্দ্র দেবের বজ্র প্রহারে হনুমানজীর চোয়াল বিকৃত আকার ধারন করে। 

সাত।। হনুমানের ক্ষুধা নিবারণ :

বনবাসের সময় একবার হনুমানজী সীতা মাতার সঙ্গে দেখা করতে তাদের কুটিরে যান। সীতা মাতা খুব আনন্দিত হয়ে হনুমানজীকে খেতে বললেন এবং তার জন্য অনেক খাবার রান্না করলেন। এবার খাবার সময় সীতা মাতা যখন খাবার পরিবেশন করতে লাগলেন তখন হনুমানজীর ক্ষুধা কোন ভাবেই মিটছিল না। এর মধ্যে সীতা মাতার রান্না করা খাবার প্রায় শেষের পথে। এই অবস্থায় সীতা মাতার রামজীর স্মরণাপন্ন হওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তিনি রামজীকে সব কথা বললেন এবং রামজী হনুমানজীর খাবারে তুলসীপাতা খেতে দেবার জন্য বললেন। সীতা মাতা রামজীর কথা মত তাই করলেন। তুলসীপাতা খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হনুমানজীর ক্ষুধা নিবারণ হয়ে গেল। 

আট।। কিভাবে সুগ্রীবের সেনাপতি হলেন হনুমানজী :

শৈশবে যে সূর্যদেবকে হনুমানজী মধুর ফল ভেবে খেতে গেছিলেন বড় হয়ে সেই সূর্যদেবকেই তার গুরু করে ছিলেন। সূর্যদেব হনুমানজীর মেধায় অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি মাত্র ষাট ঘন্টায় সমস্ত শাস্ত্র জ্ঞান লাভ করে ছিল। সূর্যদেব হনুমানজীর কাছ থেকে গুরু দক্ষিণা হিসেবে সুগ্রীবের সঙ্গী হতে বলেন। তিনি সুগ্রীবের সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। সুগ্রীব ছিলেন সূর্য দেবেরই সন্তান।

নয়।। ভরত দ্বারা হনুমানজীকে আক্রমণ :

হনুমানজী একবার ভরত দ্বারা তীরবিদ্ধ হয়েছিলেন। রাম রাবণের যুদ্ধে লক্ষণের একবার প্রান ত্যাগ ঘটেছিল সেই কথা সকলেরই জানা। হনুমানজীর দায়িত্ব পড়েছিল সঞ্জীবনী বুটি আনবার। সেই আদেশানুসারে হনুমানজী সঠিক সঞ্জীবনী বূটি চিনতে না পেরে গোটা গন্ধমাদন পর্বত তুলে নিয়ে আসবার সময় ভরত মনে করেন কোন দৈত্য অযোধ্যার ক্ষতি করতে এসেছে। তিনি শ্রীরামের নামে এক তীর ছোঁড়েন। সেই তীর হনুমানজীর পায়ে গিয়ে লাগে। তীর শ্রীরামের নামে ছোড়া হয়েছিল বলে হনুমানজী সেই তীর প্রতিরোধ করে নি। পরে ভরত আহত হনুমানজীর কাছ থেকে সব শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি হনুমানজীকে সাহায্য করবার কথা বললেও হনুমানজী তা নিতে অস্বীকার করেন।

দশ।। হনুমানজীরা মোট ছয় ভাই ছিলেন : 

ব্রহ্মপুরাণ অনুসারে মাতা অঞ্জনী ও কেশরীর হনুমানজী ছাড়াও আরও পাঁচ সন্তান ছিল। অর্থাৎ হনুমানজীর আরও পাঁচ ভাই ছিল। তাদের নাম : মাতিমান, শ্রুতিমান, কেতুমান, গাতিমান ও ধৃতিমান। হনুমানজী ছিলেন বাণররাজ কেশরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। 

উপরের এই দশটি ঘটনার বেশিরভাগ গুলোই হয়ত আপনাদের অজানা ছিল। হনুমানজীর অপার ক্ষমতার মত তার জীবনের অনেক ঘটনাই আমাদের কাছে আজও অজানা এক রহস্য।
 https://www.bengalihanumanchalisa.com