১৯ নং সংখ্যা হনুমান ... ছায়া প্রকাশনীর নতুন প্রিন্ট থাকলেও পুরানো প্রিন্ট নেই ... নতুন সিরিজের ও প্রিন্টের নং ও আলাদা... আর কিছুদিনের মধ্যে যদি পুরানো প্রিন্ট খুঁজে না পাই তবে ১৯ নং বলে ওটি দিতে বাধ্য হবো । তাই আজ ২০ নং সংখ্যা টি দিলাম ।
মহাভারত আকারে ও মাহাত্ম্যে পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় মহাকাব্য। চারটি জাত মহাকাব্যের একটিও বটে। মূলগ্রন্থ সংস্কৃতে
রচিত হলেও বিভিন্ন ভাষার অনুবাদগুলোও মূল পাণ্ডুলিপি থেকে কম জনপ্রিয়তা
পায়নি। 'মহাভারত' অর্থ ভরত বংশের মহান কাহিনী।
হিন্দু পুরাণের এক
জনপ্রিয় রাজার নাম ভরত। তিনি ছিলেন রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র এবং
একজন ক্ষত্রিয় চন্দ্রবংশীয় রাজা। আর সেই ভরত রাজার বংশের কাহিনীগুলোই
স্থান পেয়েছে মহাভারতে। কত বছর আগে এই গ্রন্থ রচিত হয়েছিল, সঠিকভাবে কেউ
বলতে পারে না। প্রাচীন পণ্ডিতদের মতে, মোটামুটি পাঁচ হাজার বছর আগে রচিত
হয়েছিল এটি। তবে আধুনিক বিশেষজ্ঞরা বলেন অন্য কথা। তাদের মতানুসারে-
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিস্টিয় দ্বিতীয় শতকের মধ্যে মহাভারত রচিত
হয়েছিল।
যেভাবে রচিত হলো
মহাভারত রচনার ঘটনাটি বড় মজার।
ব্যাসদেব, পুরো নাম 'কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস' ভরত বংশের কাহিনী নিয়ে একটি
বিশালাকার গ্রন্থ রচনার জন্য হিমালয়ে বসে তপস্যা করছিলেন। তপস্যায়
সিদ্ধিলাভ করে তিনি ছোটেন ব্রহ্মলোকে, ভগবান ব্রহ্মের কাছ থেকে একজন
শ্রুতিলেখক নিযুক্ত করার জন্য।
ভগবান
ব্রহ্ম তাকে গণেশের কাছে পাঠান। গণেশ বই লিখতে রাজি হন কিন্তু সাথে সাথে
একটি শর্ত জুড়ে দেন যে, শ্লোক বলার সময় থামা যাবে না। ব্যাসদেব তার শর্ত
মেনে নিয়ে নিজেও একটি শর্ত দেন, শ্লোক লেখার সময় প্রত্যেকটি শ্লোক বুঝে
বুঝে লিখতে হবে। গণেশ ব্যাসদেবের শর্ত মেনে নিয়ে তার আশ্রমের দিকে যাওয়া
শুরু করেন নিজের বাহন মূষিকের পিঠে চড়ে। ব্যাসদেব শ্লোক বলার মাঝে কিছু
দুর্বোধ্য শ্লোক ঢুকিয়ে দিতেন। এগুলো বুঝতে গণেশ একটু সময় নিলে তিনি পরের
শ্লোকগুলো ভেবে নিতেন। এই শ্লোকগুলোই পরে 'উদ্ভট শ্লোক' নামে প্রসিদ্ধ হয়।
ব্যাসদেব গণেশকে আবৃত্তি করে মহাভারত শোনাচ্ছেন; Image Source : pinterestএভাবে
মহাভারত লিখতে সময় লেগে যায় তিন বছর। আর এরই মাঝে গণেশ নিজের দুটো দাঁতের
একটি হারান। তারপর তার নাম হয় একদন্ত। শুরুতে এই গ্রন্থের নাম ছিল ‘জয়’ এবং
এর শ্লোকসংখ্যা ছিল ৮,৮০০। পরে ব্যাসের শিষ্য বৈশম্পায়ন এতে আরো শ্লোকের
সংযোগ ঘটিয়ে ২৪,০০০ শ্লোকের একটি গ্রন্থ রচিত করেন। সেটির নাম ছিল ‘ভারত'।
তারপর ‘ভারত’-কে অপর এক শিষ্য উগ্রশ্রবা অধ্যয়ন করে ১০০,০০০ শ্লোকবিশিষ্ট
একটি গ্রন্থে পরিণত করেন। বর্তমানে প্রচলিত মহাভারতের শ্লোকসংখ্যা এক লক্ষ।
মহাভারতে
অবশ্য এ বিষয়ে একটু ভিন্ন কথা বলা আছে। সেখানে আছে, ব্যাসদেব ষাট লক্ষ
শ্লোকযুক্ত একটি ধর্মের জয়সূচক গ্রন্থ রচনা করেছেন- যার ত্রিশ লক্ষ শ্লোক
দেবলোকে, পনেরো লক্ষ শ্লোক পিতৃলোকে, চৌদ্দ লক্ষ শ্লোক যক্ষলোকে এবং বাকি
এক লক্ষ শ্লোক প্রচলিত আছে মর্ত্যলোকে। মহাভারতে এভাবে আছে–
কেউ
যদি বলে, মহাভারত শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ- তবে বুঝতে হবে তিনি মহাভারত
পড়েননি। মহাভারত শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়। এটি সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ
ঐতিহাসিক গ্রন্থ। আজ থেকে চার-পাঁচ হাজার আগের ভারত দেখা যায় এই গ্রন্থে।
সে যুগের সমাজবিধি ও আচার-অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বলা হয়েছে এখানে। একটি প্রথা
ছিল এমন, ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয় ছাড়া কেউ অস্ত্রশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে
না। বর্ণপ্রথার বিষয়ও জানা যায় এখান থেকে।
ভারতভূখণ্ডের
বিভিন্ন রাজ্যের রাজবংশ, প্রথা, খাদ্যাভ্যাস, বাহন এবং উৎসবের কথা আলোচনা
করা হয়েছে। ভারতকে আখ্যায়িত হয়েছে আর্যাবর্ত নামে। ভারতের বাইরের
যুদ্ধপ্রিয় জাতিদের অসুর নামে পরিচিত করানো হয়েছে। স্বয়ম্বর অনুষ্ঠানের
কথাও মহাভারতে উল্লেখ আছে।
তৎকালীন সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন যাগযজ্ঞের
আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ও আছে মহাভারতে। অশ্বমেধ যজ্ঞ, পুত্রেষ্টি যজ্ঞ,
সর্পনিধন যজ্ঞ -এমন অনেক যজ্ঞের কথা আছে। হস্তিনাপুর, মগধ, পাঞ্চাল, চেদি,
মদ্র, অঙ্গ, গান্ধার, পুণ্ড্র, বিরাট, দ্বারকাসহ তৎকালীন ভারতের সব রাজ্যের
বিষয়েই বর্ণিত হয়েছে মহাভারতে, যেন পুরো আর্যাবর্তের একটি মানচিত্র আছে
এখানে।
তৎকালীন ভারতের মানচিত্র (মহাভারত অনুসারে) ; Image Source : Vedicfeedএছাড়াও
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কাহিনী, এ যুদ্ধে ভারতভূখণ্ডের প্রতিটি রাজার
সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনাসহ যুদ্ধপরবর্তী প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ দেয়, মহাভারত
একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ।
দার্শনিক গ্রন্থ মহাভারত
মহাভারত একটি
দার্শনিক গ্রন্থও বটে। ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ- এই চার পুরুষার্থ
সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়েছে মহাভারতে। মহাভারতে মোট ১৮টি অধ্যায় তথা
‘পর্ব’ ও ১০০টি ‘উপপর্ব’ রয়েছে। শ্রীমদভাগবত গীতা ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত।
শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যে উপদেশাবলি প্রদান করেছেন, সেগুলোই মূলত
গীতাতত্ত্বসার।
অচ্ছেদ্যোহমদাহোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থানুচলহং সনাতনঃ।। (শ্রী গীতা অধ্যায়: ২, শ্লোক: ২৪)
অর্থাৎ, এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য। তিনি চিরস্থায়ী, সর্বব্যাপী, অপরিবর্তনীয় ও সনাতন।
আজও
আত্মার এই সংজ্ঞাই সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। গীতায়
মানুষের স্বত্তঃ, রজঃ, তমঃ গুণের প্রসঙ্গ এসেছে। জন্মান্তরের পুরোটাই মূলত
গীতা থেকে গ্রহণ করেছে হিন্দুরা। দেহ ও আত্মার সংযোগ, যোগব্যায়াম ব্যবহার
করে মনকে কেন্দ্রীভূত করা এগুলো শিখেছে মানুষ গীতা থেকে। ব্রহ্মজ্ঞান বা
সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়েও গীতায় অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধরত কৌরব-পাণ্ডব; Image Source : Vedicfeedতবে
মহাভারতে শুধু যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়নি, যুদ্ধকৌশলও বর্ণিত হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যূহ রচনার কৌশল, অস্ত্রচালনার কৌশল, সংযমের কৌশল শেখানো হয়েছে
এখানে। সারাদিন যুদ্ধের পর যখন পাণ্ডব ও কৌরবদের রথী-মহারথীরা স্ব স্ব
তাঁবুতে মিলিত হয়ে যুদ্ধকলা নিয়ে আলোচনা করতেন, সে আলোচনা থেকে অনেক কিছু
শেখা যায়। অভিমন্যুকে মারার জন্য চক্রব্যূহ নির্মাণ করা হয়, যাতে ঢোকা সহজ
হলেও বেরোনো কঠিন।
চক্রব্যূহ; Image Source : indiafactsবিরাট
রাজাকে আক্রমণের জন্য বজ্রব্যূহ নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে
বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ করার মতো। পরশুরাম ও ভীষ্মের যুদ্ধে ভীষ্ম
ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহার করেন। অর্জুন জয়দ্রথকে বধ করেন পশুপাতাস্ত্র দিয়ে।
এরকম আরো আছে নাগাস্ত্র, বাসববাণ ইত্যাদি। একটি বিষয় খুব খেয়াল করার মতো,
মহাভারতের সব যুদ্ধতেই লোহার ব্যবহার আছে। অর্থাৎ, ব্রোঞ্জ যুগের সমাপ্তির
পর শুরু হওয়া লৌহযুগ ছিল মহাভারতের সময়কাল।
মহাভারতের ব্যাপকতা
মহাভারতের
ব্যাপকতা বা দার্শনিকতা শুধু কিছু পৌরাণিক কাহিনী বা আখ্যানের সমষ্টি নয়।
এটি সেযুগের প্রচলিত বৈদিক ও ধার্মিক দর্শনের সারাংশ। একে পঞ্চমবেদ বলেও
আখ্যায়িত করা হয়। এ ব্যাপারে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে, একদা দেবতারা একটি
তুলাযন্ত্রের এক পাল্লায় চারটি বেদ ও উপনিষদ রাখেন, আর অন্যপাল্লায় রাখেন
মহাভারত। মহাভারতের পাল্লাটি ভারে ও মাহাত্ম্যে বেশি ভারি হয়। এ নিয়েও একটি
শ্লোক আছে,
মহত্ত্বাদ্ ভারতবত্ত্বাচ্চ মহাভারতমুচ্যতে।।
অর্থাৎ -
জগতের তাবত বস্তুর চেয়ে মাহাত্ম্যপূর্ণ এই মহাভারত।
মহাভারতের ব্যাপারে বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে, যা নেই ভারতে, তা নেই মহাভারতে।
এর মানে হল- মহাভারতে যা আছে, তা ভারতবর্ষের অন্য কোথাও থাকতে পারে। কিন্তু, মহাভারতে যা নেই, তা ভারতের কোথাও নেই।
টেলিভিসন এ মহাভারত
আশির
দশকের জনপ্রিয় ধারাবাহিক মহাভারতফের দেখানো হচ্ছে টিভিতে। সেই সময় যখন মহাভারতে দেখানো হতো
ধারাবাহিকটি তাএতটাই
জনপ্রিয় হয়েছিল যে রাস্তা তখন বলতে গেলে ফাকা হয়ে যেত।বিশেষ লোকচলাচল দেখা যেত না
রাস্তায়। আর সেই আশা নিয়ে এই লক ডাউনের সময় মানুষজনকেঘরে বসিয়ে রাখতে ফের সম্প্রচার করা
হচ্ছে বি আর চোপড়া প্রযোজিত এবং তারছেলে রবি চোপড়া নির্দেশিত এই মহাকাব্য ধারাবাহিকটি। তিন দশক
আগে তৈরিধারাবাহিক
ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঘটনা। এমন নয়টি ঘটনা দেখে নেওয়া যাক।
১)
নিতিশ ভরদ্বাজ ওই ধারাবাহিকে কৃষ্ণেরভূমিকায় অভিনয় করলেও তিনি ওই ভূমিকা অভিনয় করতে ভয়
পেয়েছিলেন। তাইতিনি
কয়েকবার স্ক্রিন টেস্ট এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
২
)প্রথমে দ্রৌপদীর ভূমিকায় ভাবা হয়েছিলজুই চাওলাকে । কিন্তু তিনি তখন আমির
খানের সঙ্গে কয়াম্যাত সে কয়াম্যাততক ছবিতে অভিনয় করাটাই বেছে নেন। ফলে তার পরে রূপা গাঙ্গুলীকে
ওই ভূমিকারজন্য
বেছে নেওয়া হয়।
৩
)নকুল এবং সহদেব চরিত্রে যারা অভিনয় করেছিলেন তারা বাস্তবে দুই ভাই। এরা হলেন
সমীর চিত্রে এবং সঞ্জীব চিত্রে।
৪)
নীতিশ ভরদ্বাজ যিনি কৃষ্ণের ভূমিকাঅভিনয় করেছিলেন তাকে প্রথমে বিদুরের ভূমিকায় অভিনয় করতে বলা
হয়েছিল।তবে
তার বদলে বীরেন্দ্র রাজদানকে নেওয়া হয়। তখন নিতিশকে বলা হয় ওইভূমিকায় অভিনয়ের
জন্য তার বয়স অল্প।
৫)
পঙ্কজ ধীর যিনি কর্ণের ভূমিকায় অভিনয়করেন তিনি সেটের মধ্যে প্রচন্ডভাবে
আহত হয়েছিলেন যুদ্ধের দৃশ্যে । কারণতার রথ ভেঙ্গে গেলে ঘোড়া প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যায় এবং তিনি
আহত হন।তাছাড়া
তিনি চোখের কাছে তীরের খোঁচা খাওয়ায় তার অপারেশন করতে হয়েছিল।
৬) বিদুরের ভূমিকায় অভিনয় করতে নাদেওয়ার পর নীতিশ ভরদ্বাজকে নকুল সহদেবের ভূমিকার জন্য বাছা হয়
। কিন্তুতিনি
তাতে রাজি হন না বরং অভিমুন্য ভূমিকা অভিনয় করতে চান।
প্রথমেই বলে রাখি যে আমার ল্যাপটপ টির স্ক্রিন টি গেছে... সব লাল দেখাচ্ছে... মাঝে মাঝে আবার ঠিক হয়ে যাচ্ছে... কোথাও 'ড্রাই সোলডার' আছে বা ' ওয়্যার বাস ' এ প্রব্লেম আছে মনে হচ্ছে ।
আমি কোন কালার ডকুমেন্ট এডিট করতে পারছিনা... আবার ডেস্কটপ টির ও মাদার বোর্ড খারাপ... নতুন মনিটার গিফট করেছিল আমাদের কৌশিক দত্ত দা ( বুক ফার্ম )... দেখা যাক এবার মনে হচ্ছে দুটোই এক সাথে সারাতে হবে...
আজ একটি ঐতিহাসিক কমিকস্ থাকছে ... অনেকেই আপনারা জানেন যে 'বোলতার' ছবি দিয়ে ও ছদ্ম নামে অলংকরণ করতেন শ্রী প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়... তিনি প্রথম হাঁদা ভোঁদার কমিকস্ করে ছিলেন শুকতারায় ধারাবাহিক একটি কাহিনী নিয়ে ।... (সেটি ও স্ক্যান করা আছে সময় মতো দেবো ব্লগে ) তারপরের কমিকস্ টি আজ থাকছে... এটি প্রকাশ পেয়েছিল বৈশাখ ১৩৬৫ থেকে বৈশাখ ১৩৬৬ পর্যন্ত... এই হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা গুলি দেখাবার জন্য দিলাম... কিন্তু পি ডি এফ থাকছে ঝকঝকে এডিট করা... আমি নিজে যদিয়ও এই হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা গুলিই ভালবাসি ... ।
ইন্দ্রজাল কমিকস্ ১-১০ অবধি পি ডি এফ করে দেওয়া হয়েছে ... সকলে ডাউনলোড করতে পারবেন ।
সীতার বনবাস, অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সময়ে লব-কুশের সঙ্গে দেখা, তার পরে আবার
সীতার অগ্নিপরীক্ষা চাওয়া এবং সবশেষে সীতার পাতালে প্রবেশ— মোটামুটি এই
পর্যন্ত সকলেরই জানা। সীতার মৃত্যুর পরে লব-কুশ তাঁদের বাবার সঙ্গে
অযোধ্যাতেই থেকে যান।
কিন্তু তার পরের কথা কি জানেন? পরিণত বয়সে কী কী করেছিলেন লব-কুশ? ভরত,
লক্ষ্মণ আর শত্রুঘ্নদেরও তো ছেলেপুলে ছিল। রামের সেই ভাইপোদের কী গতি হল
বলুন তো? এই নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে পণ্ডিতদের মধ্যে তবে সবচেয়ে প্রচলিত
মতটিই এখানে তুলে ধরা হল— লব-কুশ
রাম মারা যাওয়ার আগে কোশল সাম্রাজ্যটি দু’ভাগে ভাগ করে যান। শোনা যায়
লব-কে তিনি শ্রাবস্তীর রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করে যান এবং কুশ-কে দিয়ে যান
কুশাবতী নগর। বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে নাকি ছিল এই নগর। শোনা যায় কাশী এবং
মৌর্য রাজবংশ নাকি কুশেরই বংশধর। লব কিন্তু শ্রাবস্তীর রাজা হয়ে থেমে
থাকেননি। প্রচলিত মত, তিনি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে তাঁর রাজ্য বিস্তার করেন
এবং লাভাপুরী নামের একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন। এই লাভাপুরীই হল এখনকার
পাকিস্তানের ‘লাহোর’। এই লবেরই আর এক নাম ‘লোহ’। লাহোর ফোর্টের ভিতরে তাঁর
নামে একটি মন্দিরও রয়েছে। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ‘লাওস’ এবং
থাইল্যান্ডের একটি শহর ‘লবপুরী’ তাঁরই নামাঙ্কিত। রাজস্থানের মেবার রাজবংশ
লবেরই বংশধর বলে ধারণা। এছাড়া রাজস্থানের বেশ কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা
নিজেদের লবের বংশধর বলে দাবি করেন।
হিন্দু পুরাণে অভিশাপের পরম্পরা নিয়ে লিখলে কর্ণের পরেই আসবে রাজা
হরিশচন্দ্রের নাম | তাঁর পিতা সত্যব্রত ত্রিশঙ্কু হয়ে যা কষ্ট ভোগ
করেছিলেন, পুত্র হরিশ্চন্দ্র তার তুলনায় কণামাত্র কম দুর্ভোগ পোহাননি |
ঐতেরেয় ব্রাহ্মণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণ, দেবী ভগবত্ পুরাণ, মহাভারতে আছে তাঁর
কথা | উত্সবিশেষে ঈষত্ পরিবর্তন হয়েছে হয়তো | কিন্তু সর্বত্রই তিনি
নিপীড়িত |
ঐতেরেয় ব্রাহ্মণে আছে রাজা হরিশচন্দ্রের শত মহিষী ছিলেন |
কিন্তু কোনও পুত্র ছিলেন না | বরুণদেবের আশীর্বাদে পুত্রলাভ করলেন রাজা |
পরিবর্তে হরিশ্চন্দ্রের কাছ থেকে বচন গ্রহণ করলেন বরুণদেব | ভবিষ্যতে একদিন
তাঁকে কিছু দান করবেন রাজা হরিশ্চন্দ্র | প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন নৃপতি |
কালক্রমে
বড় হতে লাগলেন রাজা হরিশ্চন্দ্রের পুত্র | তাঁর নাম রোহিত বা রোহিতাশ্ব |
একদিন বরুণদেব এসে প্রতিশ্রুতিমতো দান যাচনা করলেন | হরিশ্চন্দ্র
ভেবেছিলেন হয়তো ধন সম্পদ চাইবেন তিনি | কিন্তু বরুণদেব চাইলেন পুত্র
রোহিতকে ! তাঁকে তিনি বলি দেবেন | শ্রবণমাত্র কম্পিত হল পিতৃহৃদয় |
দেবরাজ
ইন্দ্রের পরামর্শে রোহিত পলায়ন করলেন অরণ্যে | তাঁকে না পেয়ে দেবরোষে
পড়লেন হরিশ্চন্দ্র | বরুণদেবের অভিশাপে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লেন রাজা | সেই
সংবাদ পেয়ে অরণ্যচারী রোহিত বিচলিত হয়ে পড়লেন | এমতাবস্থায় তাঁর সাক্ষাত্
হল এক কপর্দকহীন বিপ্রর সঙ্গে | তাঁর নাম অজিগর্তা | তাঁকে বহু
স্বর্ণমুদ্রা ও গাভী দিলেন রোহিত | পরিবর্তে তিনি পেলেন বিপ্রর মধ্যম
পুত্রকে | রোহিতের পরিবর্তে তিনি রাজি হলেন বলিপ্রদত্ত হতে |
যাই
হোক, শেষ অবধি বলিদান করেননি বরুণদেব | অজিগর্তার মধ্যম পুত্রকে দত্তক
নিলেন বিশ্বামিত্র | বরুণদেবের অভিশাপ অস্তমিত হওয়ায় আরোগ্য লাভ করলেন রাজা
হরিশ্চন্দ্র | ফিরে পেলেন ছেলে রোহিতাশ্বকে | এই একই আখ্যান আছে রামায়ণেও |
সেখানে রাজার নাম অম্বরীশ |
মার্কণ্ডেয় পুরাণে যে কাহিনী আছে তা
বহুল প্রচলিত | সেখানে কথিত নৃপতি হরিশ্চন্দ্র ছিলেন ত্রেতা যুগে | অত্যন্ত
সত্ ও মহান এই নৃপতির মহিষী ছিলেন শৈব্যা বা তারামতী | পুত্র রোহিতাশ্ব |
একদিন মৃগয়ারত হরিশ্চন্দ্র নারীকণ্ঠের ক্রন্দন শুনলেন | ভাবলেন
কোনও নারী হয়তো বিপদের সম্মুখীন | তিনি শরনিক্ষেপ করলেন | কিন্তু সেই
ক্রন্দন ছিল মায়া | বিঘ্নরাজের সৃষ্টি | বিপদ আরও ঘোরতর করতে তিনি প্রবেশ
করলেন রাজা হরিশ্চন্দ্রের দেহে | ওই অরণ্যেই তপস্যা করছিলেন ঋষি
বিশ্বামিত্র | তাঁর সামনে গিয়ে কটুবাক্য নিক্ষেপ করেন রাজা | তাঁকে দিয়ে ওই
দুষ্কর্ম করান বিঘ্নরাজ |
তপস্যা ভঙ্গ হওয়ায় কুপিত বিশ্বামিত্র
রাজাকে বললেন, রাজসূয় যজ্ঞের যাবতীয় ব্যয় পূরণ করতে হবে তাঁকে | ইতিমধ্যে
বিঘ্নরাজের প্রকোপ দূর হয়েছে | সম্বিত্ ফিরে পেয়েছেন হরিশ্চন্দ্র | তিনি
বুঝলেন সমূহ বিপদ উপস্থিত |
যজ্ঞের নিমিত্ত সর্বস্ব হরণ করলেন
বিশ্বামিত্র | রাজার ধন সম্পদ দাস দাসী লোকলস্কর থেকে শুরু করে পরনের
বস্ত্র অবধি | সব ত্যাগ করে শুধু কৌপীন পরে রাজ্য ত্যাগ করলেন রাজা
হরিশ্চন্দ্র | সঙ্গে স্ত্রী ও পুত্র | ঐটুকুই মাত্র নিজের কাছে রাখার
অনুমতি পেয়েছিলেন রাজা | কিন্তু তখনও জানতেন না সামনে কী অপেক্ষা করে আছে |
তাঁরা যাতে দ্রুত রাজ্য ছাড়েন, রানি শৈব্যাকে লাঠিপেটা করতে লাগলেন
বিশ্বামিত্র |
ভাগ্য বিড়ম্বিত রাজা হরিশ্চন্দ্র পৌঁছলেন কাশী |
দেখলেন আগেই উপস্থিত বিশ্বামিত্র | তিনি বললেন তাঁর যজ্ঞের ব্যয় এখনও বাকি |
আরও অর্থ প্রয়োজন | হরিশ্চন্দ্র বাধ্য হলেন স্ত্রীকে বিক্রি করতে |
শিশুপুত্র মাকে ছেড়ে কী করে থাকবে ? তাই সেও সঙ্গ নিল মায়ের | মহিষীকে
বিক্রয় করে যা পেলেন ঋষির হস্তে সমর্পণ করলেন রাজা |
তথাপি ঋষির
ক্ষুধা নিবৃত্ত হল না | এ বার হরিশ্চন্দ্র বললেন তিনি ঋষির ক্রীতদাস হতে
পারবেন | এই ভিন্ন আর কিছু দেওয়ার নেই | তখন প্রভু বিশ্বামিত্র ক্রীতদাস
হরিশ্চন্দ্রকে এক চণ্ডালের কাছে বিক্রয় করে বেশ কিছু স্বর্ণমুদ্রা লাভ
করলেন |
রাজা থেকে ক্রীতদাস হওয়া হরিশ্চন্দ্র চণ্ডালের নির্দেশে
নিযুক্ত হলেন শ্মশানে | নিকৃষ্ট কদর্য উপায়ে সম্পন্ন হতো তাঁর
ক্ষুন্নিবৃত্তি | একদিন রাতে ঘুম ভেঙে গেল তাঁর | দেখলেন পায়ের কাছে বসে
কাঁদছেন স্ত্রী শৈব্যা | তাঁর কোলে মৃত পুত্র | সর্পাঘাতে মারা গিয়েছে সে |
দেখে শোকে উন্মদ হয়ে গেলেন রাজা | ভাবলেন আত্মহত্যা করবেন | কিন্তু ঋণ শোধ
না করলে তো পরজন্মেও সেই বোঝা বহন করতে হবে |
তাই নিবৃত্ত হলেন সে
চিন্তা থেকে | এমনকী স্ত্রীকে বললেন যতক্ষণ না তিনি ঋণমুক্ত হচ্ছেন ততক্ষণ
পুত্রের অন্ত্যেষ্টি করবেন না | কারণ তাকেও পরজন্মে পাপের ভাগীদার হতে হবে
|
সেই মুহূর্তে স্বর্গ থেকে আবির্ভূত হলেন দেবতারা | উপস্থিত হলেন
ঋষি বিশ্বামিত্র | রাজা হরিশ্চন্দ্র জ্ঞাত হলেন এ সবই ছিল তাঁর উপর
পরীক্ষা | তাতে তিনি সসম্মানে উত্তীর্ণ | অতএব স্বর্গবাসে আর বাধা নেই |
সেই চণ্ডাল যাঁর নিকট ক্রীতদাস হয়ে ছিলেন রাজা, তিনি প্রকাশ করলেন নিজ
পরিচয় | তিনি ছিলেন ধর্মরাজ | যাই হোক, সস্ত্রীক স্বর্গারোহণ করলেন রাজা
হরিশ্চন্দ্র | জীবন ফিরে পেল তাঁর পুত্র রোহিতাশ্ব |
রাজা
হরিশ্চন্দ্রের কুলগুরু ঋষি বশিষ্ঠ দীর্ঘ দ্বাদশ বত্সর তপস্যারত ছিলেন |
তিনি সব জানতে পেরে রুষ্ট হলেন বিশ্বামিত্রর উপরে | দুজনে আরও একবার
দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছিলেন | বিরত করলেন ব্রহ্মা | প্রজাপতি ব্রহ্মা
বললেন এই অগ্নিপরীক্ষায় রাজা হরিশ্চন্দ্রের কোনও ক্ষতি হয়নি | বরং তিনি
স্বর্গারোহণ করতে পেরেছেন |
স্বর্গের মাহাত্ম্য মহিমান্বিত করতে
এভাবেই ইহজীবনকে তুচ্ছ করে দেখানো হতো হিন্দু পুরাণে | এই উদাহরণ আছে
অন্যত্রও | তবে সেই ধারায় সর্বোত্কৃষ্ট যে রাজা হরিশ্চন্দ্রের জীবনকাহিনী
তাতে সন্দেহ নেই |
বিদর্ভরাজ ভীমের কোন সন্তান হচ্ছিলো না। এই নিয়ে বিদর্ভরাজের মনে খুব দুঃখ
ছিলো। একদিন তার কাছে এক ঋষি আসলেন। নাম দমন। ভীম ও তার স্ত্রী দমন ঋষিকে
খুব সেবা যত্ন করলেন। ঋষি খুশি হয়ে বর দিলেন, ভীমের এমন রূপবতী এক কন্যা
হবে, যাকে পাওয়ার জন্য দেবতারাও কামনা করবে। হলোও তাই। দময়ন্তী নামে এক
কন্যা হলো। অপরূপ রূপবতী সে কন্যা। আর জন্ম নিলো তিন পুত্র দম, দন্ত ও দমন।
যাইহোক, দময়ন্তী যখন যুবতী, তখন তার রূপের প্রশংসা সারা ভারত বর্ষে ছড়িয়ে
পড়লো। এমনকি দেবতারাও দময়ন্তীর রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়ে থাকলেন।
নিষধরাজ বীরসেনের ছিলো গুণবান ও সুদর্শন এক পুত্র। নাম তার নল। তার বীরত্ব ও
সৌন্দর্যের প্রশংসা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। লোকমুখে দময়ন্তীর রূপ ও গুণের কথা
শুনে নল তাকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলে। আবার অপর দিকে দময়ন্তীও নলের প্রশংসা
শুনে মনে মনে তাকে ভালোবেসে ফেলে। দুইজন দুইজনকে না দেখেই শুধু পরস্পরের
সম্পর্কে লোকমুখে শুনে গভীর প্রেমে পতিত হয়।
একদিন উদ্যানে নল এক সোনা রঙের রাজহাঁস দেখতে পেয়ে তাকে বন্দী করে। হাঁস
মুক্তি পাওয়ার জন্য বলে যে, তাকে যদি ছেড়ে দেয়া হয় তবে সে দময়ন্তীর কাছে
গিয়ে নলের মনের কথা খুলে বলবে। নল তাতে রাজী হয়। সে হাঁসটিকে ছেড়ে দেয়।
হাঁস দময়ন্তীর কাছে গিয়ে নলের মনের কথা সমস্তই খুলে বলে। দময়ন্তী সব শুনে
নিজের মনের কথাও হাঁসকে বলে দেয়। এ ভাবে হাঁসকে দূত করে তাদের প্রেম চলতে
থাকে।
এর কিছুদিন পর, বিদর্ভরাজ দময়ন্তীর বিবাহের জন্য এক বিরাট স্বয়ংবর সভার
আয়োজন করেন। বিভিন্ন দেশের রাজা ও রাজকুমারগণ সেই সভায় উপস্থিত হন। শুধু
কি তাই? দেবরাজ ইন্দ্র এবং অন্যান্য দেবতারাও দময়ন্তীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট
হয়ে স্বয়ংবর সভায় উপস্থিত হন। নলও এই সভায় যোগদানের জন্য রওনা দেন। পথে
নলের সাথে ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ ও যমের সাক্ষাৎ হয়। দেবতারা নলের সৌন্দর্য দেখে ভাবেন, এ থাকলে তাঁদেরকে দময়ন্তী
পাত্তাই দিবে না। তাই দেবতারা যুক্তি করে নলকে তাঁদের দূত হতে অনুরোধ
করেন। কিন্তু নল প্রথমে তা করতে অস্বীকার করে। বলে, যেহেতু আমি নিজেই
স্বয়ংবর প্রার্থী, আমা দ্বারা এই কাজ করা অনুচিত। কিন্তু দেবতারা তাকে
বাধ্য করে দূত হতে। দেবতাদের বরে অদৃশ্য হয়ে নল দময়ন্তীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে
দেবতাদের মনের কথা খুলে বলেন। কিন্তু দময়ন্তী দেবতাদের প্রত্যাখ্যান করে
নলকেই স্বামী হিসাবে পাওয়ার কথা জানান... তারপর... ।